kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

কালের কণ্ঠ, পিএসটিসি ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ওয়েবিনার

‘নিরাপদ শহর : নীতি নির্ধারণে করণীয়’

২৩ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ১৯ মিনিটে



‘নিরাপদ শহর : নীতি নির্ধারণে করণীয়’

গত ১৩ এপ্রিল কালের কণ্ঠ, পিএসটিসি ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ‘নিরাপদ শহর : নীতি নির্ধারণে করণীয়’ শীর্ষক ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত হয়।

এতে অংশীজন ও বিশিষ্টজনদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও পরামর্শ নিয়ে আজ প্রকাশিত হলো বিশেষ ক্রোড়পত্র।

গ্রন্থনা করেছেন জহিরুল ইসলাম, ফাতিমা তুজ জোহরা ও সজীব আহমেদ। সমন্বয় করেছেন আজিজুল পারভেজ।

 

শহরকে নিরাপদ রাখতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি

ডা. এনামুর রহমান

নিরাপদ শহর নিয়ে যেসব আলোচনা হয়েছে সেগুলো যদি আমরা সমন্বয় করে গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়ন করি, তাহলে আমি আশা করছি, নগর নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের যে শঙ্কা কাজ করে সেটি দ্রুতই কাটিয়ে উঠতে পারব। কিভাবে শহরকে এগিয়ে নিয়ে যাব এবং শহরকে নিরাপদ রাখব তা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ২০২১ ও ২০৪১-সহ বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। আমি, আমার মন্ত্রণালয়ের সচিব ও চেয়ারম্যান—এ তিনজন মিলে সব সময় খুব গুরুত্বসহকারে কাজ করে যাচ্ছি। ফলে মন্ত্রণালয়ের কাজের গতি বেড়েছে এবং স্বচ্ছতাও এসেছে। সব অনিয়ম ও দুর্নীতি থেকে সরে জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি।

আমরা নগরের যে সমস্যাগুলো পাই তার অন্যতম হলো কাজগুলো অনেক সময় পরিকল্পনামাফিক হয় না। সেটা করার জন্য এরই মধ্যে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে এগুলোও কমে আসবে। আমরা ওয়াটার হাউজিং পুল নিয়ে কাজ করছি। কারণ আগুন লাগলে পানি সরবরাহ করতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। পৃথিবীর সব দেশেই আমরা দেখেছি ওয়াটার হাউজিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। আমরা কিভাবে এগিয়ে যাব এবং শহরকে কিভাবে নিরাপদ করব সেটা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছি। ঢাকার সিটি করপোরেশনগুলোকে আটটি জোনে ভাগ করা হয়েছে। সেখানে জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা নিরলসভাবে কাজ করছেন।

 

মানুষকে সচেতন করাই বড় কাজ

ইমদাদুল হক মিলন

বরাবরই আমরা ওয়েবিনার ও গোলটেবিলের আয়োজন করে থাকি; যার মাধ্যমে আমরা সারা দেশের মানুষকে একটা মেসেজ দিতে পারি যে আমরা এই কাজগুলো করছি। বক্তব্যগুলো পত্রিকার মাধ্যমে তুলে ধরলে লাখ লাখ মানুষের দৃষ্টিগোচর হয়। এতে সচেতনতা বাড়ে। নিরাপদ শহর এবং নীতিনির্ধারণে করণীয় শীর্ষক আলোচনায় আজ বলতে হয়, এই মুহূর্তে নিরাপদ শহর বলতে পৃথিবীতে কিছু নেই। আমরা যেমন কভিড-১৯ আক্রান্ত, তেমনিভাবে সারা পৃথিবীও আক্রান্ত। তাই আমরা কেউ নিরাপদ নই। কোনো শহর এখন নিরাপদ নয়। কিন্তু মানুষ সব সময় আশাবাদী এবং সব সময় সব দুর্যোগকে জয় করে। বাঙালি হিসেবে আমরা লড়াই করা জাতি এবং আমরা লড়াই করে প্রতিটি বড় লক্ষ্য অর্জন করেছি। আশা করছি, অচিরেই এই দুর্যোগ কাটিয়ে একটি সুস্থ সুন্দর স্বাস্থ্যকর পরিবেশের দিকে যেতে পারব। নিরাপদ শহরের বিষয়ে যদি শুধু ঢাকার কথা বলি তাহলে বলতে হয়, যে পরিমাণ মানুষ এখানে বসবাস করার কথা, তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি বসবাস করছে। সুতরাং একটি শহর যখন মানুষের ভারে ন্যুব্জ হয়ে যাবে, তখন স্বাভাবিকভাবে পরিবেশ নষ্ট হবে। এখন একটি একটি বিষয় ধরে কাজ করতে হবে। বসবাসের জায়গাটি থেকে শুরু করে শহরকে নিরাপদ রাখার জন্য কী কী করণীয়, সে বিষয়ে যদি মানুষকে আমরা সচেতন করতে পারি, যদি নাগরিকরা সচেতন হয়ে ওঠে তাহলে বড় কাজটি হয়ে যায়। কারণ মানুষের সচেতনতা হচ্ছে সবচেয়ে বড়। আপনি সচেতন হলে আরেকজনকে বলবেন, তিনি পাশের মানুষটিকে বলবেন। এভাবে সারা দেশ একই মনোভাব নিয়ে একত্র হবে। আমি আমার শহরটিকে নিরাপদ রাখব।

 

আমাদের মাস্টারপ্ল্যান থাকা উচিত

এ বি তাজুল ইসলাম

আমি একটি বিষয় লক্ষ করে দেখেছি, আমরা এ পর্যন্ত যা কিছু করেছি, মনে হচ্ছে সেগুলো অস্থায়ী ভিত্তিতে করছি। আমাদের সুপরিকল্পিত একটি মাস্টারপ্ল্যান থাকা উচিত। আমরা যদি পুরো মাস্টারপ্ল্যান একসঙ্গে বাস্তবায়ন করতে না পারি তাহলেও মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী ভাগ ভাগ করে কাজগুলো বাস্তবায়ন করলে সমস্যাগুলোর নিরসন সম্ভব। সারা দেশের একটি ডাটাবেইস থাকা উচিত, যা দেখে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারব, কোন অবস্থার পরিপেক্ষিতে কোন কাজটি আমরা করব। আগে পরিকল্পনা নেওয়া হতো, দুর্যোগ ঘটে যাওয়ার পর আমরা কী পদক্ষেপ নেব। এখন পরিকল্পনা পরিবর্তন করা হয়েছে, দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি যাতে কম হয় সে জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এর ফলে মানুষের জানমালের ক্ষতি কম হয়। এখন দুর্যোগ মোকাবেলায় আমরা অনেক এগিয়েছি। একটি রাষ্ট্র যতই বিজ্ঞানের দিক দিয়ে এগিয়ে যাক, দুর্যোগ তো একদম বন্ধ করতে পারবে না। তাই দুর্যোগ কিভাবে মোকাবেলা করে মানুষের ক্ষয়ক্ষতি আরো কমানো যায় সেটি নিয়ে আমাদের আরো কাজ করতে হবে। আমরা এ ব্যাপারে মাস্টারপ্ল্যান নিচ্ছি। আমি অনেক সময় দেখেছি, নিজের কাজটি দক্ষতার সঙ্গে না করে আমরা অন্যের কাজে ভুল ধরতে পছন্দ করি। আমরা যদি প্রত্যেকে নিজের কাজটি দক্ষতার সঙ্গে পালন করি তাহলে কাউকে দোষারোপ করার প্রয়োজন পড়ে না। সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন ১২৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে সরকার। প্রকৃতপক্ষে বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে তাঁদের দক্ষতা কি বাড়ছে? আনুপাতিক হারে বাড়েনি। কিন্তু দক্ষতা বাড়ার দরকার ছিল। সমন্বয় না থাকার কারণে আমরা অনেক পিছিয়ে রয়েছি। এই দেশটি আমার, আপনার—সবার। তাই পরবর্তী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ শহর রেখে যেতে হলে সবার সমন্বয়ে কাজ করতে হবে।

 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে ‘রোল মডেল’

মো. মোহসীন

বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে আজ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় রোল মডেল। এর পরও আমাদের আরো অনেক দূর যেতে হবে। আমাদের যে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে কমিটিগুলো আছে, সবগুলোকে আরো অ্যাক্টিভ করা গুরুত্বপূর্ণ। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও নিরাপদ শহরের কাজটি সবাই মিলেই করতে হবে। আমরা জানি, বাংলাদেশের নগরায়ণের গতি উন্নয়নের অগ্রগতির সঙ্গে জড়িত। রাতারাতি মানুষ শহুরে হয়ে যাচ্ছে। তবে আমরা যখন উন্নত দেশগুলোকে দেখি সেখানে মানুষ আগে আবাসন তৈরি করে, এরপর মানুষ বসবাস করে। কিন্তু আমাদের এখানে আগে মানুষ আসে, এরপর আবাসন তৈরি করে। এ জন্যই গ্রামগুলোকে শহরের সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। এটি নিয়ে আমরা কাজ করছি; বাস্তবায়িত হলে মানুষের শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা কমে আসবে বলে আমি মনে করি। এ জন্য যাঁরা গবেষক, নীতিনির্ধারক ও সহযোগী সংগঠক সবাই সম্মিলিতভাবে এই নগরকে বাসযোগ্য করতে কাজ করতে হবে। আশার কথা হলো, এত কিছুর পরও পৃথিবীতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ রোল মডেল। এখন নগর শুধু জেলাগুলোতে নয়, উপজেলাগুলোও নগর পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। মন্ত্রণালয় থেকে অনেক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

নগরকে নিরাপদ করতে সমন্বয়ের সঙ্গে কাজ করতে হবে

ড. নূর মোহাম্মদ

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বে রোল মডেল। এর পরও প্রত্যন্ত অঞ্চল ও শহরের দুর্যোগের মধ্যে যে পার্থক্য বিদ্যমান তা আমরা সেভাবে অনুভব হয়তো করি না। দুর্যোগ থেকে যখন আমরা শহরকে নিরাপদ রাখার কথা বলি তখন তার গুরুত্ব বোঝা জরুরি। আবার নিরাপদ শহর মানে শুধু ঢাকা শহর নয়, অন্য শহরগুলোকেও এই ভাবনার, পরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে। বন্যা আমরা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছি। অগ্নিকাণ্ড আর একটি দুর্যোগ, যা নির্বাপণের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। যদিও এ নিয়ে আমরা কাজ করছি এবং সফলতার সঙ্গে এগোচ্ছি। ভূমিকম্প আমাদের হৃৎকম্পন বাড়ানোর মতো অবস্থায় রয়েছে। এ দুর্যোগ নিয়ে আমাদের আরো কাজ করতে হবে। নগরকে যদি আমরা নিরাপদ করতে চাই, তাহলে হাতে হাত রেখে সমন্বয়ের সঙ্গে কাজ করতে হবে। তাহলেই আমরা নিরাপদ শহর পাব, নিরাপদ বাংলাদেশ পাব।

 

 

ঢাকা শহরকে মেগা সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছি

মো. সেলিম রেজা

ঢাকা মহানগরী অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ। তবে সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একে নিরাপদ করা সম্ভব। আমরা রাস্তাগুলো আধুনিক করছি। বিভিন্ন মেগা প্রজেক্টের জন্য রাস্তা খোঁড়ার অনুমতি দিতে হচ্ছে। এর কারণে ধুলা ও দূষণ কমানো সম্ভব হচ্ছে না। রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি নগরজীবনকে বিপর্যস্ত করে। আমরা ১১টি আধুনিক ইউটার্ন করছি। ৫০ হাজার এলইডি বাতি লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছি। ২৩টি পার্ক আমরা উদ্বোধন করতে যাচ্ছি। ‘সবার ঢাকা’ অ্যাপ করা হয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে ছবি তুলে অসংগতিগুলো দেখাতে পারেন। আমরা সেটা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অ্যাড্রেস করার চেষ্টা করছি।

ওয়াসা, ডিপিডিসি, ডেসকো বিভিন্ন সংস্থা মিলে সমন্বয়ের ভিত্তিতে আমরা কাজ করছি। এত কিছুর পরও সমন্বয়ের অভাব আছে। একটা খালকে আধুনিক রূপ দিতে হলে শত কোটি টাকার বাজেট চলে আসছে। এ জন্য আস্তে-ধীরে এগোতে হচ্ছে। তার পরও ঢাকা শহরকে মেগা সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছি। দুর্যোগ যেকোনোভাবে আসতে পারে। ভূমিকম্প মোকাবেলা করার জন্য রাস্তা পাওয়া যায় না। এ সমস্যা সমাধানে রাজউককে এগিয়ে আসতে হবে। এই প্ল্যান পাস রাজউক কিভাবে করল সেটি দেখতে হবে। আইন কঠিনভাবেও নগরবাসীর ওপর প্রয়োগ করা যায় না। এ জন্য সব সংস্থাকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ কিভাবে দুর্যোগ প্রতিহত করবে, জানে। কিন্তু ঢাকা মহানগরীতে সেই প্ল্যান নেই।

 

আমরা অগ্রসর আছি, প্রয়োজন সমন্বয়

ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল

আমরা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় অনেক এগিয়ে আছি। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা অনেক উন্নত দেশের পরিকল্পনা থেকেও এগিয়ে। এখন নিরাপদ শহর যদি আমরা বলি, বাংলাদেশ কোন পর্যায়ে আছে? দুই বছর আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি নীতিনির্ধারণী নির্দেশনা ছিল। সে ব্যাপারে একটি মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়। দুই বছর পার হলেও সেটি অনুমতি পায়নি। এটি সমস্যা সমাধানের অন্তরায়। যদি একাডেমিয়া এবং সরকারের মধ্যে সমন্বয় না থাকে, তবে কিছু দুর্বলতা থেকে যায়, যা পরে দূর করা যায় না। আমাদের এখানে এক ধরনের বিদেশনির্ভরতা দেখা যায়। বাইরে থেকে একটি সংস্থা এনে কাজ করানো হয়। অথচ আমাদের দেশে সে ধরনের কাজ করার জন্য যথেষ্ট দক্ষ জনবল রয়েছে। বিদেশিরা আসে, তারপর তারা চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেসব তথ্যের আর হদিস থাকে না। কোনো তথ্য সংগ্রাহাগারে থাকে না। বই আকারে টেবিলেই থেকে যায়। বিদেশিদের কাজে লাগানোর কারণে আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক মেধাকে কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

আর শহরের কথায় বলতে হয়, পুরান ঢাকায় যদি মাঝারি মানেরও কোনো দুর্যোগ হয়, কী হবে? কিভাবে মোকাবেলা করা যাবে। ইরানের পুরনো একটি শহরে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পে সব লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল। সেখানকার ২৭ হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যাঁরা আছেন, তাঁদের কাছে আবেদন থাকবে, আরবান রিজেনারাইজেশনের কনসেপ্ট নিয়ে কাজ করুন। বেশ কিছুদিন আগে শুনেছিলাম, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) প্রাইভেট-পাবলিক পার্টনারশিপ প্রক্রিয়ায় পুরান ঢাকাকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করবে এবং জনগোষ্ঠীকে বিভিন্নভাবে সেখান থেকে সরাবে।

ওয়াসার যে লাইনগুলো আছে, ড্রেনেজ সিস্টেম যেটি আছে, সেই ড্রেনেজ সিস্টেমকে ক্লাইমেটের বিষয় বিবেচনা করে নগরের জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণের জন্য উন্নত করতে হবে। সেটির জন্য প্রয়োজন সমন্বয়। এক রাস্তাকে আমরা কয়েকবার কাটতে দেখি। কখনো গ্যাস, কখনো ইলেকট্রিসিটি, কখনো ওয়াসা। এই জায়গায় যদি সমন্বয় করা না যায়, যে দুর্যোগ আছে তা থেকেই যাবে।

ভবিষ্যতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যদি সমন্বয় করতে পারেন, তবে দুর্যোগ বহুলাংশে কমে যাবে। শহর এলাকায় এখন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। এসবের সমন্বয় না থাকায় বায়ু ও শব্দদূষণ বাড়বে। ফলে আমাদের সন্তানরা কর্মক্ষমতা হারাবে।

আরেকটি বিষয় হচ্ছে, কাজের পরিবেশ করে দিতে হবে। শিল্প-কারখানা বাড়ছে, সেটি ভালো। কিন্তু ৩৫ শতাংশ শ্রমিক কর্মক্ষমতা হারাচ্ছেন শুধু কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও জীবনের নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকার কারণে। এ জন্য আইন করা দরকার এবং তা বাস্তবায়ন করা দরকার। এসব বিষয়ে আমাদের মনোযোগের অভাব রয়েছে। এ কারণে বিভিন্ন সেক্টরের কর্মীরা উৎপাদনক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন, একেকজন অল্প বয়সে বৃদ্ধ মানুষে পরিণত হন। আর প্রকল্প আসে, প্রকল্প যায়। প্রকল্পের তথ্য-উপাত্ত পরে পাওয়া যায় না। এর জন্য ডাটাবেইস দরকার। আমি বলব, ডিজিটাইজেশনের এই যুগে ডাটার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

 

জেলা-ইউনিয়ন পর্যায়ের নেটওয়ার্ক নগরেও কার্যকর করতে হবে

এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী

বাংলাদেশ এখন দুর্যোগ মোকাবেলায় একটি মডেল। গ্রামীণ পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পেরে আমরা রোল মডেল হতে পেরেছি। সিটি করপোরেশন থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে আমাদের নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সার্বক্ষণিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সক্ষম। তবে ভূমিকম্প হয়ে গেলে কতটুকু ব্যবস্থা নিতে পারি, সেটি ভাবার বিষয়। জেলা-ইউনিয়ন পর্যায়ে যেসব নেটওয়ার্ক আছে, সেগুলোর সঙ্গে শহরে দুর্যোগ মোকাবেলায় সম্পৃৃক্ত হওয়া দরকার। এটি নিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়কে কাজ করতে হবে। দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করছে। খালগুলো দখল হয়ে গেছে। বন্যা নিয়ে ঢাকা শহরে কাজ করতে হচ্ছে না। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় যথেষ্ট সক্ষম আমরা। নিরাপদ নগরে খাদ্য, সুষ্ঠু স্যুয়ারেজ, যানজটমুক্ত রোড ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নির্মল বায়ু, সুপেয় পানির প্রয়োজন আছে। এগুলোর পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবেলায় সক্ষমতা কতটুকু, সেটিও বিবেচনায় আনতে হবে। দুর্যোগ মোকাবেলায় শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকেও এগিয়ে আসতে হবে।

 

স্বেচ্ছাসেবীদের যুক্ত করতে হবে

মোস্তাক হোসেন

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সঙ্গে অনেক কাজ করছি। ওয়ার্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট নিয়ে যাঁরা কাজ করছেন তাঁদের সঙ্গেও কাজ করা হয়েছে। তাই বলতে পারি স্ট্যান্ডিং অর্ডার অ্যান্ড ডিজাস্টার শুধু না, পাশাপাশি ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট এবং ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যানিং (ড্যাপ) খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি বাংলাদেশের নগরায়ণের সঙ্গে জড়িত। বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। নগরে প্রাইভেট সেক্টর অনেক বেশি লোকবল নিয়ে কাজ করে। যেখানে বেশির ভাগই নারী। গ্রামীণ জীবনের কথা যদি বলি, একটা সময় নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের কথা বলা হচ্ছিল। নগরায়ণের দুর্যোগের ক্ষেত্রেও একই বিষয়গুলো খাটে। একজন নারী যখন শহরে কাজ করেন তখন তিনি গ্যাস ব্যবহার করেন, পানি ব্যবহার করেন। যদিও এসবের সঙ্গে আমরাও জড়িত। তবে তাঁরাই বেশি করে। এই সেবাগুলো যদি ভেঙে পড়ে তাঁরা আমাদের চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাহলে নিরাপদ নগরের ক্ষেত্রে এই আলোচনাগুলো নিয়ে আসতে হবে। নিরাপদ শহরের জন্য অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্প, যানজটসহ বিভিন্ন বিষয় মাথায় রাখতে হবে।

আরেকটি বিষয় হচ্ছে—আরবান কমিউনিটি ভলেন্টিয়ারের ওপর জোর দেওয়া। কারণ নগরের দুর্যোগে তারাই সবার আগে এগিয়ে আসে। সিটি করপোরেশন খাল উদ্ধারের চেষ্টা করছে। এ ছাড়া সাইকেল লেনের জন্যও উদ্যোগ নিয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, চূড়িহাট্টার অগ্নিকাণ্ডে যারা কাজ করেছে, তারা সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হয়েছে। তাদের সে বিষয়গুলো জানা এবং তথ্য হিসেবে নথিভুক্ত করে পলিসি লেভেলে নিয়ে যাওয়া। এরপর সমাধান করা গেলে পরবর্তী সময়ে সেই সমস্যা থাকবে না। তবেই আমরা নিরাপদ শহরের কাজে এগিয়ে যাব।

 

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ দুর্যোগপ্রবণ

আবদুল লতিফ খান

বাংলাদেশের নগরায়ণ নিয়ে কথা বলতে গেলে শুরুতেই আমাদের বলতে হবে এবং মনে রাখতে হবে যে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ দুর্যোগপ্রবণ দেশ। কাজেই এই দুর্যোগ শহরে ও গ্রামে সমানভাবে আক্রান্ত করে। এর পরও সরকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে। আমরা যদি সত্তরের দশকের দিকে তাকাই, সে সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিষয়টি ছিল রেসপন্সকেন্দ্রিক। অর্থাৎ একটা দুর্যোগ হবে ত্রাণবিতরণ হবে। আশির দশকের দিকে সব মিলিয়ে একটি ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট সঙ্গে নিয়ে কাজ শুরু হয়। পরে ২০০০ সালের পর এটিকে আরো ব্যাপক পরিসরে দেখা হয়। শুরুতেই বলেছি, বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপূর্ণ দেশ। যখন সারা পৃথিবীতে নগরায়ণ হচ্ছে, বাংলাদেশ তার বাইরে নয়। বাংলাদেশে নগরায়ণের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কারণ দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তন। প্রতিবছর দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ শুধু নদীভাঙনে ঘরবাড়ি হারায়। জীবন-জীবিকার জন্য তাদের শহরে চলে আসা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাভাবিক জীবন-জীবিকা ব্যাহত হচ্ছে। সে কারণেও মানুষ নগরের দিকে ঝুঁকছে।

বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টে বাংলাদেশে নগরে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ৭০ শতাংশ বলা হয়েছে। এ ছাড়া ২৫ শতাংশ মানুষ নগরায়ণ পাবে। একটি তথ্যসূত্রে পাওয়া যায়, আমাদের ৫২২টি আরবান সেন্টার ছিল, যা বেড়ে ৫৭০টি হয়েছে। দেশের আয়তনের ৮৮ হাজার ৬৭.৪২ বর্গকিলোমিটার হচ্ছে আরবান এরিয়া। নগরে পপুলেশন ডেনসিটি অনেক বেশি। স্বাধীনতার পর থেকে নগরে আসা-যাওয়া দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৫০ সালের মধ্যে ২০০ মিলিয়ন মানুষের ৫০ শতাংশ নগরে বাস করবে। নগরায়ণ বলতে শুধু বড় শহর নয়, বিভাগীয় ও জেলা শহর থেকে শুরু করে উপজেলা শহরও। নগরায়ণের ফলে বহুতল ভবন নির্মিত হচ্ছে, গাড়ি লাগছে, জনসংখ্যা বাড়ছে। আরবান প্ল্যানিংয়ের অভাবে নগরে বন্যা বা জলাবদ্ধতা থাকে, স্বাস্থ্য সমস্যা, অগ্নিকাণ্ড, ভবনধস, পাহাড়ি অঞ্চলে পাহাড়ধস, শহরকেন্দ্রিক কলকারখানা, সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি, ভূমিকম্প ইত্যাদি। এসব মোকাবেলায় কাজ করছে সরকার। আমাদের রিলিজিয়ান সিটি তৈরি করতে হবে। যেটি একদিনে সম্ভব নয়। আস্তে আস্তে পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে এমন একটি শহর তৈরি করতে হবে, যাতে দুর্যোগের ক্ষতি সহজে কাটিয়ে ওঠা যায়। এ জন্য সরকার ভয়াবহতা কমাতে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট মডেল তৈরি করেছে। প্রথম রিস্ক চিহ্নিত করতে হবে। পরে সেটি ম্যানেজ করা। তারপর রেসপন্সের জন্য তৈরি করা। দেশের নগরঝুঁকির বিষয়ে মাথায় রাখতে হবে। কিছু বিষয় আমাদের এগিয়ে রেখেছে। এর মধ্যে গুড কমিউনিটি, সামাজিক সুরক্ষা, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, নারীশিক্ষা, জিডিপি বৃদ্ধি, গড় আয়ু বৃদ্ধি, সামাজিক বন্ধন, রাজনৈতিক অঙ্গীকার, স্বেচ্ছাসেবক, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পলিসি, প্ল্যান ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট, বিল্ডিং কোড। সরকার সহনশীল নগর করার জন্য অনেকগুলো উদ্যোগ নিয়েছে। সিটি করপোরেশন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িতদের সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পেরেছি। পরিকল্পনায় কিছু বিষয় দেখা দরকার। একটি হচ্ছে, পলিসির বিষয়গুলো সাধারণ মানুষকে জানানো। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়ার্ড ডিজাস্টার কমিটি করা হচ্ছে। গ্রাম ও শহরের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে সেটি পরিবর্তন করতে হবে। পরিকল্পনাগুলো প্রতিনিয়ত আপডেট করে রাখতে হবে।

 

এসওডি অনুসারে ওয়ার্ড কমিটিগুলোকে সক্রিয় করছি

মো. আতিকুল হক

সিটি করপোরেশন ও ওয়ার্ড কমিটিগুলোকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় কিভাবে সক্রিয় করা যায় তার জন্য আমরা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছি। এরই মধ্যে ওয়ার্ড কমিটিগুলোকে নগর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে কাজ করছি। চলতি অর্থবছরে আমরা তিন হাজারজনকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। আমাদের সঙ্গে পিএসটিসি, কেয়ার, প্ল্যান, সেভ দ্য চিলড্রেন কাজ করছে। আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী কিভাবে কমিটির মেম্বারদের ট্রেনিংয়ের আওতায় আনতে পারি সে লক্ষ্যে কাজ করছি। এসওডি (দুর্যোগবিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলি) অনুসারে কমিটিগুলোকে সক্রিয় করতে আমরা কাজ করছি। নতুন কমিটি আসার সঙ্গে সঙ্গে নতুন যাঁরা নির্বাচিত হবেন, তাঁদের ট্রেনিংয়ের আওতায় নিয়ে আসতে আমরা এক্সটেনসিভ প্রগ্রামও নিয়েছি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করতে আমাদের অধিদপ্তর থেকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ও প্রস্তুতি আছে।

 

 

রাজউক নিরাপদ নগরী বিনির্মাণে কাজ করছে

মেজর (অব.) প্রকৌশলী সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী

স্বাস্থ্যঝুঁকি, যানজট, অনিরাপদ খাদ্য, দুর্যোগ থেকে নিরাপত্তা দিতে পারলে সেটিকে নিরাপদ শহর বলা হবে। জনঘনত্ব নিয়ে রাজউক কৌশলগত প্ল্যান করে থাকে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়ে। কোন এলাকায় কত জনঘনত্ব হবে, সেটি নিয়েও কাজ করেছি। এটি শারীরিক স্বাস্থ্যের মধ্যে পড়ে। আমরা মানসিক স্বাস্থ্যের দিক বিবেচনায় হাতিরঝিল করেছি। নিরাপদ নগরীতে নির্মল বায়ুর কথা বলেছি, যেটি সেখানে পাওয়া যাবে। ট্রাফিকের জন্য আমরা ফ্লাইওভার নিয়ে কাজ করছি। কুড়িল ফ্লাইওভারে ২০টি ওয়েতে এখানে গাড়ি চলাচল করতে পারে। উত্তরা-পূর্বাচলকে আধুনিক নাগরিক পরিকল্পনা অনুযায়ী করেছি। রাস্তা বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছি। ৬ শতাংশ রাস্তা আছে, এখন আরো ২ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছি। নগরের নির্মল বায়ুর জন্য খালগুলো নিয়ে প্ল্যান করেছি। প্ল্যানগুলো জনসংখ্যার ঘনত্ব বিবেচনা করে করছি। সেখানে স্কুল জোনিং করেছি। অর্থাৎ বাড়ি থেকে স্কুলের দূরত্ব পাঁচ থেকে ১০ মিনিট হবে। আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় সব ধরনের সুবিধা রেখে পরিকল্পনা করেছি। ঢাকা শহরের ২৫ শতাংশ জায়গা কৃষিজমির জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। আগুন, ভূমিকম্প, বন্যা—এই ঝুঁকিগুলো নিয়েও কাজ করছি। রাজউকের পরিকল্পনার আওতায় অগ্নিকাণ্ড নির্বাপণের বিষয়টি রেখেছি।

 

সিটি করপোরেশনকে ওয়ার্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট কমিটিকে আত্তীকরণ করতে হবে

মানিক কুমার সাহা

সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, ঢাকায় প্রতিদিন ১১০০ থেকে ১৪০০ লোক যুক্ত হচ্ছে। তাদের জন্য যেসব সুযোগ-সুবিধা যুক্ত হওয়ার কথা তা হচ্ছে না। ঢাকা শহরে ৪২টি সংস্থা নানা সেবা দেয়। সিটি করপোরেশন ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট কমিটি, ওয়ার্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট কমিটি আছে। কিন্তু এগুলোর যে মিটিং হওয়ার কথা তা সেভাবে হচ্ছে না। ওয়ার্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট কমিটিকে আত্তীকরণ করতে হবে সিটি করপোরেশনে। ওয়ার্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট কমিটি তাদের নিজেদের জায়গা থেকে অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করেছে। সেটা দুই সিটি করপোরেশনের ইয়াররাউন্ড প্ল্যানে (বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা) কতটুকু সংযুক্ত করতে পারে, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। পলিসি গাইডলাইনের জায়গা থেকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় কাজ করছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সিটি করপোরেশনের দায়িত্বে থাকে। তাদের ফিন্যানশিয়াল মেকানিজমগুলো কতটুকু সাপোর্ট করবে, এটাও চিন্তা করার সময় এসেছে। একই সঙ্গে নারী ও শিশুর জন্য কতটুকু নিরাপদ করতে পারছি, সেটাও বিবেচনায় থাকে।

 

 



সাতদিনের সেরা