kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

চতুর্থ সানেম অর্থনীতিবিদ সম্মেলনে বক্তারা

বৈষম্য বাড়লে প্রবৃদ্ধি টেকসই হয় না

বাংলাদেশে ভোগব্যয়ের ক্ষেত্রে বৈষম্য বিশ্ব পর্যায়ে বৈষম্যের চেয়ে ১২-১৬% বেশি

বাণিজ্য ডেস্ক   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বৈষম্য বাড়লে প্রবৃদ্ধি টেকসই হয় না

দক্ষিণ এশিয়া ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও সমানতালে বাড়ছে বৈষম্য। অথচ বৈষম্য বাড়তে থাকলে প্রবৃদ্ধি টেকসই হবে না। এ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা এখনো গড়ে ওঠেনি। এ অবস্থায় সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। গতকাল শনিবার চতুর্থ সানেম বার্ষিক অর্থনীতিবিদ সম্মেলনের প্রথম দিন এসব কথা বলেন বক্তারা।

সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) চেয়ারম্যান ড. বজলুল হক খন্দকারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান। সেশনে দুটি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউএনএস্কাপ-এসএসডাব্লিউএ-এর নয়াদিল্লি শাখার ডিরেক্টর ডক্টর নাগেশ কুমার এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের রিসার্চ ডিরেক্টর ডক্টর বিনায়ক সেন।

পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, তিনি বাংলাদেশের খেটে খাওয়া মানুষের একজন প্রতিনিধি। তাদের দাবি খুবই সামান্য। তারা অন্ন, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষার অধিকার চায়। সেই লক্ষ্যে সরকার বিদ্যালয় স্থাপন করেছে, বিনা মূল্যে বই বিতরণ করছে। নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও দেশের ৯২-৯৩% এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম হয়েছে সরকার। দারিদ্র্য এবং প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্য সরকার সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্পের ব্যবস্থা করেছে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি মোটেই চাকরিবিহীন নয়। দেশের জনগণ কাজ করছে এবং তার ফল হিসেবেই দেশের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি ঘটছে।

নাগেশ কুমার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতাগুলো তুলে ধরে বলেন, এসডিজি ১৭-এর মূল প্রতিপাদ্য হলো দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা। তবে বিশ্বে সংরক্ষণবাদ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠায় সহযোগিতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক সংকট মুখ্য ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি মনে করেন।

বিনায়ক সেন বাংলাদেশ এবং বিশ্বের ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের কথা তুলে ধরে বলেন, ২০০০ সাল থেকে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য হ্রাস দুটোই সমানতালে হচ্ছে। কিন্তু একই সময় বৈষম্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশে ভোগব্যয়ের ক্ষেত্রে বৈষম্য বিশ্ব পর্যায়ে বৈষম্যের থেকে ১২-১৬ শতাংশ বেশি।

বজলুল হক খন্দকার বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার বিদ্যমান ক্ষেত্রগুলো থেকেই কর সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এ জন্য কর সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে সরকারের কর্মতৎপরতা আরো বাড়াতে হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে আয়োজকরা অতিথিদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। এরপর একই সময় তিনটি ব্রেকআউট সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে একটি ব্রেকআউট সেশন ছিল ‘বাণিজ্য এবং উন্নয়ন’-এর ওপর। এই সেশনে সভাপতিত্ব করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম ফর ডেভেলপিং কান্ট্রিসের (আরআইএস) প্রফেসর ডক্টর প্রবীর দে। এ সেশনে উপস্থাপিত গবেষণা প্রবন্ধগুলো নিয়ে আলোচনা করেন বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ডক্টর নাজনীন আহমেদ। মধ্যাহ্ন বিরতির পরে সানেম এসডিজি সেন্টারের আয়োজনে ‘গভর্নিং নিউ চ্যালেঞ্জেস : ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট, ট্রেড অ্যান্ড ফিন্যান্স—এ সাউথ এশিয়ান পারস্পেক্টিভ’ শিরোনামে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এই আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন ডক্টর নাগেশ কুমার এবং প্রধান অতিথি ছিলেন সিপিডির চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান। সেশনটিতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সানেমের নির্বাহী পরিচালক ডক্টর সেলিম রায়হান। সেলিম রায়হান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় পারস্পরিক সহযোগিতা গড়ে ওঠেনি। ভারত ও পাকিস্তান একে অপরকে ডাব্লিউটিওর নিয়ম মোতাবেক এমএফএন স্ট্যাটাস পর্যন্ত দেয়নি। বিশ্বের এই অংশে ট্যাক্স-জিডিপির হার আশঙ্কাজনকভাবে কম, সেই বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন। এ অবস্থায় সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

সিপিডির সম্মানিত ফেলো ডক্টর মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার তিনটি স্তম্ভ রয়েছে—অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই পরিবেশ নিশ্চিতকরণ। তিনি বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়ন দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের পূর্বশর্ত। অধ্যাপক রেহমান সোবহানের বই ‘চ্যালেঞ্জিং ইনজাস্টিস ইন সাউথ এশিয়া’য় অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য তিনি সুশিক্ষা, চিকিৎসার সুব্যবস্থা প্রভৃতি বিষয়ের ওপর জোর দেন। রেহমান সোবহান বলেন, গবেষণা ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তনের প্রয়োজন। শুধু উপাত্ত বিশ্লেষণের দিকে জোর না দিয়ে বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত এবং তার ফলাফলের বিষয়ে গভীর গবেষণা করা বর্তমানে অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা