kalerkantho

শুক্রবার । ২০ চৈত্র ১৪২৬। ৩ এপ্রিল ২০২০। ৮ শাবান ১৪৪১

বিনিয়োগ সম্ভাবনা বাড়ছে আইসিটি খাতে

শ্যাম সুন্দর সিকদার   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিনিয়োগ সম্ভাবনা বাড়ছে আইসিটি খাতে

বিনিয়োগ সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে উদার। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের সংগঠন অ্যামচেমের সভাপতি আফতাব উল ইসলাম যথার্থই বলেছেন, 'বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম সম্ভাবনাময় দেশ'। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে কেবল বাংলাদেশই মুনাফার শতভাগ প্রত্যাবাসনের সুযোগ দিয়েছে। বাংলাদেশে আমেরিকান বিনিয়োগকারীরা বেশ ভালোভাবেই ব্যবসা করছে। এ কথা মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রতিবেদনেও প্রকাশ পেয়েছে এবং বিনিয়োগের পক্ষে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং প্রণোদনার প্রশংসাও করা হয়েছে। এমন বিপুল প্রণোদনা সত্ত্বেও বাংলাদেশে বিনিয়োগে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না কেন? এ প্রশ্নটি স্বাভাবিকভাবেই এসে যায়।

দেশে ২৫ থেকে ২৬ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ মানি থাকার সংবাদটিতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সাহস জোগানোর কথা। কিন্তু ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে ১৫০ কোটি ডলার এবং ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে তা ছিল ৯৯ কোটি ডলার। এই তথ্য খুব আশাব্যঞ্জক নয়। বাংলাদেশের এই বিনিয়োগ দক্ষিণ এশিয়ার মোট বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিআই) বিবেচনায় একেবারেই নগণ্য বলে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের ওই প্রতিবেদনে শুধু নেতিবাচক দিকটিই তুলে ধরা হয়নি, ইতিবাচক খবরও রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি ও টেলিকমিউনিকেশন খাতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি সেবা প্রাপ্তিতে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এটি ছিল স্টেট ডিপার্টমেন্টের ২০১৫ সালের মে মাসের প্রতিবেদন।

কোনো সন্দেহ নেই ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সরকার আইসিটি খাতকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশের অর্থনীতিতে আইসিটি খাতের অবদান নিশ্চিত করতে হলে বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। সে কারণে বিশেষ প্রণোদনা এসআরও জারি করেছে সরকার। নতুন এসআরও জারির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, একদিকে আরো বেশি বিনিয়োগকারী আকৃষ্ট করা, অন্যদিকে দেশীয় অন্যান্য শিল্পকে বাঁচিয়ে রেখে আইসিটি শিল্পকে এগিয়ে নেওয়া।

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ বিনিয়োগের পথে কিছু বাধা দূর করার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, আর্থিক সংকট, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দুর্নীতি এখনো বিনিয়োগের গোপন শত্রু।

কিন্তু মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের চিহ্নিত কারণগুলোর মধ্যে বেশির ভাগই বাস্তবে এখন বিদ্যমান নেই। বর্তমানে বিনিয়োগ বোর্ড ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও অর্থ প্রত্যাবর্তনে দ্রুতগতিতে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে। বেশির ভাগ ব্যাংকে আর্থিক লেনদেন হয় অনলাইনে। সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের অংশ হিসেবে সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ই-গভর্ন্যান্স বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

ভিশন ২০২১-এর আলোকে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার জন্য সরকার নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করছে। যার ফলে বিগত কয়েক বছর ধরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ধারা লক্ষ করা যাচ্ছে। প্রবৃদ্ধির পরিমাণ ছয় শতাংশের ওপরে। আগামীতে আমাদের বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি যে উন্নততর হবে সে পূর্বাভাস ব্যক্ত করছে বৈশ্বিক সংস্থাগুলো। সম্প্রতি সিএনএন মানির এক পূর্বাভাসে বলা হয়, ২০১৫ সালে সাড়ে ছয় শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বের পঞ্চম প্রবৃদ্ধিশীল অর্থনৈতিক দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ। এমনকি ২০১৯ সাল নাগাদ বিশ্বের সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে যেসব দেশ, এর মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে থাকবে বাংলাদেশ।

অভিজ্ঞতা বলছে, প্রবৃদ্ধির দিক থেকে বাংলাদেশের ওই অবস্থানে যাওয়া মোটেও অসম্ভব নয়। আর এতে প্রধান ভূমিকা রাখবে বিনিয়োগ। সংগত কারণে আইসিটি খাতেও বিনিয়োগ বাড়বে। আইসিটি খাত ইতিমধ্যে দেশে বিনিয়োগ অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। আগামীতে সফটওয়্যার পার্ক ও হাইটেক পার্ক দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আরো বড় আকারে বিনিয়োগের সুযোগ করে দেবে। আমরা আশা করতে পারি যে আগামী ২০২১ সালের মধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে আইসিটি খাতের অবদান হবে কমপক্ষে তিন শতাংশ।

লেখক : সচিব, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা