kalerkantho

সোমবার । ২১ অক্টোবর ২০১৯। ৫ কাতির্ক ১৪২৬। ২১ সফর ১৪৪১       

উদ্যোক্তা

‘সাফল্যের জন্য চাই আইডিয়া ও আগ্রহ’

বাণিজ্য ডেস্ক   

২৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘সাফল্যের জন্য চাই আইডিয়া ও আগ্রহ’

স্টেভ বলমার, সাবেক সিইও, মাইক্রোসফট

২০১৮ সালে যাঁরা ব্যাবসায়িক সাফল্য পেয়েছেন তাঁদের অন্যতম মাইক্রোসফটের শেয়ারহোল্ডার ও সাবেক সিইও স্টেভ বলমার। গত বছর আমেরিকান এ ব্যবসায়ীর সম্পদ ৩.৪ বিলিয়ন ডলার বেড়ে হয়েছে ৪০.৭ বিলিয়ন ডলার। তিনি বিশ্বের ১৮তম ধনী। ক্লাউড সেবায় সাফল্যের পথ ধরে রাজস্ব বেড়েছে মাইক্রোসফটের। কম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে ২০ শতাংশ। এতে ব্যাপকভাবে লাভবান হয়েছেন বলমার।

এ সফল উদ্যোক্তার জন্ম ১৯৫৬ সালে। ১৯৮০ সালে তিনি স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে এমবিএ সম্পন্ন না করেই বন্ধু বিল গেটসের ডাকে সাড়া দিয়ে মাইক্রোসফটে যোগ দেন। একসময় প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হন। তিনি ২০০০ সাল থেকে ২০১৪ পর্যন্ত মাইক্রোসফটের সিইও ছিলেন। বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেস ক্রিপার্সের মালিক।

তরুণদের উদ্দেশে এক আলোচনায় তিনি বলেন, আমি তরুণদের তিনটি জিনিস ধারণ করতে বলব। সময়ের বিবেচনায় এ তিনটি জিনিসই আমাকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছে। এর কল্যাণেই আমি মাইক্রোসফটে এসেছি এবং তথ্য-প্রযুক্তি শিল্পে সময় ব্যয় করেছি। বিষয়গুলো হচ্ছে—সুন্দর একটি আইডিয়া, গভীর আগ্রহ এবং নাছোড়বান্দা বা অদম্য হওয়া। এ তিনটি জিনিস লালন করো, এগুলো তোমাকে জীবনে এগিয়ে নেবে। তোমার দীর্ঘ পথের যাত্রায় এগুলোই হবে বিশ্বস্ত সঙ্গী। মাইক্রোসফট একটি দারুণ আইডিয়ার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। যে আইডিয়া ছিল বিল গেটস ও পল অ্যালেনের, যা আর অন্য কেউ চিন্তা করেনি। মাইক্রোপ্রসেসর হচ্ছে মুক্তবুদ্ধিমত্তার প্রকাশ। এ চমৎকার সফটওয়্যারটি এখন প্রতিটি ঘরে ঘরে কম্পিউটারে। আমরা বলতে পারি প্রতিটি পকেট, টিভি সেট এবং সব কিছুতে এ সফটওয়্যার।

দ্বিতীয়ত, তোমার প্যাশন বা উৎসাহের জায়গা খুঁজে নাও। এটা খুঁজে পাওয়া সহজ বিষয় নয়। মানুষ মনে করে প্যাশন এমন একটি জিনিস, যা তোমার থাকতে পারে নাও থাকতে পারে। মানুষ মনে করে প্যাশন এমন একটি জিনিস যা এমনিতেই প্রকাশ পায়। আসলে এ ধারণা সত্যি নয়। এটা এমন একটি জিনিস, যা তোমার জীবনে খুঁজে বের করতে হবে এবং লালন করতে হবে। এর সঙ্গে দৃঢ়ভাবে লেগে থাকতে হবে। এটি অর্জনে নিজের হৃদয়, দেহ এবং আত্মাকে বিনিয়োগ করতে হবে। প্যাশন খুঁজে পাওয়া তোমার একটি বড় কাজ।

তৃতীয় বিষয় হচ্ছে নাছোড়বান্দা হও। এটি বোঝানোর জন্য ‘অদম্য’ এ শব্দটিই আমি বেশি অগ্রাধিকার দিই। অনেকেই বলে এটি অর্জন করা অনেক বেশি কঠিন। কিন্তু আমি মনে করি অদম্য হচ্ছে ধৈর্যেরই আরেক বহিঃপ্রকাশ, যা আশাবাদের মাধ্যমে তৈরি হয়। এমন একটি ইতিবাচক মনোভাব নিজের মধ্যে তৈরি করে তোমাকে শুধু এগিয়েই যেতে হবে। এ তিনটি গুণ তোমাকে সফলতার পথে নিয়ে যাবে।

উদ্যোক্তাদের দিকে তাকাও যারা ব্যবসা শুরু করার পর বেশির ভাগই ব্যর্থ হয়। এমনকি যেসব কম্পানি সফল হয়েছে তাদের দিকে তাকাও। মাইক্রোসফট, অ্যাপল, গুগল, ফেসবুক এসব কম্পানিকেও কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। কিন্তু তারা প্যাশন লালন করেছে এবং লেগেছিল।

তুমি একটি সুন্দর আইডিয়া দিয়ে শুরু করো, হয়তোবা শুরুতে ব্যর্থতা আসবে। কিন্তু চূড়ান্ত সফলতা নির্ভর করবে তুমি কতটুকু ধৈর্যশীল, কতটুকু অদম্য এবং আশাবাদী তার ওপর। আমি মনে করি এ কথাগুলো শুধু ভালো শিক্ষা নয় বরং তুমি যেখানেই যাবে সেখানে এগুলো কাজে লাগাতে হবে। ফিচার, উইকিপিডিয়া।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা