kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

উদ্যোক্তা
জিওতে সাফল্য পেলেন মুকেশ আম্বানি

এক বছরে সম্পদ বেড়েছে ৩০০ কোটি ডলার

বাণিজ্য ডেস্ক   

৬ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এক বছরে সম্পদ বেড়েছে ৩০০ কোটি ডলার

মুকেশ আম্বানি, চেয়ারম্যান, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ

২০১৮ সালে সফল ব্যবসার মাধ্যমে যাঁরা ভাগ্যকে নিজের করে নিয়েছেন তাঁদের অন্যতম ভারতীয় ধনকুবের মুকেশ আম্বানি। ব্লুমবার্গের বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্স অনুযায়ী তিনিই এখন এশিয়ার শীর্ষ ধনী। চীনের ই-কমার্স জায়ান্ট ‘আলিবাবা’-র প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মাকে টপকে তিনি এ বছর এশিয়ার শীর্ষ ধনী হন।

মুকেশ আম্বানি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও এমডি। ভারতের বেসরকারি তেল শোধনাগার থেকে শুরু করে টেলিকমিউনিকেশন ব্যবসার নেতৃত্বে রয়েছে এ প্রতিষ্ঠান।  ফোর্বস ম্যাগাজিনের আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, মুকেশ আম্বানি এ বছর আয়ের দিক থেকে অষ্টম অবস্থানে আছেন। শেয়ারবাজারের কল্যাণে এ বিলিয়নেয়ারের নেট সম্পদ তিন বিলিয়ন ডলার বেড়ে হয়েছে ৪৪.৪ বিলিয়ন ডলার। ফোর-জি ব্রডব্যান্ড সার্ভিসে তাঁর কম্পানি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ এবার দারুণ সফলতা দেখিয়েছে। জিওর গ্রাহকসংখ্যা ২০১৬ সাল থেকে বেড়েছে ২৫০ বিলিয়ন। এতে এ বছর রিলায়েন্সের শেয়ারের দর বেড়েছে ২৩ শতাংশ।

জোরালো প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্য দিয়ে ভারতকে উন্নত দেশের কাতারে আনার যে স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেখছেন। তাতে অন্যতম সহায়ক শক্তি মনে করা হয় মুকেশ আম্বানিকে। এ বছর তিনি হিন্দুস্তান টাইমস লিডারশিপ সামিটে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের উত্থান ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁর আলোচনার বিষয় ছিল ‘কেন ভারত বিশ্বনেতা হবে’। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, ২০৩০ সাল নাগাদ ভারতের বর্তমান জিডিপির আকার ২.৫ ট্রিলিয়ন থেকে তিন গুণ বেড়ে হবে ৭ ট্রিলিয়ন ডলার হবে। পাশাপাশি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও ভারতের ব্যবধান মিলিয়ে যাবে।’ এ ভবিষ্যদ্বাণী অনেকটাই নিশ্চিত মনে হচ্ছে। কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে ২০২৪ সালের মধ্যে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের কাছাকাছি চলে যাবে ভারত।

আম্বানি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আগামী তিন দশক হবে ভারতের। ২১ শতকের মাঝামাঝিতেই চীনকে ছাড়িয়ে যাবে ভারত। একই সঙ্গে বিশ্বের কাছে আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।’ তিনি বলেন, গত তিনটি শিল্প বিপ্লবের ধারাবাহিকতায় চতুর্থ শিল্প বিপ্লব হবে ভারত থেকেই। এর মধ্য দিয়েই ভারত নেতৃত্বের আসনে বসবে।

তাঁর মতে, পরবর্তী শিল্প বিপ্লবের ভিত হচ্ছে ডাটা কানেক্টিভিটি, কম্পিউটিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। মুকেশ আম্বানি বলেন, ‘তিনটি কারণে আমি মনে করি চতুর্থ শিল্প বিপ্লব হবে ভারতের নেতৃত্বে। প্রথমত, ভারত হচ্ছে তরুণদের একটি দেশ। এখানে জনসংখ্যার ৬৩ শতাংশই ৩৫ বছরের কম বয়সী। আমাদের তরুণরা খুব দ্রুতই প্রযুক্তি বুঝে নিতে পারে। তাদের মেধা, আইডিয়া এবং উদ্যোক্তা হওয়ার শক্তি আছে। তারা বড় স্বপ্ন দেখার সাহস রাখে এবং তা বাস্তবায়নেরও ক্ষমতা রাখে।

মুকেশ আম্বানির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অনেক উৎসাহব্যঞ্জক তথ্য রয়েছে। মুম্বাইয়ের ভুলেশ্বরে একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম তাঁর। একটি দুই কামরার বাড়িতে থাকতেন। সাধারণ গাড়িতে যাতায়াত করতেন তিনি। হাতখরচের টাকাও পেতেন না। লেখাপড়ায় বিশেষ মন ছিল না। তার চেয়ে বেশি মন ছিল হকি খেলায়। কিন্তু ১৯৮০ সালে পড়া শেষ করে বাবার ব্যবসায় যোগ দিতে হয়। এত বড় ব্যবসায়ী হওয়ার পরও তিনি জনসমক্ষে কথা বলতে সংকোচ বোধ করেন। বিশ্বের সবচেয়ে দামি বাড়ির মালিক তিনি। দক্ষিণ মুম্বাইয়ে ২৭ তলা বাড়ি ‘অ্যান্টিলা’ পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয়। ফোর্বস, ব্লুমবার্গ, নিউজ১৮।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা