kalerkantho

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মশাবিষয়ক কবিতা

৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মশাবিষয়ক কবিতা

লিখি কিছু সাধ্য কী

লিখি কিছু সাধ্য কী!

যে দশা এ অভাগার লিখিতে সে বাধ্য কি।

মশা-বুড়ি মরেছিল চাপড়ের যুদ্ধে সে

পরলোকগত তার আত্মার উদ্দেশে

আমারি লেখার ঘরে আজি তার শ্রাদ্ধ কি!

যেখানে যে কেহ ছিল আত্মীয় পরিজন

অভিজাতবংশীয় কেহ, কেহ হরিজন

আমারি চরণজাত তাহাদের খাদ্য কি!

বাঁশি নেই, কাঁসি নেই, নাহি দেয় হাঁক সে,

পিঠেতে কাঁপাতে থাকে এক-জোড়া পাখ সে

দেখিতে যেমনি হোক তুচ্ছ সে বাদ্য কি।

আশ্রয় নিতে চাই মেলে যদি ংযবষঃবত্,

এক ফোঁটা বাকি নেই নেবুঘাস-তেলটার

মশারি দিনের বেলা কভু আচ্ছাদ্য কি!

গাল তারে মিছে দিই অতি অশ্রাব্য,

হাতে পিঠ চাপড়াব সেটা যে অভাব্য

এ কাজে লাগাব শেষে চটি-জোড়া পাদ্য কি।

পুজোর বাজারে আজি যদি লেখা না জোটাই,

দুটো লাইনেরো মতো কলমটা না ছোটাই

সম্পাদকের সাথে রবে সৌহার্দ্য কি।

 

মশকমঙ্গলগীতিকা

তৃণাদপি সুনীচেন তরোরিব সহিষ্ণুনা

জানিতাম দীনতার এই শেষ দশা,

আমি স্বপ্নে দেখিলাম হয়ে গেছি মশা!

কী হল যে দশা

মধ্যরাত্রে স্বপ্নে আমি

হয়ে গেছি মশা।

দীন হতে দীন আমি

ক্ষীণ হতে ক্ষীণ

একমাত্র নাম জপ করেছি ভরসা।

 

হিংস  নীতি নাহি আর,

অতি শান্ত নির্বিকার

ভক্তের নাসাগ্র-পরে স্তব্ধ হয়ে বসা

কী হল যে দশা!

 

মধুর মাশবী বেণু নীরব সহসা।

পাখা করি নাড়াচাড়া,

ভোঁ ভোঁ শব্দে নাই সাড়া

শুধু ‘রাম রাম’ ধ্বনি ডানা হতে খসা,

হেন হীন দশা।

 

 

 

 

মন্তব্য