kalerkantho

মঙ্গলবার । ৮ আষাঢ় ১৪২৮। ২২ জুন ২০২১। ১০ জিলকদ ১৪৪২

দেশের প্রথম প্রধান বিচারপতির শপথ অনুষ্ঠানের ছবি জাজেস লাউঞ্জে

রেজাউল করিম   

৮ জানুয়ারি, ২০১১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশের প্রথম প্রধান বিচারপতির শপথ অনুষ্ঠানের ছবি জাজেস লাউঞ্জে

দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শপথ পাঠ করান দেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে। ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারির ওই শপথ পাঠ অনুষ্ঠিত হয়। ওই ঐতিহাসিক ছবিটি এখন জাজেস লাউঞ্জে। দেশের প্রথম প্রধান বিচারপতির শপথ অনুষ্ঠানের ছবির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে তা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের সম্মেলনকক্ষে টাঙানোর নির্দেশ দেন বর্তমান প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। প্রধান বিচারপতির নির্দেশে গত মঙ্গলবার ছবিটি টাঙানো হয়। আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম ১৯৬২ সালের ৩ জুলাই হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বিচারপতি সায়েমকে ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি দেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশে প্রথম প্রধান বিচারপতিকে বঙ্গভবনে শপথ পাঠ করান। ১৯১৬ সালের ৮ জুলাই আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম বর্তমান রংপুর জেলায় (তৎকালীন বাংলা প্রদেশের অংশ) জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রংপুর জেলা স্কুলে পড়ালেখা করেন এবং পরবর্তী সময়ে কারমাইকেল কলেজে ভর্তি হন। বিচারপতি সায়েম কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়ালেখা ও ইউনিভার্সিটি ল কলেজ থেকে আইনে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। কলকাতা কোর্টে আইনজীবী হিসেবে কাজ করার পর ১৯৪৭ সালে সায়েম ঢাকায় চলে আসেন। এখানে এসে তিনি ঢাকা হাইকোর্টে আইন ব্যবসায় মনোনিবেশ করেন। বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ এ কে ফজলুল হকের সঙ্গে সায়েম কাজ করেন। ওকালতি করার সময় তিনি ঢাকা হাইকোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ও একবার সহসভাপতি নির্বাচিত হন। পূর্ব পাকিস্তান আইনজীবী সমিতি, পূর্ব পাকিস্তান বার কাউন্সিল এবং ঢাকা বোর্ড অব দ্য স্টেট বাংক অব পাকিস্তানের সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ও ৬ নভেম্বর সামরিক অভ্যুত্থানের পর বিচারপতি সায়েমকে দেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৯৭৬ সালের ২৯ নভেম্বর তিনি জিয়াউর রহমানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। ১৯৭৭-এর ২১ এপ্রিল তিনি অসুস্থতার কারণে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ছেড়ে দেন। বিচারপতি সায়েম ১৯৯৭ সালের ৮ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৭৫ সালের পর তাঁর ক্ষমতা গ্রহণ অবৈধ ঘোষণা করে ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর তাঁর ভূমিকাও ছিল বিতর্কিত। তিনি বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের লোকদের হত্যাকাণ্ডটির বিচার বন্ধ করতে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করেছিলেন।


সাতদিনের সেরা