kalerkantho

একটি পেপার কাপের আইডিয়া

স্বল্প পুঁজি, নেই কোনো সহায়। তার পরও তাঁরা স্বপ্ন দেখেছেন ব্যবসা করবেন। নিজে আত্মনির্ভরশীল হয়ে অসংখ্য তরুণের জন্যও কর্মসংস্থানের দ্বার খুলে দেবেন। সেই স্বপ্ন পূরণে শত বাধা এসেছে, তার পরও তাঁরা এগিয়ে গেছেন, সফলও হয়েছেন। পরিশ্রম আর কঠোর অধ্যবসায়ের জোরে এগিয়ে যাওয়া এমন পাঁচ উদ্যোক্তা কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পেয়েছেন ‘জাতীয় এসএমই উদ্যোক্তা পুরস্কার-২০১৬’। সফল এই উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন কালের কণ্ঠ’র প্রতিবেদক ফারজানা লাবনী। তুলে ধরেছেন তাঁদের এগিয়ে যাওয়ার গল্প

১০ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



একটি পেপার কাপের আইডিয়া

কাজি সাজিদুর রহমান, কেপিসি ইন্ডাস্ট্রিজ

শুরুতেই নতুন কিছু করার প্রতি অদম্য বাসনা ছিল ২৩ বছরের যুবক কাজি সাজিদুর রহমানের। তাই ২০০৩ সালে টিউশনির জমানো কিছু অর্থ আর মামার কাছ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা নিয়ে ‘কাজি করপোরেশন লিমিটেড’ নামে একটি ইন্ডেন্টিং ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটির কাজ ছিল আন্তর্জাতিক দরপত্রের জন্য লোকাল এজেন্ট হিসেবে কাজ করা।

২০১০ সালে ওমরাহ পালনকালে কোনো এক ইফতারির সময় একজন সৌদি নাগরিক দুটি পেপার কাপে খেজুর ও কফি দিয়ে আপ্যায়ন করেন তাঁকে। সেই কাপই তাঁর কাছে পেপার কাপ উত্পাদনের প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করে। মালয়েশিয়ার একটি কম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেন। ২০১২ সালের জুন মাসে তিনি ‘কেপিসি’ ব্র্যান্ড নামে এই পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যসম্মত পেপার কাপ উত্পাদন ও বাজারজাত শুরু করেন। পণ্যটি আমাদের দেশে নতুন হওয়ায় তাঁকে নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়। দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মীর অভাব ছিল। পণ্যটির গ্রাহকদের একটি বড় অংশ বহুজাতিক কম্পানি হওয়ায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন, পণ্যের বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়া ছিল নিয়মানুবর্তিত ও ছকে বাঁধা। তাই পণ্যের মান, উত্পাদন প্রক্রিয়া, উত্পাদনের স্থান, কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা, নিরাপত্তা এবং পণ্যের সরবরাহ প্রক্রিয়ায় উত্পাদনকারীকে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসরণ করতে হয়।

বর্তমানে পরিবেশবান্ধব পেপার কাপ ও প্লেট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘কেপিসি’ ব্র্যান্ডের গ্রাহক সংখ্যা ১৫০টিরও বেশি করপোরেট হাউস। কেপিসির উল্লেখযোগ্য ক্রেতা হলো নেসলে, পেপসি, ইউনিলিভার, ডানো, অ্যাপোলো হাসপাতাল, রেডকাউ, শেভরন, আজিনোমতো, প্রাণ, ব্রিটিশ কাউন্সিল, ইউনাইটেড হাসপাতাল, সোনারগাঁও হোটেল, ওয়েস্টিন হোটেল, আকিজ গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, ইস্পাহানি, ইগলু প্রভৃতি। ২৬ জন দক্ষ কর্মী নিয়ে গড়া কেপিসির পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। কাজি সাজিদুর রহমান ১৯৮০ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকার ইনডিপেনডেন্ট ইউনির্ভাসিটি থেকে গ্র্যাজুয়েশন করেছেন।

মন্তব্য