kalerkantho

শুক্রবার । ১২ আগস্ট ২০২২ । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৩ মহররম ১৪৪৪

‘আর মনে হয় মোরা লঞ্চে আমু না’

এস এম আজাদ, শিবচর (মাদারীপুর) থেকে   

২৬ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘আর মনে হয় মোরা লঞ্চে আমু না’

বরগুনার পাথরঘাটার যুবক মেহেদি হাসান (২৫)। তিনি অনেকের সঙ্গে লঞ্চে করে এসেছেন মাদারীপুরের শিবচরের কাঁঠালবাড়ীর ফেরিঘাটে। গতকাল শনিবার ভোরে লঞ্চ থেকে নেমে তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু দেখমু। মুই সারা দিন থাকমু।

বিজ্ঞাপন

ম্যালা মানুষ একলগে আইছি আনন্দ করতে করতে। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ হুইন্যা হের পর লঞ্চে কইর‌্যা যামু। আর মনে হয় এই এলাকায় মোরা লঞ্চে আমুনা। ’ মেহেদী বলেন, বরগুনার দক্ষিণ-পশ্চিমের থানা পাথরঘাটার মানুষ লঞ্চে যাতায়াত করে। পথে সময় লাগে ১৬ থেকে ২০ ঘণ্টা। তবে পদ্মা সেতু হওয়ায় তাদের কষ্ট লাঘব হবে। ঢাকা থেকে তারা বরিশাল হয়ে সড়কপথে গিয়ে কিছুটা নৌপথে এক দিনের মধ্যে বাড়ি আসা-যাওয়া করতে পারবে।

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের কাছে মহিপুরে বাড়ি মামুন হোসেনের। গতকাল লাখো মানুষের ভিড়ে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। মামুন বলেন, ‘আমাদের এলাকাটা সবচেয়ে দূরে, নদীপথের কারণে আমাদের সব চেয়ে বেশি সময় লাগত। কুয়াকাটায়ও লোক কম হয়। এবার আমাদের যোগাযোগ বাড়বে। ’

মেহেদি ও মামুনের মতো অনেকেই উচ্ছ্বাস নিয়ে জড়ো হয় কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাটে। গতকাল পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর জনসভায় যোগ দিতে দূর-দূরান্ত থেকে এসেছে লাখো মানুষ। গতকাল সকাল থেকে শুরু হওয়া এই জনসভায় ক্ষণে ক্ষণে রোদ ও বৃষ্টি হয়। রোদের দাবদাহে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণ শোনে।

সকাল ১০টায় ও পৌনে ১টার দিকে দুই দফায় বৃষ্টি হয়। কলাপাতা মাথায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে ছুটতে দেখা যায় হাজার হাজার মানুষকে। তাদের অনেকে ভিজেছে। এমন একজন জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘বৃষ্টি একটু পর থাইমা যাইব। তাই খাড়ায়া সময় নষ্ট করা যাইব না। যত আগে যামু তত কাছে থাইকা সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুনতে পারমু। ’

বরিশাল থেকে লঞ্চে এসে ঘাটেই জনসভা দেখছিলেন নূরুল আমিন মিয়া (৫০)। তিনি বলেন, ‘তারে দেখতে মুই আইছি। মোগো শেখের বেটি কামডা কী করছে! দেখাইয়া দিছে। মোগো হেরপিন্নে আর ঘাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বইয়া থাকতে হইবে না। ’

খুলনা থেকে এসেছেন মুক্তিযোদ্ধা আব্বাস উদ্দিন। বয়স ৭০ ছুঁই ছুঁই। সকাল সাড়ে ৭টায় পদ্মার পারে প্রধানমন্ত্রী জনসভাস্থলে এসে উপস্থিত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু ঘোষণার দিন থেকেই ইচ্ছা ছিল প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে আসব। শুক্রবারই আসার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু পরিবারের লোকজন আসতে দেয় নাই। পরে রাত ৩টার দিকে গাড়িতে করে রওনা দেই। সকাল ৭টায় শিবচর উপজেলার পাচ্চর নামিয়ে দেয়। পরে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার হেঁটে সভামঞ্চের কাছে এসেছি। ’



সাতদিনের সেরা