kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আশপাশের গল্প

২৭ এপ্রিল গল্প বলা দিবস। এ উপলক্ষে আশপাশে ঘটে যাওয়া কিছু ছোটগল্প বলছেন মো. সাখাওয়াত হোসেন, এঁকেছেন মাসুম

২৪ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আশপাশের গল্প

দুই নম্বর

চট্টগ্রামের একটা জায়গার নাম দুই নম্বর গেট। সেদিন বাসে করে বাসায় ফিরছিলাম। আমার বাসা দুই নম্বর গেট ফেলে আরো সামনে। বাসে ওঠার পর থেকেই এক চাচার অত্যাচারে সবাই বিরক্ত। প্রথমত, উনি উচ্চৈঃস্বরে ফোনে কথা বলছিলেন। এ ছাড়া খুব সম্ভব কয়েক দিন ধরে ওনার লুজ মোশন হচ্ছিল। সেটির বিশদ বর্ণনা উনি রসিয়ে রসিয়ে ফোনে বলছিলেন। বাসে ওঠার পর থেকেই বাসের পিচ্চি হেল্পার আমার নজর কাড়ে। মাথায় লাল গামছা বাঁঁধা, বয়স ১০-১১ হবে। সে যখন ভাড়া নিতে আসে, তখন চাচা এক টাকা কম দেওয়ার জন্য ঝামেলা শুরু করে। দুই নম্বর গেট আসতেই পিচ্চি চেঁচিয়ে ওঠে, ‘দুই নম্বর গেইট! ২ নম্বর গেইট!’

চাচা খেঁকিয়ে উঠে বলে, ‘এই খাড়া, আমি নামুম।’

পিচ্চি চাচার দিকে তাকিয়ে হলুদ দাঁতগুলা বের করে এক গাল হেসে বলে, ‘ও আচ্ছা! চাচা দেখি দুই নম্বর!’

মুদি দোকানদার মান্না ভাই

আমাদের এলাকার মুদি দোকানদার মান্না ভাই। তিনি একটা মেয়ের প্রেমে পড়ছেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘মেয়ে দেখতে কেমন, মান্না ভাই?’

আছে, সুন্দর আছে।

কোন নায়িকার মতো দেখি, বলেন।

‘কারিনা কাপুর দেখতে অনেকটা আমার প্রেমিকার মতো!’ স্বপ্নিল চোখে উনি জবাব দিলেন।

আরেক দিন ওনার দোকানে এক মহিলা এলো। ডিমের ডজন আরেকটু কম রাখার জন্য অনুরোধ করতেই মান্না ভাই বলে উঠলেন, ‘এই দাম শুনলে তো মুরগি ডিম পাড়া বন্ধ কইরা দিব, আপা! এমনিতেই নাকি আজকাল ফিগার ঠিক রাখতে এরা ডিম তেমন পাড়তেছে না!’

আমি ভাবলাম, মহিলা রেগেটেগে ওঠে নাকি কোনো। দেখলাম—না, হো হো করে হেসে উঠলেন তিনি।

লাইসেন্স দেখান

আমি আর আব্বা রিকশা করে ফিরছিলাম। ওয়াসার মোড়ে এসে একটু জ্যামে পড়ি। এই সময় পাশে এক পুলিশ বাইক নিয়ে থামে। আরো দুইজন সার্জেন্ট ওই পয়েন্টে আগে থেকেই ছিল। বাইকে করে আসা পুলিশকে একজন সার্জেন্ট বলে—‘দেখি ভাই, লাইসেন্স দেখি!’

বাইকে বসা পুলিশ বলে উঠল, ‘লাইসেন্স তো বাসা থেকে বের হওয়ার সময় বউ রেখে দিছে, ভাই!’

এবার সার্জেন্টরাসহ আশপাশে যারা ছিল সবাই হেসে দিল।

রসিক চাচা

আমার এক চাচার গ্যাস্ট্রিক আলসারে অবস্থা কেরোসিন। ভাজাপোড়া খাওয়া মানা। একদিন ওনার বাসায় গিয়ে দেখি, উনি তেল চপচপে আলুর চপ খাচ্ছেন।

‘এসব কিভাবে খাচ্ছেন চাচা?’ অবাক আমি।

‘এই যে প্রথমে দুই আঙুলে ধরবি। এরপর একটু সস মাখিয়ে মুখের কাছে নিবি। এরপর এভাবে মুখে ঢুকিয়ে দিবি!’

কিভাবে খাচ্ছে, তা হাতে-কলমে দেখিয়ে দিলেন।

কাজের বুয়া

মর্নিং ওয়াক শুরু করেছি। বাসায় তালা লাগিয়ে বের হতাম, যেহেতু সবাই তখন ঘুমিয়ে থাকে। একদিন বাসায় ফিরে তালা খুলে, চাবি বাইরে লাগানো অবস্থায়ই ঢুকে পড়লাম। এর মধ্যে আমাদের বুয়া এসে ওই চাবি দিয়ে তালা খুলে ভেতর ঢুকে কাজ শুরু করে দিল। এমনিতে প্রতিদিন সে বেল দেয়, আর আম্মা উঠে দরজা খোলেন, যেহেতু আমি ফিরে আবার ঘুমিয়ে পড়ি। রান্নাঘরে বুয়াকে কাজ করতে দেখে আম্মা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন—‘বুয়া, কিভাবে ঢুকেছ?’

‘একটা জাদু শিখছি গো আম্মা! সকাল সকাল বেল বাজাইয়া আপনাদের ঘুমের আর বারোডা বাজামু না!’ বুয়ার জবাব।

চেক প্রজাতন্ত্র

পত্রিকার কন্ট্রিবিউটরদের জন্য চেক জমা হওয়া, চেক পাওয়া—এ এক অদ্ভুত ঘটনা। চেকের কথা বলতেও লজ্জা লাগে। আবার মাঝেমধ্যে টাকারও দরকার পড়ে। একবার আমার লাইন বস মেহেদী ভাইকে চেকের কথা বলার পরও উনি ভুলে গিয়েছিলেন। ভুলে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। ব্যস্ত মানুষ, সারা দিন ঘোড়ার ডিমের কাজ করেন। চেকের কথা কিভাবে বলি, চিন্তা করতে করতে এক বুদ্ধি বের করলাম। ইনবক্সে গিয়ে জাস্ট লিখলাম—‘ভাই, চেক প্রজাতন্ত্র!’

পরদিনই আমার চেক জমা হয়ে গেল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা