kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বাংলাদেশে উপস্থিতি বাড়াবে মাহিন্দ্রা

মাহিন্দ্রাকে স্থানীয় ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলতে চাই : অরবিন্দ ম্যাথিউ

বাণিজ্য ডেস্ক   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাংলাদেশে উপস্থিতি বাড়াবে মাহিন্দ্রা

বাংলাদেশের জন্য অটোমোটিভ খাতে মাহিন্দ্রা তাদের মূল পণ্যগুলোর জন্য দুটি মুখ্য সিকেডি প্লান্ট চালু করেছে। আগামী বছরগুলোতে স্থানীয় উৎপাদন আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এটি সময় বাঁচিয়ে পণ্যের মান বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে এমনটাই দাবি মাহিন্দ্রার। ২০.৭ বিলিয়ন ডলারের মাহিন্দ্রা গ্রুপের অন্যতম একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা লিমিটেড তাদের গ্লোবাল ফুটপ্রিন্ট বিস্তৃত করতে নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। মাহিন্দ্রার সাম্প্রতিক অগ্রগতির কৌশলে বাংলাদেশকে প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর অন্যতম একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

প্রতিষ্ঠানটির চিফ অব ইন্টারন্যাশনাল অপারেশন্স, অরবিন্দ ম্যাথিউর উদ্ধৃতি দিয়ে মাহিন্দ্রার ঢাকা কার্যালয় জানায়, ‘বিগত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আমাদের পণ্যগুলো নিয়মিত বাংলাদেশি গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করে আসছে। আর এটি আমাদের বাংলাদেশে বাণিজ্যিক বাহন এবং ট্রাক্টর সেগমেন্টের শীর্ষ ব্র্যান্ড হয়ে উঠতে সহযোগিতা করেছে। সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা আমাদের কার্যক্রম আরো বিস্তৃত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

বাংলাদেশে মাহিন্দ্রাকে স্থানীয় ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে ২০১৭ সালেই ঢাকায় মাহিন্দ্রার কান্ট্রি অফিস প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং এই অফিস পুরোদমে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। মাহিন্দ্রা সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় আলোচনা ও উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশে মাহিন্দ্রার উপস্থিতি বাড়াতে স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মাহিন্দ্রার পথচলা শুরু হয়েছে ১৯৪৫ সাল থেকে। গ্লোবাল ফুটপ্রিন্ট প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কম্পানির বিভিন্ন ব্যবসা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ১১টি বিভিন্ন সেক্টরজুড়ে ভারতের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড হিসেবে আজ বিশ্বব্যাপী ৫৫টি উৎপাদন সুবিধাসংবলিত ১০০টিরও বেশি দেশজুড়ে এটি বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে কম্পানিটি ভারতের বৃহত্তম ইউভি প্রস্তুতকারক, ভারতীয় সড়কগুলোর ইভিএস স্থাপনে নিযুক্ত বৃহত্তম প্রতিষ্ঠান এবং ভলিউম অনুসারে এটি বিশ্বের বৃহত্তম ট্রাক্টর কম্পানি। মাহিন্দ্রা দীর্ঘ সময়ের এই পথচলায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি)। পণ্যের ত্রুটি নির্ণয় ও মানোন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছে মাহিন্দ্রা রিসার্চ ভ্যালি (এমআরভি)। একটি পণ্য চূড়ান্ত ত্রুটিমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয় এই ভ্যালিতে।

পোর্টফোলিও আরো সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে বাংলাদেশে অনেক পণ্য ধারাবাহিকভাবে নিয়ে আসার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হলো ব্যক্তিগত বাহন মারাজ্জো, যা পারিবারিক ভ্রমণ বা যাতায়াতের জন্য আরামদায়ক এবং নিরাপদ ড্রাইভিং নিশ্চিত করবে। এ ছাড়া আইসিভি সেগমেন্টে ফুরিও, তিন চাকার বাহন ক্যাটাগরিতে ট্রিও, জেনসেট ক্যাটাগরিতে ৫কেভিএ-২৫০/৩২০ কেভিএ নিয়ে আসা এবং ট্রাক্টর সেগমেন্ট বাড়ানো ইত্যাদিও বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানানো হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে মাহিন্দ্রা ৫০,০০০ এরও বেশি গ্রাহক ও অংশীদারের একটি পরিবার। এক টন পিক-আপ ট্রাক এবং ডিজেল জেনারেটর সেক্টরে মাহিন্দ্রাই বাজারের শীর্ষ।

অরবিন্দ ম্যাথিউ বলেন, ‘বাংলাদেশ আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বাজার এবং গত তিন বছরে শীর্ষস্থানীয় তিনটি রপ্তানি গন্তব্যগুলোর মধ্যে একটি। আমরা আমাদের গ্লোবাল কার্যক্রম সচল রাখতে মাহিন্দ্রাকে বাংলাদেশে স্থানীয় ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। কেননা আমরা যেসব দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকি, সেখানে আমাদের ব্র্যান্ডকে স্থানীয়করণে বিশ্বাস করি। এই লক্ষ্যে এক বছর ধরে আমাদের স্থানীয় অফিস ঢাকায় কাজ চলছে।’

তিনি আরো বলেন, “বাংলাদেশের জন্য অটোমোটিভ খাতে আমাদের মূল পণ্যগুলোর জন্য আমরা সম্প্রতি দুটি মুখ্য সিকেডি প্লান্ট নিয়ে এসেছি এবং আগামী বছরগুলোতে আরো নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি আমাদের সময় বাঁচিয়ে মান বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে মাহিন্দ্রা টিমের স্থানীয় মেধাবীদের বিকাশের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে। আমরা আমাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর মাশরাফি বিন মর্তুজাকে সঙ্গে নিয়ে সম্প্রতি ‘চলো রে’ ক্যাম্পেইন শুরু করেছি এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশে আমরা গত বছর ব্র্যান্ড সম্প্রসারণে ব্যাপক বিনিয়োগও করেছি।”

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা