kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

কার নোবেল কে পায়?

প্রতিবারের মতো এবারও যোগ্যদের নোবেল দেওয়া হয়নি। লিখেছেন মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

২২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কার নোবেল কে পায়?

চিকিৎসা

চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পাওয়ার একমাত্র দাবিদার আমাদের দেশের জনাব আতর আলী। আতর আলী শহরের একটি হাসপাতালে চার বছর ওয়ার্ড বয়ের চাকরি করে গ্রামে চলে যান। সেখানে গিয়ে একটি ফার্মেসি দেন। সেই ফার্মেসিতে বড় করে সাইনবোর্ড টানান, ‘এখানে শহরের ডাক্তার বসেন’।

তারপর প্রতিদিন সন্ধ্যায় স্টেথোস্কোপ, বিপি মেশিন, থার্মোমিটার হাতে নিয়ে সাদা অ্যাপ্রন পরে বসে পড়েন চেম্বারে। ৫০০ টাকা ভিজিটে রোগী দেখেন। এই যে শহরের চিকিৎসা প্রান্তিক জনগোষ্ঠী পর্যায়ে পৌঁছিয়ে দিলেন, এর জন্য আতর আলীকে দু-তিনটি নোবেল দিলেও কম হয়ে যায় না?

 

পদার্থবিজ্ঞান

স্বর্ণে খাদ মেশানো, পায়ুপথে স্বর্ণ নিয়ে চোরাচালান, বিশ্বের দামি দামি ব্র্যান্ডের জিনিসপত্রের জিঞ্জিরা ভার্সন নির্মাণসহ নানা ক্ষেত্রে অবিস্মরণীয় অবদান রাখছেন আমাদের দেশের নামকরা কিছু পদার্থবিজ্ঞানী। পদার্থে নোবেলটি তাদের না দিয়ে তাদের সঙ্গে তো অন্যায় করা হচ্ছেই, সম্ভবত নোবেলের নামেও অন্যায় করা হচ্ছে। নোবেল কমিটি যদি অবাধ, সুষ্ঠু, সত্ ও নিরপেক্ষ হতো, তাহলে বাংলাদেশ পদার্থবিজ্ঞানের নোবেলে ভরে যেত।

 

রসায়ন

রসায়নে আগামী ১০০ বছর অন্য কোনো দেশে নোবেল যাওয়ার সম্ভাবনাই থাকত না যদি বাংলাদেশের ট্যালেন্টদের সঠিক মূল্যায়ন করা হতো। মাছে ফর্মালিন, ফলে কার্বাইড, দুধে ম্যালামাইন, পেঁয়াজু-পুরির তেলে পোড়া মবিল, মুড়িতে ইউরিয়াসহ কতভাবে রসায়নের ভয়ংকর সব উপাদানকে নিমেষেই খাদ্যবস্তুতে রূপান্তর করছেন আমাদের দেশের কেমিস্টরা। কোনো ধরনের কেমিক্যালের ওপর পড়াশোনা ছাড়াই জাস্ট গায়েবি শক্তির বলে তাঁরা এসব আবিষ্কার করছেন। এমন সব আবিষ্কারের কথা নোবেল কমিটি জানলে আজীবন রসায়নের নোবেল আমাদের জন্য বরাদ্দ রাখবে। কথা কন—ঠিক কিনা?

 

সাহিত্য

সাহিত্যের কথা কী আর বলব? শুধু দেশের নামকরা কয়েকটি পত্রিকা আর দু-তিনজন নায়িকার ছবির নিচের কমেন্টস দিয়েই হাজার হাজার সাহিত্যের নোবেল চলে আসবে বাংলাদেশে। চ্যালচ্যালায়া চলে আসবে। এসব কমেন্ট ইংরেজিতে অনূদিত করে দ্রুত নোবেল কমিটিকে হস্তান্তর করার জোর দাবি রইল। না হলে বিশ্বসাহিত্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। হয়তো নোবেল পুরস্কার নিজেও চাচ্ছে সাহিত্যের জন্য বিপুল সংখ্যায় বাংলাদেশে আসতে। শুধু অনুবাদের অভাবে হচ্ছে না। আসুন, নায়িকাদের পোস্টের কমেন্টস অনুবাদ করুন, নোবেলের সমৃদ্ধি বয়ে আনুন দেশে।

 

শান্তি

শান্তিতে আমরা অলরেডি একটি নোবেল পেয়েছি। মাত্র একটি পাওয়ায় টুকটাক অশান্তি হচ্ছে। যিনি নোবেল পেয়েছেন, তিনিও বিশেষ শান্তিতে নেই। কিন্তু যখন সত্যিকারের শান্তির মূল্যায়ন হবে, দেশে অসংখ্য শান্তির নোবেল আসবে, তখন দেখবেন দেশে শুধু শান্তি আর শান্তি।

ভাবছেন, কিভাবে এত শান্তির নোবেল আসবে দেশে? আরে ভাই, একটু চোখ-কান খোলা রেখে ভাবুন। এই দেশে কত শত ঘটনা-দুর্ঘটনা ঘটছে। মানুষ একটি বালিশ কিনছে হাজার হাজার টাকা দিয়ে। পর্দা কিনছে প্রায় লাখ টাকা দিয়ে। রেললাইন নির্মাণ হচ্ছে বাঁশ দিয়ে। তার পরও মানুষজন কত হাসিখুশি। দিব্যি খাচ্ছেদাচ্ছে, ঘুরছে, ঘুমোচ্ছে। এত এত ঝামেলার ভেতরও আনন্দে থাকতে পারে কে? যার মন শান্তিতে পরিপূর্ণ। তো? কী বুঝলেন? শান্তিতে আমাদের ঘরে ঘরে নোবেল আসা উচিত না?

 

অর্থনীতি

মানুষকে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য ডেকে নিয়ে তারপর কিভাবে ফকির বানিয়ে দিতে হয় সে সূত্র আমাদের আবিষ্কার। ক্যাসিনো খুলে হাজার কোটি টাকা লুট করে সে টাকায় বিদেশে বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়ি করার পদ্ধতির আবিষ্কারক আমরাই। বাসায় অভিযান চলাকালে কোটি টাকা জানালা দিয়ে ফেলে দিই আমরা। সুদ, ঘুষ, দুর্নীতির মাধ্যমে রাতারাতি কোটিপতি হয়ে যাওয়ার মতো মুক্তবাজার অর্থনীতি ব্যবস্থার ধারক-বাহক আমরা। সুতরাং অর্থনীতিতে আমরাই সব নোবেল পাওয়ার যোগ্য দাবিদার। এত কিছুর পরও যদি নোবেল দেওয়া না হয়, তাহলে কিভাবে নোবেল কিনে নিতে হয়, সে পদ্ধতিও আবিষ্কার করে ফেলত অচিরেই। তারপর নোবেল কেনার পদ্ধতি আবিষ্কারের জন্যও নোবেল পেয়ে যেতে পারি আমরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা