kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বাণিজ্য মেলা

শেষ সময়ের বিকিকিনি

ফারজানা লাবনী   

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শেষ সময়ের বিকিকিনি

বাণিজ্য মেলায় পছন্দের গয়না দরদাম করছে তরুণীরা। ছবি : লুৎফর রহমান

শেষ সময়ে বেচাকেনায় ব্যস্ত ক্রেতা-বিক্রেতারা। অনেক বিক্রেতা দরদাম এড়িয়ে ন্যূনতম লাভ রেখেই পণ্য ছেড়ে দিচ্ছে। অনেকে স্টলে শেষ সময়ে বিক্রি বাড়াতে মূল্যছাড় দিচ্ছে। রুটি বানানোর যন্ত্র থেকে জুয়েলারি, প্রসাধনী, ঘড়ি, জুতা স্যান্ডেল, দেশি-বিদেশি পোশাক, বিছানার চাদর, মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল, ফ্রিজ, ওভেন, ওয়াশিং মেশিন, আসবাবপত্র, প্লাস্টিক পণ্য, খেলনা, হস্ত ও কুটিরশিল্প—সব কিছুতেই ছাড় রয়েছে। মজাদার সব খাবারও শেষ সময়ে কম দামে বিক্রি করছে। ক্রেতারা এসব সুবিধায় আগ্রহ নিয়ে পণ্য কিনছেও।

মেলার গেটে ছিল লম্বা লাইন। মেলা থেকে বের হয়ে অনেকে ভোগান্তিতে পড়ে। সিএনজি ভাড়া দ্বিগুণ দিয়েও অনেকে ফিরেছে। কেউ কেউ পরিবহন না পাওয়ায় দুই হাত বোঝাই পণ্য নিয়ে আধাঘণ্টা বা এক ঘণ্টাও দাঁড়িয়ে থাকে। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পাশে ৯ জানুয়ারি শুরু হওয়া মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা যায়।

কর্মব্যস্ততায় যারা ইচ্ছা থাকলেও এত দিন বাণিজ্য মেলায় আসতে পারেনি, এমন অনেকে গতকাল শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন থাকায় পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের নিয়েও এসেছিল। তাই অন্য দিনের চেয়ে গতকাল ভিড়টা একটু বেশিই ছিল। তবে ছুটির দিনে মেলা প্রাঙ্গণে আগতদের মধ্যে দর্শনার্থীর সংখ্যাও কম ছিল না।

মেলায় গৃহস্থালি, প্লাস্টিকের পণ্য, প্রসাধনী, জুয়েলারি বিক্রি বেশি হচ্ছে। সব বয়সীদের ভিড় থাকলেও পণ্য বেশি কিনছে নারীরা। বয়সে তরুণ-তরুণীরা কেনার চেয়ে স্টলে স্টলে ঘুরছে বেশি। তাদের অনেকে আবার মেলা প্রাঙ্গণে একটু খোলা জায়গায় দল বেঁধে আড্ডাও দিচ্ছে। অনেকে বন্ধু, প্রিয়জন বা পরিচিতজনদের নিয়ে খাওয়ার স্টলগুলোতে চা-ফুসকা, ফাস্ট ফুড বা অন্য কিছু খেতে খেতে গল্প করছে। তবে পিঠা ও আচারের স্টলগুলোতে ভিড় বেশি। এখানেও নারী ক্রেতা বেশি।

দেশি পণ্যের বিক্রি ভালো। তবে ভারত, ইরান ও থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করা পণ্যও কিনছে অনেকে। থাইল্যান্ডের প্যাভেলিয়নে এক দামে ক্লিপ, হেয়ার ব্যান্ড সাজানোর পণ্য রয়েছে। ভারতের স্টলগুলোতে বড়দের লং কামিজ পাওয়া যাচ্ছে এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা বা এর বেশি দামে। শীতের পোশাক ও শাল বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ২০০ থেকে এর বেশি দামে। কাশ্মীরি শালে রয়েছে রংবেরঙের কাজ। সুতার তৈরি পশমি শাল নারী ক্রেতারা কিনছে বেশি। ইরানি প্যাভেলিয়নে হাতের ব্রেসেলেট, আংটি, শালের চাহিদা বেশি দেখা গেল। অনেকে এখান থেকে থালাবাসন ও ফুলদানি কিনছে। মাঝারি মাপের ফুলদানির দাম এক হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা, বড় মাপের গুলো পাঁচ হাজার থেকে সাত হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।

মেলা প্রাঙ্গণে বিভিন্ন নামিদামি প্রতিষ্ঠানের স্টল থাকায় ক্রেতারা যাচাই-বাছাই করে কেনার সুযোগ পাচ্ছে। অফিস, ঘর ও গৃহস্থালির পণ্য বিক্রিতে আকতার ফার্নিচার ৫ থেকে ৩৫ শতাংশ, পারটেক্স ২০ শতাংশ, ডেল্টা ১০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় দিচ্ছে। অনেক ক্রেতা স্টলগুলোতে ডিজাইন পছন্দ করে অর্ডার দিচ্ছে। বাসায় আসবাবপত্র পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। আকতার ফার্নিচারের প্যাভেলিয়নে শোবার ঘরের খাট ও আলমারি কেনার পর ইউনুস মোল্লা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মেলায় ২০ শতাংশ ছাড় দিয়েছে। এ সুযোগে কিনে ফেললাম।’ মেলায় সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে প্লাস্টিকের পণ্য। চামচ, পানি খাওয়ার মগ, খাবার থালা, গামলা থেকে সব কিছুর বিক্রি ভালো। দাম ১০ টাকা থেকে শুরু। বেস্ট বাইয়ের স্টলে প্লাস্টিকের থালা-চামচ-গামলা কিনে গৃহিণী সুফিয়া রহমান বলেন, ‘মেলায় মূল্যছাড় থাকে। তাই এখানে দাম কিছুটা কমে কেনা যায়।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা