kalerkantho

সোমবার । ২১ অক্টোবর ২০১৯। ৫ কাতির্ক ১৪২৬। ২১ সফর ১৪৪১       

সম্বল ৪০ হাজার টাকা

১০ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সম্বল ৪০ হাজার টাকা

মোঃ লুত্ফুর রহমান, সাজু ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং কম্পানি

এসএসসি ও এইচএসসি দুই পরীক্ষাতেই প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হওয়া মেধাবী ছাত্র মো. লুত্ফুর রহমানের পক্ষে সম্ভব হয়নি বিশ্ববিদ্যালয় পাড়ি দেওয়া। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েও অর্থের অভাবে তাঁকে পড়ালেখায় ইতি টানতে হয়। পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে ১৯৭৬ সালে ২১ বছর বয়সে সরকারি গাউছিয়া জুট মিলে চাকরি শুরু করেন।

সাজু ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং কম্পানির স্বত্বাধিকারী মো. লুত্ফুর রহমান বলেন, এ সুখও কপালে বেশি দিন সয়নি। ১৯৮৪-১৯৮৫ সালের দিকে পাটশিল্পের বেসরকারিকরণ শুরু হলে গাউছিয়া জুট মিল ব্যক্তিমালিকানায় চলে যায়। ফলে চাকরি হারাতে হয়। এরপর চাকরি থেকে পাওয়া মাত্র ৪০ হাজার টাকা আর অভিজ্ঞতাকে সম্বল করে ১৯৮৮ সালে ‘শ্যামল বাংলা জুটেক্স লিমিটেড’ নামে একটি পাটপণ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। ওই টাকা দিয়েই লুত্ফুর রহমান ব্যবসার রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স নেন এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলেন। একটি টেলিফোন ও একটি টাইপ মেশিন দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও হাল ছাড়েননি।

১৯৯৪ সালের শেষদিকে তিনি বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে সরাসরি পণ্যের অর্ডার পেতে শুরু করেন। এতে ব্যবসা ও আয়ও বাড়তে লাগল। এবার গতানুগতিক পাটপণ্যের বাইরেও তিনি বৈচিত্র্যপূর্ণ পাটপণ্য বা হস্তশিল্প তৈরি করতে শুরু করেন। বিদেশি ক্রেতার চাহিদানুযায়ী ‘চটের ফিতা’ নামের একটি পণ্য উত্পাদন করেন। ১৯৯৫ সালের গোড়ার দিকে একজন বিদেশি ক্রেতা এসে সরেজমিন তাঁর কারখানা পরিদর্শন করেন এবং পণ্যের উত্পাদন ও গুণগত মানোন্নয়নে প্রযুক্তির ব্যবহারের ধারণা দেন। ক্রমাগত চেষ্টার ফলে তিনি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে পণ্যের মান উন্নত করেন।

উত্পাদিত পণ্যের সংখ্যা বাড়তে থাকলে লুত্ফুর রহমান ২০০৭ সালে সাত লাখ টাকা বিনিয়োগ করে প্রতিষ্ঠা করেন নতুন প্রতিষ্ঠান ‘সাজু ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং কম্পানি’। প্রতিবছর তিন কোটি ৫০ লাখ থেকে চার কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি করে থাকেন। এ বছর উত্পাদন ও রপ্তানির পরিমাণ সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা