kalerkantho

অফলাইন

অনলাইনে মজার মজার গল্প, বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুক, সাম্প্রতিক বিষয়-আশয় নিয়ে নিয়মিত স্ট্যাটাস দিয়ে যাচ্ছেন পাঠক-লেখকরা। সেগুলোই সংগ্রহ করলেন ইমন মণ্ডল

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সেমিনারে একদিন

বিবাহিত মহিলাদের জন্য আয়োজিত এক সেমিনারে এক প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা হলো, ‘আপনি শেষবার কবে আপনার স্বামীকে ও ষড়াব ঁ বলেছেন?

কেউ বলল, আজই বলেছি! কেউ বা জবাব দিল, দুদিন আগে! আবার কেউ কেউ বলল, ১০ দিন আগে বলেছিলাম।

এরপর সব মহিলাকে বলা হলো, সবার নিজ নিজ মোবাইল থেকে যে যার স্বামীকে ও ষড়াব ঁ টেক্সট করতে। সবচেয়ে ভালো উত্তর যার মোবাইলে আসবে, তার জন্য একটা সারপ্রাইজ গিফট থাকবে।

সব মহিলা মেসেজ পাঠালো। কিছুক্ষণ পার হতেই স্বামীদের জবাব আসা শুরু হলো। সেগুলো কিছুটা এ রকম ছিল...

১। তোমার শরীর ভালো তো?

২। হাতখরচের টাকা শেষ?

৩। তুমি বাপের বাড়ি চললে নাকি?

৪। মনে হচ্ছে আজ বাসায় রান্না হবে না, তাই না?

৫। মানে কী?

৬। তুমি স্বপ্ন দেখছ না আমি?

৭। কিটি পার্টিতে কোনো গয়না পছন্দ হয়েছে নাকি?

৮। অফিসে এত টেনশনের মধ্যে তুমি রোমান্সের আর সময় পেলে না?

৯। কতবার না বলেছি, এত সিরিয়াল দেখো না।

১০। আজ আবার কোনো গাড়িকে ধাক্কা মেরেছ নাকি?

তবে শেষ পর্যন্ত যে উত্তর সারপ্রাইজ গিফট জিতল তা বড় ভয়ানক

ছিল।

১১) ও love u 2 but who r u?

বাবা মঈন

 

 

 

প্রচারণা

একসময় বইয়ের প্রচারণা হিসেবে চল ছিল লিফলেট বিতরণের। বইমেলায় ঢুকলেই দেখা যেত লাখ লাখ কাগজ মাটিতে পড়ে আছে। সেখানে লেখকের হাসি হাসি মুখের ছবি। হাতে একটা বই। আর সেই লেখকের ছবির ওপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে লাখ লাখ মানুষ। ভেবে দেখুন নিজেকে সেই লেখকের জায়গায়।

এরপর এলো টি-শার্ট ও মগ দেওয়া। বইয়ের প্রচারে এটা বেশ দেখা গেল। সেলিব্রিটি লেখকরা বের করেন। বই কিনলে টি-শার্ট ফ্রি!

এরপর দেখা গেল, বই কিনলে ল্যাপটপ ফ্রি! লটারির টিকিটের মতো করে বই বিক্রির এই আইডিয়াও হিটাহিট। বই কেউ পড়ুক না পড়ুক—হুড়মুড় করে ল্যাপটপের লোভে বিক্রি হয়ে গেল সব বই।

আজকে বইয়ের প্রচারণায় গান গাওয়া হয়েছে। বইয়ের প্রচারণায় গানের ব্যবহার আমাকে আশাবাদী করেছে। অদূর ভবিষ্যতে বইয়ের প্রচারণা হিসেবে নাটক বা সিনেমাও বানানো হবে।

রাজিব চৌধুরী

সাবেক বাড়িওয়ালী আন্টিকে ফোন দিলাম।

আমি : হ্যালো আন্টি আমি রিশাদ, কেমন আছেন?

আন্টি : হ্যাঁ বাবা, ভালো আছি। তুমি তো আর খবরই নাও না।

আমি : জি আন্টি, আমি ভাড়াটিয়া নিবন্ধন ফরম পূরণ করছি তো, তাই আপনার বা আংকলের নাম দরকার।

আন্টি : মানে কী! তুমি তো আমার বাসা ছেড়ে দিয়েছ আরো ছয় মাস আগে। এখন যেই বাসায় আছ, তার নাম-ঠিকানা দাও।

আমি : না মানে আন্টি, নিবন্ধন ফরমে পূর্ববর্তী বাড়ির ঠিকানা-নাম দিতে হয়। তাই দরকার।

আন্টি : দেখো বাবা, তুমি এখনকার ঠিকানাই দাও। তোমার আংকল বাসায় নেই, তার নাম্বারেও ফোন দেওয়া যাবে না। ভালো থাকো।

আমি : হ্যালো আন্টি! আমার কথাটা

শোনেন, প্লিজ!

রিশাদ হাসান

গবেষণা

গবেষকরা গবেষণা করে বের করেছেন, একজন পুরুষ গড়ে প্রতিদিন দুই হাজার শব্দের কথা বলেন। আর একই সময়ে একজন নারী বলেন গড়ে সাত হাজার শব্দের কথা।

আমার পরিচিত এক মেয়েকে তথ্যটা জানাতেই সে আমাকে একগাদা কথা শুনিয়ে দিল।

তার কথাগুলো শোনার পর গবেষকদের গবেষণা নিয়ে আমার মনে আর কোনো সংশয় রইল না।

ইমন চৌধুরী

 

পরামর্শ

রান্নার সময় তরকারিতে কড়াইভর্তি পানি দিলে অনেকক্ষণ ধরে নিশ্চিন্তে ফেসবুক চালানো যায়।

সাইমুম সাদ

টেনশন

এ দেশের নারীরা একসঙ্গে ১০টা পরিবারের টেনশন নিয়ে ঘোরে। একটা নিজের, দুইটা প্রতিবেশীর আর বাকি সাতটা সিরিয়ালের।

ইসরাফিল শাহীন

 

মালদার লোক

দুনিয়ায় সবচেয়ে বেশি ধনী লোক মালদহেই আছে। কারণ তারা সবাই বলে—আমি মালদার লোক।

জগলুল হায়দার

 

 

আমাদের বাসার কেয়ারটেকার মামা গতকাল একুশে টিভিতে আমার ইন্টারভিউ দেখে আজ সকালে এসে জিজ্ঞেস করছে, তুমি নাকি বই লিখছ?

বললাম, হুম।

তারপর বেশ আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইল, কোন কেলাশের? নাইনের নাকি?

বুঝতে পারলাম, নাইনের হলে চাইবে। বললাম, না। টেনের।

মামা কিছুটা হতাশা নিয়ে বলল, নাইনের হইলে আমার পোলাডার কামে লাগত।

আমিও মন খারাপ করে বললাম, আহা!

তিনি দমে গেলেন না। বললেন, আচ্ছা দিয়া রাইখো, সামনের বছর তো টেইনে উঠবোই।

ইশতিয়াক আহমেদ

 

 

ছোট মাছ বড় মাছ

আগেকার দিনে ছোট মাছের গুরুত্ব ছিল না। সবাই এগুলোকে গরিব মানুষের খাদ্য মনে করত। এগুলোর দামও কম ছিল। পক্ষান্তরে বড় মাছ মানে রুই, কাতলা, চিতল—এসব বড়লোকদের খাবার ছিল এবং দামও বেশি ছিল। প্রেস্টিজিয়াস এসব মাছ দাওয়াতে খাওয়ানোটা রেওয়াজ ছিল। এখন উল্টা ঘটনা, বড়লোকেরা গুঁড়া মাছের চচ্চড়ি খায়, বড় কর্মকর্তা এলে আগে থেকেই অর্ডার হয়—স্যার ছোট মাছ ছাড়া খান না। ছোট মাছ এখন দামি মাছ। পক্ষান্তরে রুই-কাতলা গরিবের খাবার হয়ে গেছে, দামও কম। এক কেজি রুই মাছের দাম দেড় শ টাকা; কিন্তু এক কেজি ট্যাংরা মাছের দাম হাজার টাকা। আগে শুনতাম, দুর্নীতির ক্ষেত্রে ছোটখাটো কাউকে দুদক ধরলে মানুষ বলত, আরে চুনোপুঁটি বাদ দিয়ে রাগব বোয়াল ধরেন। বাস্তবে কেস দেখি উল্টা, দুদক বিভিন্ন দপ্তরের তৃতীয়, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ধরে দেখি হাজার কোটি টাকা লোপাটের হিসাব পাচ্ছে। অফিসারগুলার খবর নাই। ছোট মাছেরই দাম বেশি রে ভাই।

চঞ্চল কুমার ভৌমিক

 

আপনার লেখা মজার স্ট্যাটাস অফলাইন পাতায় ছাপাতে চাইলে নাম-ঠিকানাসহ স্ট্যাটাসটি মেইল করুন [email protected]এই ঠিকানায়

মন্তব্য