kalerkantho

রবিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৮ নভেম্বর ২০২১। ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

যশোরের কীটনাশকমুক্ত পটোল যাচ্ছে ইউরোপ

ইতালি, ফ্রান্স ও জার্মানিতে ২১ টন রপ্তানি করা হয়েছে

ফখরে আলম, যশোর   

২১ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



যশোরের কীটনাশকমুক্ত পটোল যাচ্ছে ইউরোপ

সবজি ভাণ্ডারখ্যাত যশোর থেকে এবার বিষমুক্ত পটোল রপ্তানি করা হচ্ছে বিদেশে। চলতি মৌসুমে ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানিতে ২১ টন পটোল রপ্তানি করা হয়েছে। এর ফলে কৃষকরা ন্যায্য দাম পাচ্ছে। অন্যদিকে সবজি রপ্তানির বড় একটি বাজার তৈরি হয়েছে। উন্নয়ন সংস্থা জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন তাদের সফল প্রকল্পের মাধ্যমে নেদারল্যান্ডস দূতাবাস ও সলিডারিডাড নেটওয়ার্কের সহায়তায় পটোলের পাশাপাশি অন্য সবজিও রপ্তানি করছে।

জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের সফল প্রকল্পের সমন্বয়কারী তৌহিদুল ইসলাম জানান, আমরা কৃষি বিভাগের সহায়তায় কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বিষমুক্ত পটোল উৎপাদন করছি। এ ক্ষেত্রে কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের বদলে কেঁচো সার ও ফেরোমেন ট্র্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে। যশোর সদর উপজেলার সাতমাইল, চুড়ামনকাটি এলাকা ছাড়াও মণিরামপুর উপজেলার শাহপুর ও পলাশী এলাকার কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এরপর আমরা রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কৃষকদের যোগাযোগ করিয়ে দিচ্ছি। আমাদের সংগঠনের কৃষকদের উৎপাদিত পটোল রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান বাজারের চেয়ে বেশি দামেই ক্রয় করছেন। এবার ইসলাম গ্রুপের ইসলাম ট্রেডার্স ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকা দামে পটোল কিনে ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালিতে পাঠিয়েছে। বর্তমানে যশোরে পটোল বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি। সবজি চাষে যশোর উদ্বৃত্ত জেলা। এই জেলায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে পটোলসহ অন্যান্য সবজি চাষ হয়।

জানা যায়, গত বছর প্রচুর পরিমাণে বাঁধাকপি বিদেশে রপ্তানি করা হয়েছে। পটোল উৎপাদনের গ্রাম ভগলপুরের চাষি সামাউল হক, আকরামুল, শ্যামল কুমার, ইনামুল হক বলেন, ‘আমরা আগে রাসায়নিক সার, কীটনাশক ব্যবহার করে পটোল উৎপাদন করেছি। এখন জাগরণী চক্রের সহায়তায় আমরা কেঁচোসার ও ফেরোমেন ট্র্যাপ ব্যবহার করে বিষমুক্ত নিরাপদ পটোল উৎপাদন করছি। বাজার ছাড়া আমরা দামও বেশি পাচ্ছি। এ জন্য আমরা খুশি।’

জাগরণী চক্রের নির্বাহী পরিচালক আজাদুল কবির আরজু বলেন, ‘২০১৩ সাল থেকে যশোর ও নড়াইল জেলার ৩২ হাজার ৮২৫ জন কৃষককে নিয়ে নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সহায়তায় আমরা নিরাপদ খাদ্যপণ্য উৎপাদনে কাজ শুরু করি। কৃষকদের সংগঠিত করে তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ধাপে ধাপে আমরা নিরাপদ সবজি উৎপাদন করতে সফল হই। এর আগে বিদেশে বাঁধাকপি, লাউ রপ্তানি করা হয়েছে। এখন পটোল রপ্তানি করা হচ্ছে। আমাদের উৎপাদিত পটোলের বিদেশিরা প্রশংসা করছে।



সাতদিনের সেরা