kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৪ রবিউস সানি     

নাটোরে চুক্তিভিত্তিক চাষাবাদ

টমেটোর ভালো দাম পাচ্ছে কৃষক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টমেটোর ভালো দাম পাচ্ছে কৃষক

উত্তম কৃষি পদ্ধতিতে টমেটো চাষ। ছবি : কালের কণ্ঠ

টমেটো প্রক্রিয়াজাত করে চাটনি, সস, স্যুপের মতো বিভিন্ন খাদ্য তৈরি করছে দেশের নামিদামি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এ কারণে টমেটোর বাড়তি চাহিদাও তৈরি হয়েছে। দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে এখন আর কৃষককে রাস্তায় টমেটো ফেলে দিতে হচ্ছে না। আবার চাহিদা থাকায় বাজারেই একটি প্রতিযোগিতামূলক দাম থাকছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো কৃষকদের সঙ্গে চুক্তি করে টমেটো নিচ্ছে ঠিকই তবে দামটা নির্ধারণ হচ্ছে স্থানীয় বাজারদরের ওপর। বাড়তি চাহিদার কারণে বাজারেও আর দাম একেবারে তলানিতে ঠেকছে না। ফলে সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কৃষক উভয়েই লাভবান হচ্ছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি রাজশাহীর নাটোর অঞ্চল ঘুরে এ চিত্র লক্ষ করা গেছে।

নাটোরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষক ও একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে কৃষকরা প্রচুর পরিমাণে টমেটোর চাষ করছে। কোনো কোনো কৃষক অনেকের কাছ থেকে জমি নিয়ে একসঙ্গে চাষ করছে। তবে টমেটো চাষ করলেও কৃষক দাম পাচ্ছে স্থানীয় বাজারের মূল্যেই। জানা গেছে, কৃষক যখন তার টমেটো সংগ্রহ করছে তখন তিন দিনের বাজারদরের তুলনা করে কম্পানিগুলোর কাছ থেকে দাম নিচ্ছে। নাটোরের বিভিন্ন অঞ্চলে এখন ২০-২৫ টাকা কেজি দরে টমেটোর চাষ হচ্ছে। আর কৃষকদের প্রতি কেজি টমেটো ফলাতে খরচ হচ্ছে পাঁচ টাকার কিছু বেশি। চুক্তিভিত্তিক চাষিদের ক্রেতা নির্ধারিত থাকায় টমেটো বিক্রি নিয়ে কোনো সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না। স্থানীয় মানুষের চাহিদা এবং শিল্পের চাহিদা মেটাতে টমেটোর এই সিজনে বাজারে দাম একেবারে তলানিতে চলে আসছে না; যে কারণে কৃষক ভালো দাম পাচ্ছে। কৃষকের জন্য আরো একটি বাড়তি পাওয়া রয়েছে। তারা যে কম্পানির সঙ্গে চুক্তিতে চাষাবাদ করছে, সে কম্পানির সহযোগিতায় আবার চাষাবাদের ওপর প্রশিক্ষণও পাচ্ছে।

নাটোরে কথা হয় এক কৃষকের সঙ্গে। মো. আমসের আলী নামের এই কৃষক কালের কণ্ঠকে বলেন. ‘এ বছর আমাদের প্রতি কেজি টমেটোর ফলনে খরচ পড়েছে পাঁচ টাকার কিছু বেশি। আমরা বিক্রি করতে পারছি ২০ টাকা কেজি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা যারা চুক্তিভিত্তিক চাষাবাদ করছি, তারা বীজ, প্রশিক্ষণসহ একটা ভালো দামের নিশ্চয়তা পাচ্ছি।’

নাটোরের আরো কয়েকজন কৃষক জানান, কয়েক বছর ধরেই তাঁরা চুক্তিভিত্তিক টমেটোর চাষ করে ভালো দাম পাচ্ছেন। বাজারের দামটা একেবারে তলানিতে ঠেকছে না। যে কারণে বাড়তি ফলনেও তাঁদের টমেটো নিয়ে রাস্তায় নামতে হচ্ছে না।

জানা গেছে, বাংলাদেশে শীতকাল টমেটো চাষের জন্য উপযুক্ত সময়।

আর এ সময়টায় নাটোরসহ রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, শরীয়তপুর ও কুমিল্লা জেলায় প্রাণ-এর চুক্তিভিত্তিক কৃষকরা টমেটো উৎপাদন করে থাকে। এ বছর প্রাণের আট হাজার চুক্তিভিত্তিক কৃষক প্রায় ২৫০ একর জমিতে টমেটো চাষ করেছে। এ বছর টমেটো সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা সাত হাজার টন। গত বছর প্রাণের পাঁচ হাজার চুক্তিভিত্তিক কৃষক প্রায় ২২০ একর জমিতে টমেটো চাষ করেছিল এবং টমেটো সংগ্রহের পরিমাণ ছিল ছয় হাজার ৫০০ টন।

প্রাণ অ্যাগ্রো লিমিটেডের নাটোরের জেনারেল ম্যানেজার মো. হজরত আলী বলেন. ‘আমরা একটি অটোমেটেড পদ্ধতিতে সসগুলো তৈরি করছি; যেখানে হাতের কোনো স্পর্শ নেই। তাই এটি অনেক বেশি স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মন্ন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা