kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২ ডিসেম্বর ২০২১। ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৩

২০০০ নতুন উদ্যোক্তা গড়ার চেষ্টায় ঢাকা চেম্বার

রাজীব আহমেদ   

৩ নভেম্বর, ২০১৩ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



২০০০ নতুন উদ্যোক্তা গড়ার চেষ্টায় ঢাকা চেম্বার

অন্যদের কাছ থেকে পণ্য কিনে বিক্রি করা তুলনামূলক সহজ। কিন্তু পণ্য উৎপাদন করে, বাজার তৈরি করে বিক্রি করা কঠিন। ফলে নতুন যাঁরা ব্যবসা জগতে প্রবেশ করেন তাঁরা বাণিজ্যের দিকেই বেশি ঝুঁকে পড়েন। শিল্পে নতুন উদ্যোক্তার সংখ্যা তেমন বেশি নয়। এ ঘাটতি পূরণের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। ব্যবসায়ীদের এই সংগঠনটি উৎপাদনশীল খাতে উদ্যোক্তা তৈরির প্রকল্প নিয়েছে। সারা দেশ থেকে দুই হাজার নতুন উদ্যোক্তা বাছাই করে সংগঠনটি তাদের নতুন ও অভিনব 'ধারণা' প্রকল্পে রূপান্তর করতে সহায়তা করবে।

ঢাকা চেম্বারের নতুন উদ্যোক্তা তৈরির প্রধান লক্ষ্য হলো যাঁদের উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ, শিক্ষা এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত জ্ঞান রয়েছে, তাঁদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করা। ঢাকা চেম্বার মনে করে, ব্যবসা এবং বিনিয়োগকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে বাংলাদেশে অনেকেই হতাশাগ্রস্ত হয়ে তাঁদের জমানো অর্থ জমি কেনা, ইমারত নির্মাণসহ বিভিন্ন অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় করছে। ফলে আমাদের জমির মূল্য ব্যাপকভাবে বাড়ছে। পাশাপাশি উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ না হওয়ায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হচ্ছে না।

'গ্লোবাল এন্টারপ্রেনারশিপ রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশনের (জিইআরএ) তথ্যানুসারে, বাংলাদেশে তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে তাদের ৭২ শতাংশ মনে করে তারা ব্যর্থ হবে। এ কারণে ঢাকা চেম্বার সারা দেশ থেকে উদ্যোক্তা হতে আগ্রহী তরুণদের মধ্য থেকে দুই হাজার জনের প্রকল্প ধারণা গ্রহণ করবে। আগ্রহী উদ্যোক্তারা অনলাইনের মাধ্যমে তাঁদের প্রকল্প পাঠাবেন। ইতিমধ্যে ৫০০ প্রকল্প ধারণা জমা পড়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার। আরো যাঁরা প্রকল্প ধারণা জমা দিতে চান তাঁরা ঢাকা চেম্বারের ওয়েবসাইটে গিয়ে (www.dcci.org.bd) ফরম পূরণ করে জমা দিতে পারবেন। অথবা মতিঝিলে ঢাকা চেম্বারের কার্যালয়ে গিয়ে প্রকল্প ধারণা জমা দেওয়া যাবে।

সব উদ্যোক্তা ও তাঁদের প্রকল্পের রূপরেখা 'ডাটাবেজে' সংরক্ষণ করা হবে। এরপর তাঁদের প্রশিক্ষণ, দৈনন্দিন পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ প্রদান করে সফল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে সহায়তা করবে চেম্বার। এ ছাড়া সেরা প্রকল্পগুলোকে বাছাই করে পুরস্কারও দেওয়া হবে।

ঢাকা চেম্বার তাদের প্রকল্পের নাম দিয়েছে 'ডিসিসিআই এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড ইনোভেশন এঙ্পো'। গত জুন মাসে এ প্রকল্প শুরু হয়েছে। আগামী বছর মে মাসে এটি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশ থেকে উদ্যোক্তাদের প্রকল্প ধারণা জমা নেওয়ার কাজ চলবে।

বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, এনজিও, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বৈদেশিক মিশনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ উদ্যোগের সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার।

মূল লক্ষ্য কর্মসংস্থান তৈরি : ঢাকা চেম্বার মনে করে, দেশে কর্মসংস্থান তৈরি করতে হলে উদ্যোক্তা তৈরির বিকল্প নেই। এ ধারণা থেকে ঢাকা চেম্বার উদ্যোক্তা তৈরির প্রকল্প হাতে নিয়েছে। সংগঠনটি মনে করে, বাংলাদেশে তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে বর্তমানে অনেকেই হতাশাগ্রস্ত। এ কারণে বিশ্বের মধ্যে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে বাংলাদেশের অবস্থান খুবই নেতিবাচক। উৎপাদনশীল খাতে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির মাধ্যমেই ঘরে ঘরে চাকরি দেওয়ার লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে।

সারা দেশ থেকে নেওয়া হবে নতুনদের : দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজ থেকে সদ্য শিক্ষাজীবন শেষ করে যাঁরা নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ইচ্ছুক তাঁরা ঢাকা চেম্বারের এ উদ্যোগে অংশ নিতে পারবেন।

যেসব খাতের প্রকল্প বিবেচনায় নেওয়া হবে : শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও যোগাযোগ; সৌর বিদ্যুৎ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিকল্প জ্বালানি, বায়োগ্যাস, ফ্যাশন ডিজাইনিং, ব্র্যান্ডিং ও মিডিয়া, প্রসাধনী উৎপাদন, স্থাপত্য ও কারু শিল্প, পরিবেশ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা; আইটি, আইটিইএস, আউটসোর্সিং এবং ই-কমার্স; ইলেকট্রনিকস ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃষি এবং কৃষিজাত পণ্য ও সেবা এবং রপ্তানি খাত।

যেসব সুবিধা পাবেন নতুন উদ্যোক্তারা : নতুন উদ্যোক্তাদের প্রকল্প সংরক্ষণের পাশাপাশি ঢাকা চেম্বার তাঁদের প্রশিক্ষণ প্রদান করে তা উদ্যোক্তাদের উপস্থাপিত প্রকল্প অনুযায়ী প্রস্তুত করবে। ঢাকা চেম্বার দৈনন্দিন মনিটর ও পরামর্শ দিয়ে সফল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে সহায়তা করবে। এ ছাড়া দেশের স্বনামধন্য প্রশিক্ষকদের মাধ্যমে বিভিন্ন সেমিনার, প্রশিক্ষণ আয়োজনের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত ও 'গাইডলাইন' প্রদান করা হবে। ঢাকা চেম্বার জানিয়েছে, নতুন উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে ১০০ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠনের বিষয়ে কাজ করছে।

 

 

 



সাতদিনের সেরা