kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

অফলাইন

অনলাইনে মজার মজার গল্প, বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুক, সাম্প্রতিক বিষয়-আশয় নিয়ে নিয়মিত স্ট্যাটাস দিয়ে যাচ্ছেন পাঠক-লেখকরা। সেগুলোই সংগ্রহ করলেন ইমন মণ্ডল

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অফলাইন

বাণিজ্য মেলায়

বাণিজ্য মেলার ঘটনা। টিকিট কেটে ভেতরে যেতে উদ্যত হয়েছি। প্রবেশমুখে এক ভিক্ষুক এসে বাগড়া দিল। চেহারা-পোশাকে বেশ অভিজাত। কর্কশ গলায় গান গেয়ে ভিক্ষা চাচ্ছে। এমনিতে চাইলে ভাল্লাগত। গানের গলা বিশ্রি হওয়ায় ভিক্ষা দিলাম না।

আমার উপেক্ষা ভিক্ষুকটি সম্ভবত পছন্দ করতে পারল না। আওয়াজ আরেকটু উঁচু করে সুর তুলল—সকালবেলা ধনী রে তুই ফকির সন্ধ্যাবেলা...ও ও...

বাণিজ্য মেলায় প্রবেশের আগে কর্কশ কণ্ঠে এসব গান কারো ভালো লাগে? উফঃ।

অতঃপর অনেকক্ষণ মেলার এদিক-ওদিক ঘুরে, বিদেশিদের প্রলোভন মাখানো বক্তৃতা শুনে যথেষ্ট ক্লান্তবোধ করলাম। ক্ষুধাও লেগেছে খানিকটা।

মেলার ভেতরেরই একটা বিরিয়ানির দোকানে কাচ্চি অর্ডার করলাম। সব জায়গার মতো এখানেও আলু একটাই দিল, তাও আবার কোনার দিকে সামান্য ভাঙা। ওয়েটারই মুখে দিয়ে একটু চেখে নিয়েছে কি না কে বলবে? খাওয়াদাওয়া শেষে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলার মতো ভঙ্গি করছি—এমন সময় আকাশসম টাকার বিল হাতে পেয়ে ওখানেই অজ্ঞান হতে ইচ্ছা করল। মান-সম্মানের ভয়ে অফ গেলাম।

ভাব নিলাম, দাম খুবই ঠিক আছে। আমি তো নিয়মিতই এ দামে কাচ্চি খাই।

বিধ্বস্ত মনে মেলা থেকে বেরিয়ে এলাম। পকেটে হাত দিয়ে দেখি বাসায় ফেরার টাকা নেই। খাঁ খাঁ করছে মানিব্যাগ।

অগত্যা প্রবেশপথে ঠিক ওই ফকিরটার পাশে দাঁড়িয়ে গেলাম। আমার গানের গলাও জঘন্য রকম। তবু একটু একটু করে সুর তুললাম—সকালবেলা ধনী রে তুই ফকির সন্ধ্যাবেলা...ও ও...।

মহসিন ইরম

 

আগে-এখন

আগে জানতাম এক রকম; কিন্তু এখন শুনি অন্য রকম!

আগে জানতাম, ঐতিহ্য ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্ব। কিন্তু এখন শুনি, ১০ টাকায় চা-শিঙাড়া-সমুচা-চপ বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্ব!

আগে জানতাম, TSC -এর পূর্ণরূপ T-Teacher S-Student C-Centre

কিন্তু এখন শুনি, TSC -এর পূর্ণরূপ T-Tea. S-Shamuca/Shingara C-Chop  সব কিছু এত পরিবর্তন হচ্ছে!

কাবিল মাহমুদ

 

শিশু

জন্ম নিয়েই শিশু কান্দে কেন?

—ধর, নয় মাস যে বাসায় রইলি সেখান থেকে হঠাত্ তোকে বের করে দেওয়া হলো! তুই কানবি না?

হ, মোক্ষম যুক্তি বটে।

মুহাম্মদ শাহরিয়ার খান

 

সিদ্ধান্ত

এক বন্ধু বলতেছে, ‘শোনো, বিয়েকে এত ভয় পাওয়ার কিছু নেই। মানে বউকে আর কি। বউ এত ভয়ানক কিছু না। এই ধরো, আমাদের বাসায় সব বড় বড় সিদ্ধান্ত আমিই নিই। এতে আমার বউ কোনো নাক গলায় না। আর ছোটগুলো আমার বউ নেয়।’

যেমন?

যেমন ধরো জাতীয় নির্বাচন, ব্রেক্সিট ইস্যু, রোহিঙ্গা ইস্যু, ভারত-পাকিস্তান বর্ডার ইস্যু—এ ধরনের ব্যাপারে কি হওয়া উচিত, সে সিদ্ধান্ত আমিই নিই। আর ধরো, বাসার কোন খাতে কত টাকা খরচ হবে, আজকে রান্না কী হবে, মশারি কে টানাবে, কয়েকটা বিয়া-শাদির প্রগাম পড়লে কোনটাতে যাব, কোনটাতে যাব না—এসব ছোটখাটো সিদ্ধান্ত আমার বউ নেয়।

মো. সাখাওয়াত হোসেন

জানলই না

মাছেরা জানতেই পারল না, তাদের জন্য এত বড় একটা ভবন আছে।—মত্স্য ভবন

অনামিকা মণ্ডল

 

মা-খালাম্মা

আমরা জিতলে জিতে যায় ‘মা’। আর আমরা হারলে জিতে যায় পাশের বাড়ির ‘খালাম্মা’।

মুকুল আহমেদ

 

প্যাঁচ

ন্যাচার হোক বা সিগন্যাচার—প্যাঁচ না থাকলে এই দুনিয়ায় টেকা আসলেই মুশকিল।

সন্দীপন বসু

 

মেয়েপক্ষ: ছেলের

চারিত্রিক গুণ কী?

ঘটক: ছেলে আপনাদের দোয়ায় বড়ই ধৈর্যশীল।

মেয়েপক্ষ: যেমন?

ঘটক : ছেলে নিয়মিত বাসে করে মিরপুর টু মতিঝিল যাতায়াত করে।

উদয় সিনা

 

 

পানির দর

যেই ভদ্রলোক ‘পানির দর’ নামক বাগধারা আবিষ্কার করেছিলেন, উনি কখনো স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে যাননি!

অনুপম হোসেন পূর্ণম

 

গৃহকর্তী

আপনি যতই নিষেধ করেন না কেন, গৃহকর্ত্রী যদি ঝালখোড় হয়, তবে ঘরের প্রতিটি খাবারে আপনাকে কাঁদতেই হবে।

শহীদ শেখ

 

ব্যর্থতা

কোনো মুণি-ঋষীরাই ভবিষ্যদ্বাণী করে যেতে পারেননি যে তাঁদের নামে ফেসবুক পেজ থাকবে।

অঙ্কিতা মণ্ডল

 

 

ট্রেনে একদিন

দাদু একদিন ট্রেনে করে বেড়াতে যাচ্ছে। কিন্তু দাদু বসার জায়গা না পাওয়ায় যথারীতি ট্রেনের হাতল ধরে দাঁড়িয়ে যেতে হচ্ছে। দাদুর হাতের কনুইটা ট্রেনের গতির সঙ্গে সঙ্গে পাশে দাঁড়ানো একটি ছেলের নাকের কাছে দোল খাচ্ছে। ছেলেটি দাদুকে উদ্দেশ করে বলল, ‘দাদু, অ্যান্টেনাটা নামান।’

দাদু কিছু না বলে চুপচাপ হাতল ছেড়ে দাঁড়াল। এবার দাদু চলন্ত ট্রেনের মধ্যে বারবার ছিটকে ছিটকে ছেলেটির গায়ে পড়ে যেতে লাগল। আবারও ছেলেটি বলে উঠল, ‘এভাবে নড়বড় করছেন কেন, দাদু?’

এবার দাদু বলে উঠল, ‘অ্যান্টেনা নামানো থাকলে ছবি তো কাঁপবেই বাবা।’

বাবা মঈন

 

 

আপনার লেখা মজার স্ট্যাটাস অফলাইন পাতায় ছাপাতে চাইলে নাম-ঠিকানাসহ স্ট্যাটাসটি মেইল করুন [email protected]এই ঠিকানায়

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা