kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

পিঠা-পুলির কারিগর

১০ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পিঠা-পুলির কারিগর

সুলতানা নূরজাহান, তাজনূর ফুড প্রোডাক্ট

১৯৯৪ সালের এক বিকেলে তিনজন অসহায় নারীর সঙ্গে পরিচয় হয় সুলতানা নূরজাহানের। তাঁরা বন থেকে কাঠ সংগ্রহের পর মাথায় করে বাজারে নিয়ে বিক্রি করে জীবনধারণ করতেন। এক বেলা সন্তানদের খেতে দিতে পারলে আরেক বেলা পারতেন না। তাঁদের করুণ কাহিনী শুনে ভেতরে ভেতরে নিজের ও তাঁদের জন্য কিছু একটা করার তাগিদ অনুভব করলেন। পরবর্তী সময়ে তাঁদের বাসায় এনে পিঠা, পুলি, সমুচা, সিঙ্গাড়া ইত্যাদি বানানো শিখিয়ে সেই খাবার আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, বন্ধুদের বাড়িতে বিক্রির জন্য পাঠাতে শুরু করেন। প্রথম দিকে তাঁর বিনিয়োগ ছিল মাত্র পাঁচ হাজার টাকা। সুলতানা নূরজাহানের একজন সফল উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প এ রকমই।

নূরজাহানের জন্ম ১৯৭৪ সালে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ফতেপুর গ্রামে। একই এলাকার মোহাম্মদ দিদারুল আলম চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল ১৯৯২ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে। এমবিএ করা সুলতানা নূরজাহান আত্মীয়-পরিজনের বাইরে ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মার্কেটিংয়ের জন্য প্রথমেই বেছে নেন বাসার সামনের একটি স্কুল।

সুলতানা নূরজাহান বলেন, ‘ওই নারী সহকর্মীদের দিয়ে সপ্তাহের দুই দিন স্কুলের গেটে পিঠা-পুলি, সিঙ্গাড়া-সমুচা বিক্রি করতে পাঠাতাম। প্রথম দিকে কম বিক্রি হলেও পরবর্তী সময়ে বিক্রি বাড়তে থাকে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্কুলে টিফিন সরবরাহ শুরু করি। অল্প দিনেই চট্টগ্রামে সুনাম ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন দোকান থেকে নিয়মিতভাবে অর্ডার আসতে থাকে, সঙ্গে উত্পাদনও বাড়তে থাকে। ক্রমান্বয়ে জনবলও বাড়তে থাকে।’ দুই বছর পর ব্যবসা বড় করতে স্বামীর সঙ্গে আলাপ করলে তিনি ঋণ নেওয়ার পরামর্শ দিলেন। স্থানীয় একটা সমবায় থেকে কিছু টাকা ঋণ নিয়ে ব্যবসার পরিধি বাড়ালেন নূরজাহান। এ ছাড়া আধুনিক যন্ত্রপাতি, উন্নত প্যাকেজিং ও মার্কেটিংয়ের ব্যবস্থা করাসহ একটি পিকআপ ও ২০টি রিকশা ভ্যান নিয়ে ২১ বছরের পথ পরিক্রমায় তাজনূর ফুড প্রোডাক্টস এখন একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ কারখানা। সেই তিনজন মহিলাসহ ৯০ জন কারিগর আজ দুই শিফটে উত্পাদন করছেন বিস্কিট, টোস্ট, কেক, চানাচুরসহ প্রায় ৪১ আইটেমের ফাস্টফুড।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা