kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

অফলাইন

অনলাইনে মজার মজার গল্প, বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুক, সাম্প্রতিক বিষয়-আশয় নিয়ে নিয়মিত স্ট্যাটাস দিয়ে যাচ্ছেন পাঠক-লেখকরা। সেগুলোই সংগ্রহ করলেন রনী মাহমুদ আপনার লেখা মজার স্ট্যাটাস অফলাইন পাতায় ছাপাতে চাইলে নাম-ঠিকানাসহ স্ট্যাটাসটি মেইল করুন [email protected]এই ঠিকানায়

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



আমার ড্রাইভার

আমার ড্রাইভারের নাম কাশেম আল কোরাইশী। আর তার বাপের নাম ফজলু মিয়া। আমি বললাম, ‘হিসাব তো মিলল না। ফজলু থেকে কাশেম আল কোরাইশী কেমনে এলো?‘

সে উত্তর দিল, ‘স্যার, এই জগতের অনেক কিছুই আছে যার হিসাব মেলানো কঠিন।’

আমি মনে মনে ভাবছি, ‘যাক, এবার হিসাব মিলেছে। একজন ফিলোসফার পেয়েছি সঙ্গী হিসেবে। জ্যামে বসে বসে ২ জন ফিলোসফি কপচাব।’

দুই দিন পর দেখা গেল, সে শুধু ফিলোসফার না, ছিঁচকে চোরও। আমার আগের ড্রাইভার যেমন লিবারেল চোর ছিল। ২০ লিটার তেল নিলে ১ লিটার চুরি করত। এককথায় সেন্সেবল চোর ছিল। কিন্তু এই কাশেম আল কোরাইশী সাক্ষাত্ ডাকাত। ২০ লিটার তেল নিয়ে ১৯ লিটারই চুরি করে। তেল নেওয়ার আধাঘণ্টা পর গাড়ি খটখট করতে করতে থেমে যায়।

কী হলো?

তেল শেষ।

কিসের তেল শেষ? বেশি দূরেও তো যাই নাই। পিছে তাকালে তো এখনো পেট্রল পাম্প দেখা যায়। তেল কেমনে শেষ, বোঝাও?

গাড়িতে ফুটা আছে। ফুটা সারান লাগব, ৫০০ টেহা দেন।

আমি গাড়ি থামায়ে উপুড় হয়ে ফুটা চেক করলাম, ‘নো ফুটা।’

তাইলে মনে হয় স্যার এই মুনাফিক পেট্রল পাম্প মাপে কম দেয়। এখান থেকে আর তেল নেওয়া যাবে না। দাঁড়ান, কাগজে নাম লিখে রাখি।

তার দুই মাসের চাকরিতে কম করে হলেও সাতটা পেট্রল পাম্পকে সে তেল কম দেয় অভিযোগে ব্ল্যাকলিস্টেড করেছে। আমরা এখন তেল নিতে বের হলে হাতে ব্ল্যাকলিস্টের কপি নিয়ে বের হই।

আমি বললাম, ‘ঢাকা শহরের সব পেট্রল পাম্প শুধু এই কাশেম আল কোরাইশীর গাড়িতেই কেন তেল কম দেয়?’

স্যার, এই জগতের অনেক কিছুই আছে, যার হিসাব মেলানো কঠিন।

... এরে আমি হাতেনাতে ধরার স্কোপ খুঁজছি অনেক দিন যাবত্। আজ ধরতে পেরেছি। ইদানীং সে বাতাস চুরি করে। কেমনে বাতাস চুরি করে বলি...

স্যার, গাড়ির চাক্কায় পাম দেয়ন লাগব।

দিলাম ৫০ টাকা। সে ৫০ টাকা নিয়ে গিয়ে বিরিয়ানি খেয়ে আসে। আমি আর কত উপুড় হয়ে চেক করব বাতাস আছে নাকি চাকায়, ফুটা আছে নাকি তেলের ট্যাংকে। আজকে সে ‘পাম যাইতাসেগা’ বলে ৫০ টাকা নিয়ে যাওয়ার পর আমি সিএনজি নিয়ে আমার গাড়ির পিছু নিয়েছি। সে গাড়ি নিয়ে স্টারে গিয়ে নাশতা খাচ্ছে। বেয়ারাকে বকশিশও দিয়েছে ১০ টাকা। আমি দূর থেকে ফোন দিলাম, ‘কোরাইশি পাম দিছ?’

হ স্যার, দিতাছি।

অথচ সে ফুঁ দিয়ে চা খাচ্ছে। আমি বললাম, ‘কোরাইশি, আসলেই তো এই জগতের অনেক কিছুই আছে, যার হিসাব মেলানো কঠিন। তুমি বললা বাতাস দিচ্ছ চাকায়, কিন্তু আমি স্পষ্ট দেখি তুমি বাতাস দিচ্ছ চায়ের কাপে। পাম আসলে কিয়ের যাইতাছিলগা? তোমার, না চাক্কার!’

কারেন্ট শকের মতো ঝাঁকুনি দিয়ে সে নড়ে উঠল। এই-ই প্রথম মায়া লাগছে তাকে দেখে। আমি শিওর, সে বাসায় এসে কিছু একটা বলে আমার মন গলিয়ে ফেলবে। আমি সিএনজিতে বসে ভাবছি, লোকটাকে ছাড়া যাবে না। শেখার আছে অনেক কিছু। চুরি না। চুরি কেমনে ঢাকতে হয় সেটা। দেশে টিকে থাকতে গেলে এটা জানা খুবই দরকার।

আরিফ আর হোসেন

ঘুম আসে না

: ওগো, ঘুম আইতেছে না। খিতা কইরতাম?

—বদ্দা, ভেড়া গোনো। ঘুম আসবে।

: ক্যাম্বাই গুনুম? ভেড়ারাই তো দরজা বন্ধ করি হুতি গেছে!

খায়রুল বাবুই

 

আমি আর আমার ইস্ত্রি

 

পরামর্শ

এক ছোটভাই ঘিয়ের ব্যবসা শুরু করেছে। আমার কাছে এসেছে পরামর্শের জন্য। ভাই, ঘিয়ের ব্যবসা শুরু করলাম।

—কিসের ব্যবসা! ঝিয়ের!

—আরে না ভাই। ঘিয়ের, ঘি।

—ওহ, ঘৃত! তা খালি হাতে কেন? ঘি আনলে হতাম প্রীত।

—পাবেন ভাই পাবেন। মনে করেন যে ঘিয়ের বয়াম পর্যন্ত রেডি হয়ে গেছে। শুধু সামান্য একটু কাজ বাকি।

—কী কাজ? বয়ামের ঢাকনা বানানো হয়নি?

—দূর ভাই। তা-ও হইছে। শুধু সামান্য একটু ক্রিয়েটিভ কাজ বাকি।

—ওহ। তা ওই কাজটুকু শেষ করে একেবারে আসতে। ফেলে এসেছ কেন?

—আরে, সে জন্যই তো আপনার কাছে আসছি। ঘিয়ের ডিব্বায় দেওয়ার জন্য একটা ভালো নাম আর একটা লোগো দরকার।

—নাম আর লোগো! হ। দাঁড়াও। একটু ভাবতে দাও।

—ভাবেন ভাই। মগজে শক্ত বাণ মারেন।

—শক্ত বাণ মারা যাবে না। ঘি পিছলা জিনিস। ছুটে যাবে।

ঘি ব্যবসায়ী ছোট ভাই কিছু বলতে চাচ্ছিল। কিন্তু তার আগে আমি ঝিম মারি। কিছুক্ষণ ঝিম মেরে থেকে চোখ মেলে বললাম, নাম দিতে পারব না। তবে লোগোর একটা আইডিয়া দিতে পারি।

বন্দুক চেয়ে পিস্তল পেয়ে খুশি ছোট ভাই বলল—আচ্ছা, ঠিক আছে তা-ই দেন।

—শোনো, কম্পানির লোগো দেবা বাঁকানো আঙুল।

—আঙুল! তা-ও বাঁকানো!

—হুম। ওইখানেই তো মজা। কথায় বলে না, সোজা আঙুলে ঘি ওঠে না। তো আঙুল যত বাঁকা হবে, ঘি হবে তত খাঁটি। শোনো, আঙুলটা একটু বেশি বাঁকা করে দিয়ো।

আমার আইডিয়া শুনে আঙুলের বদলে মুখ বাঁকা করে চলে যায় ছোট ভাই।

পলাশ মাহবুব

চাওয়া

এরোপ্লেনে এক সুন্দরী এয়ারহোস্টেসকে এক যাত্রী

বলল, ‘আপনার নাম কী?’

এয়ারহোস্টেস : ইভা বেঞ্জ।

যাত্রী : চমত্কার নাম! মার্সিডিজ বেঞ্জের সঙ্গে কোনোভাবে সম্পর্ক আছে?

এয়ারহোস্টেস (মৃদু হেসে) : Same price!

রাজিব হোসেন

 

মনে আর মুখে

দুঃখের কথা শোনালে মুখে বলে, চিন্তা করিস না। সব ঠিক হয়ে যাবে, আর মনে মনে বলে—শালা ফেঁসেছে, ঠিক হয়েছে।

নবগোপাল চক্রবর্তী

 

ঝুঁকি আছে

ফোনে কথা বলার সময় রাস্তা পার হবেন না! অ্যাকসিডেন্টে আপনার ফোন ভেঙে যেতে পারে।

মতিউর মামুন

 

বই

: ভাই, আমার জাফর ইকবালের বইটা এবার ফেরত দে।

: কেন? তোর না পড়া শেষ?

: হ্যাঁ, আমার শেষ। কিন্তু ছোট ভাই পড়তে চাচ্ছে।

: ছোট ভাই কোন ক্লাসে পড়ে?

: ইয়ে... ক্লাস টু।

: কী! এইটুক বয়সে কখনোই হাতে বই দিবি না। নষ্ট হয়ে যাবে। এই বয়সের বাচ্চারা মোবাইল চালাবে, গেম খেলবে, ইনস্টায় ফলোয়ার বাড়াবে, মেসেঞ্জারে প্রেম করবে।

: বইটা কি কিনবি ভাই? তিন ভাগের এক ভাগ টাকা দিছ।

: না, আমি বুঝতে পেরেছিলাম বইটা তুই ধার দিয়েছিস। ধন্যবাদ দোস্ত।

মোরাল অব দ্য স্টোরি : কাউকে কখনো বই ধার দেবেন না। হয় বিক্রি করুন, না হলে আপনার ছাগলকে খাইয়ে বড় করে কোরবানির সময় বিক্রি করে ভালো দাম নিন। বই ধার দেওয়ার ভয়ে আমি বই-ই কিনি না। আমার কাছে যা আছে, তা-ও অন্যের থেকে ধার নেওয়া।

রাফিউ খান

 

তিন ভাগের চার ভাগ

পৃথিবীর আয়তন, মাতালের জীবন, আর নেতাদের ভাষণ—তিন ক্ষেত্রেই ৩/৪ ভাগ পানি!

বাবা মঈন

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা