kalerkantho

শনিবার । ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩১ জুলাই ২০২১। ২০ জিলহজ ১৪৪২

বিশ্বের শীর্ষ বাণিজ্যকেন্দ্রের তালিকায় আসবে চট্টগ্রাম

শিমুল নজরুল, চট্টগ্রাম   

১১ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিশ্বের শীর্ষ বাণিজ্যকেন্দ্রের তালিকায় আসবে চট্টগ্রাম

ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে চট্টগ্রামের গুরুত্ব বাড়ছে। আগামী ১৫ বছরের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি বাণিজ্যকেন্দ্রের মধ্যে চট্টগ্রাম নিজ অবস্থান তৈরি করে নেবে। শুধু চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যবহার শতভাগ নিশ্চিত করা গেলে দেশের অর্থনৈতিক দৃশ্যপট পাল্টে যাবে। চলমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকলে আগামীতে বিশ্বে উন্নত নগরী হিসেবে পরিচিত দোহা, দুবাই, মাকাটির সঙ্গে চট্টগ্রামের তুলনা করবে বিশ্ববাসী। তবে এই উন্নয়ন ধরে রাখতে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের তরুণ করপোরেট ব্যক্তিত্ব ও এএনজেড প্রপার্টিজ চট্টগ্রামের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা তানভীর শাহরিয়ার রিমন। 

দেশের জনগণকে সম্পদ উল্লেখ করে চট্টগ্রামের অন্যতম শীর্ষ এই আবাসন ব্যক্তিত্ব বলেন, ‘আমাদের দেশে দক্ষ জনসম্পদ রয়েছে। এই সম্পদের ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে উন্নয়নে অন্তরায় থাকবে না। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের দেশে বিশ্বের নামকরা ব্র্যান্ডের (আরমানি, হোগোবস, জারা, কেলভিন ক্লেইন, টমি হিলফিগার, লিভাইস, এইচ এন এম, আমেরিকান ঈগল, গেপ, ইউএস পলো, জেক অ্যান্ড জোনস, বস, মার্ক্স অ্যান্ড স্পেনসার, নাইকি, অ্যাডিডাস, পিউমা প্রভৃতি) পোশাক তৈরি হচ্ছে। শুধু সস্তা শ্রমের কারণে নয়, শ্রমিকদের দক্ষতার কারণে বিদেশিরা আমাদের দেশে তাদের পণ্য তৈরি করছে। বিশ্ববাজারে আমাদের এই দক্ষ জনসম্পদের ব্র্যান্ডিং হয় না। উল্টো হরতাল, অবরোধ আর জঙ্গিবাদের নামে দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। দক্ষ জনসম্পদের ব্র্যান্ডিং হলে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আরো বেড়ে যাবে।’

তিনি বলেন, সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করেই সরকার চট্টগ্রামে গড়ে তুলেছে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার। গুরুত্বের দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যেমন নিউ ইয়র্ক, ভারতের জন্য যেমন মুম্বাই, পাকিস্তানের যেমন করাচি, বাংলাদেশের তেমনি হবে চট্টগ্রাম।

চট্টগ্রামের এই অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আবাসনশিল্পেও বিনিয়োগ প্রয়োজন উল্লেখ করেন তানভীর শাহরিয়ার রিমন। তিনি বলেন, এখনই অ্যাপার্টমেন্ট কেনার উত্কৃষ্ট সময়। দেশে বিরাজ করছে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো হোম লোনের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে এনেছে। ক্রেতাদের জন্য তারা এখন সর্বনিম্ন ৮.৫ শতাংশ সুদে হোম লোন সুবিধা দিচ্ছে। আর বাজারে মূল্য সংশোধনের পর এখন দামও খুব যৌক্তিক। তবে মধ্যবিত্তের আবাসন চাহিদা মেটাতে স্যাটেলাইট টাউনশিপের কোনো বিকল্প নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তানভীর শাহরিয়ার রিমন বলেন, চট্টগ্রামে সরকারের প্রচুর খাস জমি রয়েছে। এই জমিগুলো সহজ শর্তে ডেভেলপারদের দিলে মধ্যবিত্তদের জন্য কম মূল্যে অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ সম্ভব। তা ছাড়া উচ্চবিত্ত শ্রেণি যারা একসময় একাধিক অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয় করত তাদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্পর্শকাতর বিষয় হলেও বিনা প্রশ্নে আবাসন খাতে কালো টাকা বিনিয়োগের একটা সুযোগ দিলে দেশের অপ্রদর্শিত টাকা দেশেই থাকত।