kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ জানুয়ারি ২০২০। ৯ মাঘ ১৪২৬। ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১          

ঝুঁকি থেকেই আসে বড় পুরস্কার

বাণিজ্য ডেস্ক   

৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঝুঁকি থেকেই আসে বড় পুরস্কার

টাটা সন্সের চেয়ারম্যান ইমেরিটাস রতন টাটা

ভারতের অন্যতম সফল শিল্পপতি, বিনিয়োগকারী ও মানবহিতৈষী রতন টাটা। তিনি টাটা গ্রুপের সাবেক চেয়ারম্যান, বর্তমানে টাটা গ্রুপের হোল্ডিং কম্পানি টাটা সন্সের চেয়ারম্যান ইমেরিটাস।

ব্যর্থ হলে মানুষ বলে যদি আরেকবার কাজটি করার সুযোগ পেতাম। কিন্তু রতন টাটা পেছনে ফিরে তাকাতে রাজি নয়। তিনি বলেন, মানুষ ঝুঁকি নেয়, তার অর্থ এই নয় যে সব সময় তা থেকে সাফল্য আসবে, বরং ঝুঁকি নেওয়ার জন্য কখনো দুঃখও পেতে হয়। কিন্তু আমরা বেশির ভাগ সময় বড় পুরস্কারগুলো ঝুঁকি নেওয়ার মধ্য দিয়েই পেয়ে থাকি।

কোনো কাজে সাফল্য পেতে টিমওয়ার্ক অত্যন্ত গরুত্বপূর্ণ। রতন টাটার মতে, যদি তুমি দ্রুত হাঁটতে চাও তবে একাকী হাঁট, আর যদি অনেক দূর যেতে চাও তবে অন্যদের সঙ্গে নাও। উদ্যোক্তাদের অনেক সিদ্ধান্ত তার কম্পানি গড়ার বা ভাঙার কারণ হতে পারে। ফলে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এ নিয়ে লড়াই করে যেতে হয়। রতন টাটা বলেন, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমি এমনটায় বিশ্বাসী নই। আমি প্রথমে সিদ্ধান্ত নিই, তারপর সেটিকে সঠিক পথে পরিচালিত করি।

সাফল্য কিংবা ব্যর্থতা মানুষের জীবনেরই অংশ। একবার, দুবার বা অনেকবার ব্যর্থার পরও মানুষ তার মনোবল দিয়ে সাফল্যের পথ খুঁজে নেয়। কিংবদন্তি এ উদ্যোক্তার মতে, জীবনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে উত্থান-পতন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি সোজা রেখা এমনকি ইসিজিতেও এর অর্থ দাঁড়ায় আমরা জীবিত নই।

একজন উদ্যোক্তার সাফল্যের পেছনে তার দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দৃষ্টিভঙ্গি মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারে আবার ধ্বংসও করে দিতে পারে। রতন টাটা বলেন, একজন মানুষের ভাগ্য অন্য কেউ ধ্বংস করে দিতে পারে না, কিন্তু তার মানসিকতা তাকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যেতে পারে। সুতরাং একজন উদ্যোক্তাকে আগে তার মাইন্ডসেট ঠিক করতে হবে।

ইন্ডিয়ান স্কুল অব বিজনেসের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, অনেক সময় তোমরা শুনে থাক ‘এ কাজটি সম্ভব নয়, এটা খুবই কঠিন কাজ’। আমি বলব, শিক্ষার্থীরা যখন তাদের কলেজ ত্যাগ করে তাদের অবশ্যই ‘সম্ভব নয়’-এর মিথ ভাঙতে হবে। দেশে অনেক কিছুই হতে পারে; কিন্তু যেসব মানুষ এমন সম্ভব নয় জাতীয় মানসিকতা ধারণ করে, তারা আসলেই কিছু করতে পারে না।

রতন টাটা স্থাপত্যবিদ্যার ওপর কর্নেল ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল থেকে অ্যাডভান্সড ম্যানেজমেন্ট কোর্স করেন। তারপর আইবিএমে চাকরির অফার পেলেও তাতে যোগ না দিয়ে পারিবারিক ব্যবসায় যুক্ত হন। ১৯৬১ সালে তিনি টাটা স্টিলে কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর ১৯৯১ সালে টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান হন, ২০১২ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময় আবারও ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্তর্বতী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯১ সাল থেকে রতন টাটার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বের ২১ বছরে টাটা গ্রুপের রাজস্ব বাড়ে ৪০ গুণ এবং মুনাফা বাড়ে ৫০ গুণ। তিনিই টাটাকে একটি স্থানীয় কম্পানি থেকে বহুজাতিক ব্যবসায় রূপান্তর করেন।

রতন নাভাল টাটার জন্ম ১৯৩৭ সালে। দেশের অর্থনীতিতে অসামান্য অবদান রাখায় তিনি ভারতের দুটি সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক অর্জন করেন। ২০০০ সালে পদ্ম ভূষণ এবং ২০০৮ সালে পান পদ্ম বিভূষণ। টাইমস নাউ, ইন্ডিয়া টুডে, উইকিপিডিয়া।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা