kalerkantho

ফেইক আইডি

ইসমত জাহান লিমা

হাবিপ্রবি, দিনাজপুর   

৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফেইক আইডি

ক্লাস টেনে ওঠার মাসখানেক পরে দেখি বান্ধবীদের সবাই ফেবু ইউজ করছে। ওদের হেল্প নিয়ে আমিও একটা আইডি খুলে ফেললাম। প্রথম প্রথম কারো সঙ্গে তেমন চ্যাটিং হত না। কিন্তু বেশ কিছুদিন হতে ‘নীল অপরাজিতা’ নামের আইডির এক সিনিয়র আপুর সঙ্গে প্রায়ই কথা হয়। প্রায় প্রতিদিন সন্ধ্যার পর উনি নিজেই আমাকে নক দেন। তার কথা বলার মধ্যে অধিকাংশই থাকে প্রশ্ন, তাও আবার মেকআপ, ড্রেসআপ, জুয়েলারি নিয়ে। প্রতিদিন কোন ব্রান্ডের লিপ্সটিক ভালো, পিংক কালার ড্রেস সুন্দর নাকি ব্লু কালার, মেয়েদের হাই হিল জুতায় ভালো লাগে নাকি সিম্পল, এসব নিয়েই থাকে আলোচনা।

যদিও এসব সম্পর্কে আমার তেমন কোনো বিশেষ ধারণা নেই, তার পরও সিনিয়রের সামনে ভাব নেওয়ার জন্য টুকটাক সাজেস্ট করে দিই।

গতকাল ইফতারের পর মোবাইল হাতে নিয়েই দেখি ওই আইডি হতে ম্যাসেজ! লিখেছেন, ‘তোমাকে একটা পার্সোনাল কোয়েশ্চেন করি?’

আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম, উনি আবার কী পার্সোনাল কোয়েশ্চেন করবেন?

বললাম, ‘ওকে, করেন।’

-তোমার কি বিএফ আছে?

দ্বিতীয়বারের মতো চিন্তায় পড়ে গেলাম। আইডি যদিও ফিমেইল; কিন্তু যদি মেইল কেউ হয় আর যদি প্রপোজাল দেয়। বিএফ আবার কোনো ছেলের সঙ্গে কথা বলা পছন্দ করে না। নিহানের সঙ্গে আমার যে সম্পর্ক চলছে, এ কথাটা এখনো তেমন কাউকে জানাইনি। তবে গোপন রেখে বিএফের সঙ্গে ঝামেলা হওয়ার রিস্ক নেওয়ার চেয়ে সরাসরি জানানো যেতে পারে।

বললাম,

-হ্যাঁ, নিহান নামের একটা ছেলের সঙ্গে রিলেশনে আছি।

-কনগ্র্যাচুলেশন ছোটআপু। তো ভাইয়া আমার কী করেন?

আমার সাদা মনে কোনো কাদা নাই। তাই বেশ করে আমাদের রিলেশন শুরু হতে এখন পর্যন্ত যা ছিল সব বলে দিলাম।

-বাহ! তোমাদের রিলেশন তো স্ট্রং। শুনেই হিংসা হচ্ছে। আচ্ছা, তোমাদের একটা কাপল পিক দেওয়া যাবে?

উনার এমন প্রশংসা শুনে আমি আবেগাপ্লুত হয়ে নিহানের সঙ্গে প্রথম ডেটিংয়ে যাওয়া বেশ কয়েকটা পিকচার পাঠালাম।

-ওয়াও! কী কিউট কাপল! আচ্ছা কবে থেকে তোমাদের রিলেশন?

-এই তো মাস ছয়েক হলো। আমরা বেশ ভালই আছি। আপনার ছোট বোনের জন্য দোয়া করিয়েন।

এটুকু লিখে সেন্ড করেছি, ঠিক তখনই কে যেন মাথার মধ্যে চটাস করে একটা চাটি মারল। পিছনে ঘুরে দেখি বড় ভাইয়া দাঁড়িয়ে আছে!

‘ওওও, তুই আমার বন্ধু নিহানের সাথে ছয়মাস ধরে রিলেশনে আছিস? আবার স্কুলে না গিয়ে ওর সাথে ডেটিং করে বেড়াস? দাঁড়া, আজকেই যদি আব্বারে বলে তোর ঠ্যাং ভেঙে পায়ে ধরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা না করতেছি।’—ভাইয়া কটমট করে বলল।

আমি মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে ভাবলাম, ‘সর্বনাশ! আব্বা জানলে কপালে শনির সঙ্গে মহাকাশের বাকি গ্রহ, উপগ্রহগুলোসহ বাকি সব ফ্রি জুটে যাবে। কিন্তু এ ব্যাপার তো আমার ক্লোজ কয়েকটা বান্ধবী ছাড়া আর কেউ জানেনি। আর এখন ওই বড় আপুটাকে বললাম! ভাইয়া জানল কিভাবে?’

ভাইয়ার দিকে তাকাতেই ও বলল, ‘আরে বেকুব, নীল অপরাজিতা আমারই ফেক আইডি!’

এবার বুঝলাম। ভাইয়ার মনটা একটু নরম করার জন্য বললাম, ‘কিন্তু তুই ইনবক্সে আমাকে শুধু কসমেটিকস আর ড্রেসের কথা জিজ্ঞেস করতিস কেন?’

-আসলে ‘এঞ্জেল মারিয়া’ নামে আইডির একটা মেয়ের সঙ্গে কয়েক দিন হলো প্রেম হয়েছে। ভাবছি এবার ঈদে প্রথম মিট করব। ওকে কিছু ড্রেস, কসমেটিকস গিফট করার ইচ্ছা আছে। আমি তো মেয়েদের এসব জানি না। তাই তোকে জিজ্ঞেস করে করে জেনে নিতাম।

ভাইয়া ফোনটা এগিয়ে দিয়ে বলল, ‘এই দেখ, আজকে অনলাইনে একটা পিংক কালারের ড্রেসও অর্ডার করছি! কালকেই ডেলিভারি দেবে। বাকি কসমেটিকস ২/১ দিনেই ম্যানেজ করে নেব।’

এবার আমি হো হো করে হেসে উঠে বললাম, ‘আরে ভাইয়া, এঞ্জেল মারিয়া তো আব্বার ফেক আইডি! এবার তুই ঠ্যালা সামলা! আর কাল ড্রেসটা আসলে আমাকে দিয়ে দিস। এবার অন্তত ঈদ শপিংটা করা লাগবে না।’

মন্তব্য