kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

উদ্যোক্তা

১০০ কোটি ডলারের ফ্যাশন স্টার্টআপ গড়লেন অংকিতি

বাণিজ্য ডেস্ক   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১০০ কোটি ডলারের ফ্যাশন স্টার্টআপ গড়লেন অংকিতি

অংকিতি বোস, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ঝিলিংগো

পাঁচ বছর আগের কথা। ভারতের বেঙ্গালুরুতে একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠানে অংকিতি বোস প্রতিবেশী ধ্রুব কাপুরের সঙ্গে একটি ফ্যাশন প্ল্যাটফর্ম নিয়ে আলোচনা করছিলেন। কথাবার্তায় দুজন বুঝতে পারেন তাঁদের চিন্তা এক, একটি স্টার্টআপ গড়ে তোলার দক্ষতাও রয়েছে। ফলে তাঁরা আর দেরি করেননি। চার মাস পরই দুজনে চাকরি ছেড়ে দেন এবং নিজেদের জমানো অর্থ থেকে দুজনেই ৩০ হাজার ডলার করে দিয়ে গড়ে তোলেন ফ্যাশন প্ল্যাটফর্ম ঝিলিংগো।

২০১৪ সালে গড়ে তোলা সেই ঝিলিংগো বর্তমানে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের স্টার্টআপ। সে সময়ে ২৪ বছর বয়সী ধ্রুব কাপুর একটি প্রতিষ্ঠানে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করছিলেন। তিনি নতুন কম্পানির প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তার দায়িত্ব নেন। আর ২৩ বছর বয়সী অংকিতি বোস হন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। এটি এখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি বৃহৎ অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। যার মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা তাঁদের পণ্য বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন, ব্যবসা সম্প্রসারণ করছেন।

গত সপ্তাহে সিঙ্গাপুরভিত্তিক কম্পানিটিতে ২২ কোটি ৬০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেছে সেকুয়া ক্যাপিটাল এবং টেমাসেক হোল্ডিংস। ফলে কম্পানির মূলধন বেড়ে ৯৭ কোটি ডলারে পরিণত হয়েছে। এশিয়ার অন্যতম তরুণ সিইও হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন অংকিতি বোস, যিনি ১০০ কোটি ডলারের একটি স্টার্টআপ গড়ে তুলেছেন। বিশ্বে এত বড় অঙ্কের স্টার্টআপের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে নারী উদ্যোক্তা খুব কমই আছে। গত মে মাসে দেওয়া পিচবুকের তথ্য অনুযায়ী বিশ্বে ভেঞ্চোর ক্যাপিটাল-সহায়ক ১০০ কোটি ডলারের স্টার্টআপের সংখ্যা ২৩৯টি। এর মধ্যে মাত্র ২৩টির প্রতিষ্ঠাতা নারী। বোস বলেন, ‘আমাদের বয়স ২০ বছর থেকে কিছুটা বেশি ছিল, মনে একটি স্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই ছিল না, সেই স্বপ্নের পেছনে ছুটলাম।’

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বর্তমানে স্মার্টফোনের দ্রুত বিস্তার সম্ভাবনা তৈরি করেছে ই-কমার্সের। ২০১৮ সালে এ অঞ্চলের অনলাইন বেচাকেনা দাঁড়ায় দুই হাজার ৩০০ কোটি ডলার। আগামী ২০২৫ সাল নাগাদ এ বাজার ১০ হাজার কোটি ডলার অতিক্রম করবে। অংকিতি বোস তাঁদের একজন যিনি এ সম্ভাবনা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ক্রেতাদের দোরগোড়ায় নিয়ে এসেছেন। ২০১৭ সালের ৩১ মার্চ শেষ হওয়া অর্থবছরে ঝিলিংগোর রাজস্ব এসেছে ১৩ লাখ ডলার। ২০১৮ সালের মার্চে শেষ হওয়া বর্ষে সেই রাজস্ব বেড়েছে ১২ গুণ।

দ্রুত জনপ্রিয় হওয়া এ প্ল্যাটফর্মে যোগ দেন কয়েক হাজার ক্ষুদ্র বিক্রেতা, আর লাখ লাখ ক্রেতা। ফলে কম্পানির ব্যবসার আওতা বাড়ানো, অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন জরুরি হয়ে পড়ে। এতে বাংলাদেশ থেকে শুরু করে ভিয়েতনামের উদ্যোক্তারা যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান। শুরু হয় আন্ত সীমান্ত বাণিজ্য। এ ছাড়া ২০১৮ সাল থেকে ঝিলিংগো অর্থায়ন কম্পানিগুলোর সঙ্গেও কথা বলা শুরু করে। যাতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ক্রয়ে অর্থায়ন করা যায়। বর্তমানে আটটি দেশে কম্পানির অফিস আছে এবং রয়েছে ৪০০ কর্মী। ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড এবং ফিলিপাইনে ফ্যাশন ই-কমার্স সাইট চালুর পাশাপাশি এখন অস্ট্রেলিয়ায় চালুর অপেক্ষায় রয়েছে।

অংকিতি বোস বলেন, ‘আমি সব কিছু শিখতে চেয়েছি। এমনকি আগের কম্পানিতে কাজ করতে করতে কোনোদিন দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টাও চেয়ারে বসে ছিলাম। কারণ আমি তাতে মজা পেয়েছিলাম। ইকোনমিক টাইমস।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা