kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

দাঙ্গার রংচেতনা

সেলিনা হোসেন

১০ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



দাঙ্গার রংচেতনা

প্রচ্ছদ : নাজমুল আলম মাসুম

ম্যাট্রিক পাস করার পর কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হয়ে আমি ভীষণ খুশি হয়েছি। বড় জায়গায় এসে পড়ালেখা করব, এটা আমার স্বপ্নের দিক ছিল। প্রথমবার বাবার সঙ্গে কলকাতায় এসেছিলাম চোখের চিকিৎসার জন্য। এখন এসেছি পড়ালেখা করতে। আসার আগে বাবা বলেছেন, চোখের চিকিৎসায় ভালো হয়ে গেছিস। এবার লেখাপড়া করে অনেক বড় মানুষ হবি, এটা চাই। রাজনীতি করলেও কোনো ভুল পথে যাবি না।

 —বাবা, আপনার দোয়ায় আমি এগিয়ে যাব। বাবা, আপনি সব সময় আমার জন্য দোয়া করবেন।

বাবা হেসে আমাকে বুকে টেনে নিয়েছিলেন। আমি বাবার পায়ে হাত দিয়ে সালাম করেছিলাম। পরে মাকেও সালাম করেছিলাম। মা হাসতে হাসতে বলেছিলেন, বাবারে, তোর মুখের দিকে তাকালে আমার বুক ভরে যায়। আমি তো জানি, তুই আমাদের শান্তিতে রাখবি। তাই না রে খোকা?

—হ্যাঁ গো মা। আপনাদের আমি দুঃখে ভাসাব না।

আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল রেণু। বাবা ওর দিকে তাকিয়ে বলেন, মাগো, তুমি মন খারাপ করবে না। লেখাপড়া শিখে ও বড় মানুষ হোক। ও কলকাতায় গেলে তুমি মন খারাপ কোরো না।

রেণু মুখে কিছু বলে না। মা-বাবার পায়ে হাত দিয়ে সালাম করে। বাবা ওর মাথায় হাত রেখে আদর করে বলেন, ভালো থাকিস মা। মা ওকে বুকে জড়িয়ে ধরেন। রেণু খুশি হয়। চোখে-মুখে খুশির উচ্ছ্বাস ফুটে থাকে। আমি ওর দিকে তাকিয়ে মুগ্ধ হই। কিন্তু মা-বাবার সামনে দাঁড়িয়ে কিছু বলি না। এমন দৃশ্য নিয়ে আমি কলকাতায় এসেছিলাম। আজ আমার সামনে বেঁচে থাকা ফুল অনবরত সৌরভ ছড়ায়। আমি বেকার হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছি। আমার ভালো লাগার সীমা নেই। সবার সঙ্গে বন্ধুত্বের রেশ জেগে ওঠে। মুসলিম লীগের রাজনীতি আমার প্রাণের দীক্ষা। লেখাপড়ার সঙ্গে রাজনীতি মিলিয়ে বছর পেরিয়ে যায়। পাকিস্তানের দাবি উত্তাল হয়ে ওঠে। আমরা প্রচার করতে থাকি যে আমাদের এই দাবি হিন্দুদের বিরুদ্ধে নয়। আমাদের দাবি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে। আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক হব।

গড়ের মাঠে ১৬ আগস্ট সভা হবে। ঠিক করা হলো চারদিক থেকে শোভাযাত্রা করে লোকজন আসবে। ইসলামিয়া কলেজে জড়ো হবে ছাত্ররা। আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হলো যে আমি যেন কলেজে থেকে ছাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখি। এটা তো করবই। এর বাইরে আমাকে আর নুরুদ্দীনকে আরেকটা দায়িত্ব দেওয়া হলো। আমরা যেন ১৬ তারিখ সকাল ৭টায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে মুসলিম লীগের পতাকা উড়িয়ে আসি। আমরা সাইকেলে করে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে পতাকা টাঙিয়ে চলে আসি। কারো কাছ থেকে কোনো বাধা পাইনি। পরে শুনেছিলাম, পতাকা নামিয়ে ছিঁড়ে ফেলেছে বিরোধী দলের ছেলেরা। ফিরে আসার সময় আমরা বুঝতে পেরেছিলাম পরিস্থিতি খুব খারাপ। দাঙ্গার মহড়া চলছে। রিপন কলেজে ছাত্ররা পতাকা টাঙাতে গেলে ওদের আক্রমণ করা হয়েছে। চারদিকে এমন আক্রমণ চলছে।

বেলাল আমাকে বলল, তোরা যদি কিছুক্ষণ দেরি করে বউবাজার দিয়ে আসতি, তবে তোর আর নুরুদ্দীনের লাশ খুঁজে পাওয়া যেত না।

—আমারও পরিস্থিতি তাই মনে হচ্ছে। ঠিকই বলেছিস।

কাছে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেরা বলে, আমাদের মারলে আমরাও ছাড়ব না।

—আহ, থাম থাম। আমি ওদের শান্ত রাখার চেষ্টা করি।

কিছুক্ষণের মধ্যে দেখতে পাই মেয়েদের মন্নুজান হোস্টেল থেকে কয়েকজন ছাত্রী ইসলামিয়া কলেজে আসে। তারা হলো—হাজেরা, হালিমা, জয়নাব, সাদিকা। সবাইকে আমি চিনি। জিজ্ঞেস করলাম, কী হয়েছে?

—পরিস্থিতি খুবই খারাপ। দাঙ্গা শুরু হয়েছে।

কিছুক্ষণের মধ্যেই কয়েকজন ছাত্র রক্তাক্ত অবস্থায় ছুটে আসে। কাছে এসে দাঁড়ালে দেখতে পাই কারো পিঠে ছোরার আঘাত, কারো মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। সবার শরীরে রক্ত গড়াচ্ছে। আমার মাথা গরম হয়ে ওঠে। মেয়েরা এসে বলে, আমরা উনাদের জখমের জায়গা ব্যান্ডেজ করে দেব আমাদের শাড়ি-ওড়না ছিঁড়ে ছিঁড়ে। ওরা ব্যান্ডেজ করতে শুরু করে দিল। কাছেই আমার একজন পরিচিত ডাক্তার আছে। ব্যান্ডেজ করার পরই ওদের ডাক্তারের বাড়িতে পাঠাতে শুরু করলাম।

একজন ছাত্র বলল, হিন্দুরা একসঙ্গে জড়ো হয়ে আক্রমণ করছে। কিছুক্ষণ পরে খবর পেলাম, রিপন কলেজে ছাত্ররা পতাকা টাঙানোর সময় ওদের ওপর আক্রমণ করেছে।

এই দাঙ্গার ঘটনা আমার দেখা হয়নি। আমি প্রবলভাবে বিষণ্ন হয়ে যাই। কারণ আমি তো হিন্দু-মুসলিম বুঝি না, আমি বুঝি সবাই মানুষ। ধর্ম প্রত্যেক মানুষের পবিত্র বিশ্বাস। যিনি যে ধর্মের মানুষ, তিনি এই বিশ্বাস নিয়ে জীবন কাটাবেন। কেন ধর্মের নামে মানুষকে মেরে ফেলতে হবে? আমার মাথায় চেপে থাকে এই চেতনা। আমি মনে করি হিন্দু-মুসলিম যে-ই হোক, আমি তাকে বাঁচাব। আমার মানবিক চেতনাকে আমি খর্ব করব না।

ইসলামিয়া কলেজের চারপাশের এলাকায় হিন্দুরা বেশি বাস করে, বিশেষ করে সুরেন ব্যানার্জি রোড, ধর্মতলা, ওয়েলিংটন স্কয়ারে। হিন্দুদের বসবাস করা এই এলাকায় একটি মসজিদ আছে। আমাদের কাছে খবর এলো হিন্দুরা মসজিদ আক্রমণ করেছে। ইসলামিয়া কলেজের দিকে হিন্দুরা এগিয়ে আসছে। আমরা আহত ছাত্র-ছাত্রীদের তত্ত্বাবধানে রেখে অন্য ছাত্রদের নিয়ে ধর্মতলার মোড় পর্যন্ত চলে যাই। দেখি কয়েক শ হিন্দু মসজিদ আক্রমণ করছে। আমাদের দেখে মৌলভি সাহেব আমাদের কাছে ছুটে আসেন। দেখতে পাই একদল লোক লাঠি হাতে তাঁর পিছে ছুটে আসছে। তাদের দিকে তাকিয়ে থেকে আমার ক্রোধ বাড়তে থাকে। কেন এভাবে মানুষকে মারবে ওরা? একজন মৌলভি সাহেব কী অপরাধ করেছেন যে তাঁকে মারতে হবে। শুধু মারা না? মেরে ফেলতে হবে? এমন ভয়াবহ দাঙ্গা বাধানোর মানে কী? আমরা ৪০-৫০ জন লোক খালি হাতে দাঁড়িয়ে আছি। রাস্তার পাশে মুসলমানদের কয়েকটি দোকান ছিল। সেখান থেকে বের হয়ে কয়েকজন লাঠি হাতে নিয়ে আমাদের কাছে এসে দাঁড়াল। সেখানে দাঁড়িয়ে বেশ কয়েকজন লোক স্লোগান দিল—‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’।

অল্প সময়ে আমাদের চারপাশে অনেক লোক এসে দাঁড়ালে বেশ বড় একটা জমায়েত হয়। হিন্দুরা আমাদের কাছাকাছি এসে পড়েছে। আমাদের তো ওদেরকে বাধা দিতে হবে। আমরা আশপাশ থেকে ইটের টুকরো কুড়িয়ে ওদের দিকে ছুড়তে লাগলাম। কেউ কেউ আমাদের জন্য লাঠি জোগাড় করে আনল। আমরা অবশ্য ইট-পাটকেল দিয়ে আক্রমণ মোকাবেলা করলাম। একটু পরে একটি বড় শোভাযাত্রা আমাদের সঙ্গে এসে মিলল। ওদের সবার হাতে লাঠি ছিল। আমরা দুই দল মুখোমুখি হলে পুলিশ এসে কাঁদানে গ্যাস ছাড়ল। হিন্দুরা সরে গেল। আমরাও ফিরে এলাম। আমি তো জানি মুসলমানরা দাঙ্গার জন্য তৈরি ছিল না। মুসলমানরা আক্রমণ মোকাবেলা করছে মাত্র। কারণ হাতাহাতি-মারামারিতে কলকাতার দৃশ্যপট বদলে গিয়েছিল।

অনেক জখম হওয়া লোককে বিভিন্ন হাসপাতালে পৌঁছাতে হয়েছে। এত কাজের মাঝে নিজেকে কখনো ক্লান্ত মনে হয়নি। বারবারই মনে হচ্ছিল এই দায়িত্ব পালন করা জরুরি। মানুষের পাশেই যদি দাঁড়াতে না পারি, তাহলে আমি কেমন মানুষ, নিজেকেই প্রশ্ন করি। সঙ্গে সঙ্গে ধারণ করি মানবিক বোধের সর্বোচ্চ শিখর। ভুলে যাই ধর্মের কথা। ধর্মের ওপরে মানুষই সত্য।

ওয়েলেসলি, পার্ক সার্কাস, বেনিয়া পুকুর এরিয়ায় মুসলমানদের বসবাস ছিল বেশি। এসব এরিয়ায় যে হিন্দুরা বাস করত তারা গোপনে আমাদের কাছে সাহায্য চাইল। বিপদের ঝুঁকি নিয়ে বেশ কয়েকটি হিন্দু পরিবারকে নিরাপদ স্থানে পাঠাতে পারলাম। আমাদের হোস্টেলের আশপাশেও কিছু হিন্দু পরিবার ছিল, তাদেরও সুরেন ব্যানার্জি রোডে পৌঁছে দিতে পারলাম। কোনো কোনো বন্ধু খেপে গিয়ে বলে, তোর কী হয়েছে মুজিব? ওদের বাঁচাচ্ছিস কেন?

—আমি তো মুসলিমদেরও বাঁচাতে চেষ্টা করছি। আমরা সবাই মানুষ।

—এহ, পণ্ডিতি কথা! ভাগ এখান থেকে।

আমি কথা না বলে সরে আসি।

আমার সামনে এক ভয়াবহ কলকাতা, বিভিন্ন জায়গায় মরা মানুষের লাশ পড়ে আছে। এভাবে মানুষকে হত্যা করা যায়, ভাবতেও আমার ভয় করে। আমার মনে হচ্ছে মানুষ তার মানবতা হারিয়ে পশুতে পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যার পরে রাস্তায় বের হওয়া যায় না। গুলি করে মেরে ফেলে মিলিটারি। রাস্তায় পড়ে থাকে লোকেরা বুকে-পিঠে গুলি নিয়ে। দেখামাত্রই গুলি ছোড়ে। আমার মনে হয় মানুষের ছায়াকেও গুলি করে ওরা। কত নৃশংস আচরণ। আমাকে ব্যথিত করে। আমি কিছুই মানতে পারছি না।

একদিন মিল্লাত অফিস থেকে খবর পাঠানো হলো আমাদের ওই এলাকায় যাওয়ার জন্য। রাস্তায় কোনো গাড়ি নেই। আমাদের হেঁটে যেতে হবে, তাই রাস্তায় নেমে আমরা ছুটতে শুরু করলাম। লোয়ার সার্কুলার রোড পার হয়ে আমরা ছোট রাস্তায় ঢুকি। তখনই কারফিউর সময় হয়ে যায়। ঠিক করলাম কবরস্থানের পাশ দিয়ে হাঁটব। গাড়ির শব্দ শুনলে কোথাও লুকিয়ে থাকব। গাড়ি চলে গেলে আবার হাঁটব। এভাবে হাঁটতে হাঁটতে পার্ক সার্কাসের ময়দানের পেছনে এলাম। সেখান থেকে বেশ কিছুক্ষণ এদিক-ওদিক করে এক বন্ধুর বাড়িতে ঢুকলাম। বন্ধুর ম-বাবা আমাদের বের হতে দিলেন না। কারণ রাস্তার মোড়ে মিলিটারি বন্দুক উঁচিয়ে পাহারা দিচ্ছে।

বন্ধুর মা বললেন, বাবা, তুমি ভাত খেয়ে ঘুমাবে। রাতে তোমাকে বের হতে দেব না। সামনে বিপদ।

আমি বন্ধুর মায়ের পায়ে হাত দিয়ে সালাম করলাম। বললাম, মাগো, আপনি দোয়া করবেন।

—তোমার নাম কী বাবা?

—মুজিব। আমি ইসলামিয়া কলেজে পড়ি। দেশের বাড়ি ফরিদপুরের টুঙ্গিপাড়ায়।

—তোমার বাবার নাম কী?

—শেখ লুৎফর রহমান।

বন্ধুর বাবা এসে আমার মাথায় হাত রেখে বললেন, এত দূর থেকে কলকাতায় পড়তে এসেছ। খুব ভালো কথা। ভালোভাবে লেখাপড়া করে ভালো রেজাল্ট করবে।

আমি তাঁর পায়ে হাত দিয়ে সালাম করে বললাম, আচ্ছা চাচা।

এরপর অনেক গল্প হলো। রাতে ঘুম আসার আগে বারবারই ভেসে ওঠে এখানে আসার চিত্র। বুকের ভেতরে গুমগুম শব্দ হয়। নিজেই নিজেকে বলি, দেড় মাইল পথ হেঁটে এলাম, যেকোনো সময় গুলি খেয়ে মরতে পারতাম। আল্লাহর রহমত। এই ভাবনার মাঝে একসময় ঘুমিয়ে পড়ি।

সকাল ৯টার দিকে বেরিয়ে আসি বাড়ি থেকে। বন্ধুর বাবা বলেন, সাবধানে যেয়ো বাবারা। দল বেঁধে যেয়ো না।

আমি সঙ্গে সঙ্গে বলি, চাচা, আমরা যে যার পথে একা একাই যাই।

—দোয়া করি তোমাদের জন্য। যাও বাবারা।

আমরা যে যার পথে হাঁটতে শুরু করি। রাস্তায় তেমন লোকজন নেই। এবাড়ি-ওবাড়ির ফাঁকা জায়গা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। এমন সময় শুনতে পাই গুলির শব্দ। বাড়ির আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকি।

কিছুক্ষণ পরে প্রবল কান্নার শব্দ ভেসে আসে নারীর কণ্ঠ থেকে। সরাসরি বের না হয়ে মাথা আড়াল করে তাকাই ওদিকে। দেখি দুটি শিশুর রক্তাক্ত শরীর পড়ে আছে বাড়ির সামনে। একজন নারী শিশু দুটির রক্তাক্ত শরীর জড়িয়ে ধরে চিৎকার করছে। আমি চারদিকে তাকাই। দেখতে পাই বন্দুক হাতে দুজন পুলিশ অন্যদিকে চলে যাচ্ছে।

আমি হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে ওখানে গিয়ে পৌঁছাই। উপুড় হয়ে শিশু দুটিকে জড়িয়ে ধরি। আমার জামায় রক্ত লেগে ভরে যায়। শিশুদের মা কাঁদতে কাঁদতে জিজ্ঞেস করে, আপনার নাম কী?

—শেখ মুজিব। আমি ইসলামিয়া কলেজে পড়ি। আমি এই দাঙ্গা মানি না। আমার কাছে হিন্দু-মুসলমান বলে কেউ নেই। সবাই মানুষ।

—আমি বিজয়া, হিন্দু নারী।

—আপনার মাথায় সিঁদুর থেকে আমি বুঝেছি আপনি হিন্দু। এই শিশুদের জন্য যা কিছু করা লাগবে, আমি করব।

—দীপা-নীতার বাবা বাড়িতে নেই। মেয়েরা খেলতে বেরিয়েছিল। আমি ওদের ঘরে ঢোকানোর আগেই গুলি করল শয়তান পুলিশ।

—এটা পুলিশের খেলা। বন্দুক দিয়ে খেলছে। খেলতে খেলতে আনন্দের ফুর্তি ছড়ায় ওরা।

আমি দুই শিশুকে কোলে তুলে বুকে জড়িয়ে ধরি।

ওদের মা কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে পড়ে যায়। মাথায় হাত রেখে বুঝতে পারি তিনি জ্ঞান হারিয়েছেন।

আমি সামনে তাকিয়ে বুঝতে পারি দাঙ্গা থমথম করছে। ছেচল্লিশ সালের কলকাতা আমার সামনে দাঙ্গার কলকাতা হয়ে ওঠে। আমার স্মৃতি থেকে এই কলকাতা কোনো দিন মুছে যাবে না।