kalerkantho

সোমবার । ২১ অক্টোবর ২০১৯। ৫ কাতির্ক ১৪২৬। ২১ সফর ১৪৪১       

কর ফাঁকি দরিদ্র দেশকে আরো দরিদ্র করছে

মুহাম্মদ শরীফ হোসেন   

১০ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কর ফাঁকি দরিদ্র দেশকে আরো দরিদ্র করছে

বিশ্বজুড়ে কর ফাঁকির একটি বড় মাধ্যম হয়ে উঠেছে অফশোর কম্পানি। পানামা পেপারস কেলেঙ্কারির ঘটনায় এবার দেশে দেশে অভিযান শুরু হচ্ছে এ কর ফাঁকিবাজদের বিরুদ্ধে। হেরাল্ড ট্রিবিউন থেকে নেয়া

‘পানামা পেপারস’ ফাঁসের কল্যাণে বিশ্বব্যাপী কর ফাঁকি আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তথ্য আর অভিযোগের তীরে ইতিমধ্যে পিষ্ট হয়েছেন অনেক রাজনীতিবিদ। পদত্যাগ করেছেন আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী, অফশোর অর্থ থেকে সুবিধা প্রাপ্তির কথা স্বীকার করেছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। চীন আর রাশিয়ার নেতারাও এখন কর ফাঁকির অভিযোগে বিদ্ধ। একইভাবে বিশ্বের বড় বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও যেন নিজেদের অন্ধকার আয় ঢাকতে প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছে।

সম্প্রতি সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস (আইসিআইজে) পানামার আইন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকার এক কোটি ১৫ লাখ নথি ফাঁস করেছে, আরো নথি ফাঁস করার ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্বব্যাপী ‘পানামা পেপার’ হিসেবে পরিচিত পাওয়া এসব তথ্য-উপাত্ত এখন কর ফাঁকি নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, অফশোর কম্পানি গড়ে কর ফাঁকির অর্থ এই নয় যে কিছু ধনী মানুষ কৌশলে কর ফাঁকি দিয়ে নিজেরা লাভবান হচ্ছেন। বরং এর অর্থ হচ্ছে করস্বর্গ খ্যাত বিভিন্ন দেশে এত পরিমাণ অর্থ গেছে যা বিশ্বের অনেক দরিদ্র দেশের দরিদ্র সরকারগুলোর রাজস্বের বড় উৎস হতে পারত। অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ওইসিডি) মহাসচিব এঙ্গেল গোরিয়া বলেন, কর ফাঁকির ঘটনা দরিদ্র দেশগুলোকে কী পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত করে তা অভাবনীয়। তাঁর মতে, উন্নয়নশীল দেশগুলো প্রতিবছর যে পরিমাণ বিদেশি সহায়তা পায় তার তিন গুণ হারিয়ে ফেলে কর ফাঁকির কারণে। এ ব্যাপারে আরেক প্রতিষ্ঠান টেক্স জাস্টিস নেটওয়ার্ক জানায়, কর ফাঁকির ঘটনায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর ক্ষতি ১০ গুণের বেশি।

জাতিসংঘের ইকোনমিক কমিশন ফর আফ্রিকার হিসাব অনুযায়ী, কর ফাঁকি বা অবৈধ অর্থপাচারের  কারণে আফ্রিকার দেশগুলো বছরে হারায় ৩০ বিলিয়ন থেকে ৬০ বিলিয়ন ডলার। গ্লোবাল ফিন্যানশিয়াল ইন্টিগ্রিটির প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাট সলোমোন বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে শুধু বৈধ উপায়েই ‘করস্বর্গ’ অঞ্চলগুলোতে গেছে প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলার।

বিশ্বব্যাপী অবৈধ অর্থপাচার নিয়ে গ্লোবাল ফিন্যানশিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অফশোর কম্পানি গড়ে বৈধ-অবৈধ উপায়ে কর ফাঁকির কারণে উন্নয়নশীল বিশ্ব থেকে প্রতিবছরই অর্থপাচার বাড়ছে। ২০০৪ থেকে ২০১৩ এই ১০ বছরে উন্নয়নশীল বিভিন্ন দেশ থেকে পাচার হয়েছে ৭ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার। শুধু ২০১৩ সালে পাচার হয়েছে ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার। অর্থপাচারে একক দেশ হিসেবে শীর্ষে আছে চীন। চীন থেকে গত ১০ বছরে পাচার হয়েছে এক লাখ ৩৯ হাজার কোটি ডলার, আর গড়ে প্রতিবছর পাচার হয়েছে ১৩ হাজার ৯২৩ কোটি ডলার। চীনের পর এ তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছে রাশিয়া। দেশটি থেকে গত ১০ বছরে এক লাখ পাঁচ হাজার কোটি ডলার অর্থপাচার হয়েছে। প্রতিবছর গড়ে পাচার হয়েছে ১০ হাজার ৪৯৮ কোটি ডলার। তৃতীয় স্থানে থাকা মেক্সিকো থেকে গত ১০ বছরে ৫২ হাজার ৮৪৪ কোটি ডলার পাচার হয়। চতুর্থ স্থানে থাকা ভারত থেকে পাচার হয় ৫১ হাজার কোটি ডলার, আর পঞ্চম স্থানে থাকা মালয়েশিয়া থেকে পাচার হয় ৪১ হাজার ৮৫৪ কোটি ডলার।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অবৈধ অর্থপাচার উন্নয়নশীল এশিয়ার জিডিপির ৪.০ শতাংশ। তবে অর্থপাচারে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল সাব-সাহারা আফ্রিকা। এ অঞ্চল থেকে যে পরিমাণ অর্থপাচার হয়েছে তা জিডিপির হিসাবে যেকোনো অঞ্চলের চেয়ে বেশি। সাব-সাহারা আফ্রিকা থেকে ২০০৪-২০১৩ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে অর্থপাচার হয় জিডিপির ৬.১ শতাংশ। এর পরের অবস্থানে থাকা উন্নয়নশীল ইউরোপ থেকে অর্থপাচার হয় জিডিপির ৫.৯ শতাংশ। পশ্চিম হেম্পশায়ার অঞ্চল থেকে পাচার হয় জিডিপির ৩.৬ শতাংশ এবং মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা এসব অঞ্চল থেকে পাচার হয় জিডিপির ২.৩ শতাংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী যে পরিমাণ অর্থপাচার হয়েছে তা দরিদ্র দেশগুলোতে আসা এফডিআই (সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ) এবং বিদেশি ঋণের চেয়ে অনেক বেশি। এএফপি, রয়টার্স।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা