kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

‘সহজ শর্তের ঋণ পাচ্ছেন না নারী উদ্যোক্তারা’

বাণিজ্য ডেস্ক   

৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশে নারী উদ্যোক্তা বিকাশে আগামী বাজেটে আট দফা দাবি বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে নারী উদ্যোক্তাদের সংগঠন উইমেন এন্টারপ্রেনারস নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (ওয়েন্ড)। এগুলো হলো সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান, ভ্যাটের হার হ্র্রাস, করহার হ্রাস, শুল্কহার হ্রাস, ট্রেনিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা, প্রতি বিভাগে সাপোর্ট সার্ভিস সেন্টার প্রতিষ্ঠা, আন্ত জেলা ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মেলায় নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে সহায়ক নীতি প্রণয়ন, বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন (বেজা) ও ইপিজেডে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে শিল্প স্থাপনে প্লটসহ সুযোগ সৃষ্টি।

গতকাল শনিবার রাজধানীর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের প্রেসিডেন্ট ড. নাদিয়া বিনতে আমিন।

তিনি বলেন, ‘সরকার নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ও কম সুদে ঋণ প্রদানের নীতিমালা প্রণয়ন করলেও নারী উদ্যোক্তারা এই সুবিধা পাচ্ছেন না। ব্যাংকঋণের ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত জটিলতা, নানাবিধ শর্তের বেড়াজাল এবং উচ্চ সুদের কারণে প্রতিনিয়ত পুঁজি সংগ্রহে হিমশিম খাচ্ছেন। এ বিষয়ে বিদ্যমান সরকারের নীতিমালা আরো সহজীকরণের মাধ্যমে তার কার্যকর বাস্তবায়ন দেখতে চান নারী উদ্যোক্তারা।’

এ ছাড়া স্বল্প সুদে অবাধ পুঁজির প্রবাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের প্রধানতম সংকট নিরসনের জোর দাবি জানান তিনি। নারী উদ্যোক্তা দ্বারা পরিচালিত বছরে ৫০ লাখ টাকা টার্নওভার রয়েছে, এমন প্রতিষ্ঠানের শূন্য হারে ভ্যাট অব্যাহতির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের নারী উদ্যোক্তাদের সিংহভাগই ক্ষুদ্র ও মাঝারি মানের। ফলে উচ্চ হারে ভ্যাট আরোপ করা হলে তাঁরা প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে পারবেন না। তিনি নতুন ভ্যাট আইনে তিনটি স্তরে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ হার নির্ধারণের সুপারিশ করেন। এ ছাড়া আয়করের ক্ষেত্রে নারীদের জন্য বর্তমানে প্রচলিত করমুক্ত আয়সীমা তিন লাখ টাকার পরিবর্তে পাঁচ লাখে উন্নীত করার দাবি জানান।

তিনি করপোরেট করহার সব পর্যায় থেকে আগামী তিন অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে ৫, ৭ ও ১০ শতাংশে কমানোর প্রস্তাব দিয়ে বলেন, করপোরেট কর কমিয়ে এই অর্থ দক্ষতা উন্নয়ন, অবকাঠামো এবং গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা প্রয়োজন। পেশাগত ও কারিগরি বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য একটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।

এ ছাড়া সরকারের বিভিন্ন ইকোনমিক জোন, বিসিক শিল্প নগরী, আইটি পার্ক ইত্যাদিতে নারী উদ্যাক্তাদের বিশেষ সুবিধায় প্লট বরাদ্দ করার দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি শামীমা লাইজু ও সহসভাপতি আয়শা সিদ্দিকা, কোষাধ্যক্ষ আনোয়ারা সিদ্দিকা, কো-কোষাধ্যক্ষ জর্জিনা আলম, সাধারণ সম্পাদক জিসান আক্তার চৌধুরী, সহসাধারণ সম্পাদক নাদিরা ইয়াসমিনসহ সংগঠনের নির্বাহী পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা