kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বিমানে পাইলট নিয়োগে বারবার বিজ্ঞপ্তি পরিবর্তন!

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিমানে পাইলট নিয়োগে বারবার বিজ্ঞপ্তি পরিবর্তন!

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে পাইলট নিয়োগে বারবার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সংশোধনের অভিযোগ উঠেছে। রাষ্ট্রীয় এই উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থার নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ পথে থাকলেও অভিযোগ উঠেছে, বিশেষ প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে একাধিকবার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পরিবর্তন করেছে বিমানের মানবসম্পদ বিভাগ। এতে নিয়োগপ্রত্যাশীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে হতাশা।

সূত্র জানায়, পাইলট সংকট উত্তরণে ২০১৮ সালে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিমানের মানবসম্পদ উপবিভাগ। বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীর যোগ্যতা হিসেবে এসএসসি ও এইচএসসি (গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানসহ) অথবা সমমানের ন্যূনতম জিপিএ ৩ থাকার কথা বলা হয়। এ ছাড়া ও-লেভেল এবং এ-লেভেল হলে গ্রেড ‘বি’ থাকা প্রার্থীরা অংশ নিতে পারবেন। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, জিইডি ডিগ্রিধারীরা এতে অংশ নিতে পারবেন না। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) থেকে কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্সধারীরা (সিপিএল) অথবা বেবিচক থেকে এনডোর্স করা ব্যক্তিরা প্রার্থী হতে পারবেন।

২০১৮ সালের বিমানের ওই বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার কিছুদিন পর আবারও সংশোধন আনা হয়। এতে জিইডি ডিগ্রিধারীদের ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। ফলে তাঁরাও আবেদনের সুযোগ পান এবং লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। পাঁচ-সাতজন প্রার্থী পাসও করেছেন। এ ছাড়া বোয়িং ৭৩৭ এবং ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজ চালানোর অভিজ্ঞতাসম্পন্নদের ক্ষেত্রে আবেদনের যোগ্যতা সর্বোচ্চ ৩০ বছরের (মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের ক্ষেত্রে ৩২ বছর) পরিবর্তে ৪০ বছর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। জানতে চাইলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালক (প্রশাসন) পার্থ কুমার পণ্ডিত কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নিয়োগ অপারেশনস ম্যানুয়াল অনুযায়ী হতে হয়। এ জন্য আমরা দুবার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে পরিবর্তন এনেছি। ২০১৮ সালে প্রথম যে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল, সেটিতে অনেক কম আবেদন পড়েছিল। এ কারণে পরবর্তী সময়ে আবার সংশোধন করে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়, যেন আরো বেশি প্রার্থী আবেদন করতে পারেন। তিনি বলেন, বিমানের বর্তমানে বৈমানিকের স্বল্পতা রয়েছে। শিগগিরই আরো উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হবে। বৈমানিকস্বল্পতার সংকট মেটাতে বিমান কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

এর আগে ২০১৬ সালে ক্যাডেট পাইলট নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিমানের মানবসম্পদ উপবিভাগ। বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীর যোগ্যতা চাওয়া হয়েছিল বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ন্যূনতম জিপিএ ৩ নিয়ে এসএসসি এবং এইচএসসি। উভয় ক্ষেত্রেই গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান বিষয় থাকতে হবে। ও-লেভেল এবং এ-লেভেলের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ‘বি’ গ্রেড থাকতে হবে। বেবিচক থেকে কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্সধারীরাও (সিপিএল) প্রার্থী হিসেবে যোগ্য হবেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ ও বিদেশ থেকে জিইডি ডিগ্রিধারীরা যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না। যদিও পরবর্তী সময়ে জিইডি ডিগ্রিধারীদের সিপিএল দিয়েছিল বেবিচক। কিন্তু ওই নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি তাঁরা।

জানা গেছে, ২০১৬ সালের ওই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগে ২৬ জন প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় পাস করেন। লিখিত পরীক্ষায় পাস করা চাকরিপ্রত্যাশীদের থেকে ১০ কিংবা ১২ জনকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও বিশেষ প্রার্থীকে সুবিধা দিতে ২৬ জনকেই বিবেচনায় নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে একজন সাবেক বৈমানিক ২৬তম হয়েছিলেন, যাঁকে সুযোগ দিতেই সবাইকে নিয়োগ দেয় বিমান কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে বহরে উড়োজাহাজ রয়েছে ১৩টি। আরো দুটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে বিমান কর্তৃপক্ষ। উড়োজাহাজগুলো ধারাবাহিকভাবে বহরে যুক্ত হলে বর্তমান ১৫টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাহিদা বাড়বে পাইলটের।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা