kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৯ নভেম্বর ২০২২ । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি না থাকায় ফার্নিচার রপ্তানি বাড়ছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি না থাকায় ফার্নিচার রপ্তানি বাড়ছে না

দেশে তৈরি আসবাবপত্র রপ্তানিতে বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বের কোনো দেশের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) না থাকার কারণে এই শিল্পের গতি মন্থর বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। এ জন্য অন্যান্য দেশের সঙ্গে ব্যাপক প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়তে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর  ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আয়োজিত ১৭তম জাতীয় ফার্নিচার মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী নেতারা এসব কথা বলেন। পাঁচ দিনের এই মেলার উদ্বোধন করেন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

বিজ্ঞাপন

আইসিসিবির ১ ও ২ নম্বর হলে মেলাটির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ফার্নিচার শিল্প মালিক সমিতি (বিএফআইওএ)। ব্যবস্থাপনায় রয়েছে ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি সেন্টার লি. (ডিটিসি)। মেলা চলবে আগামী ১০ অক্টোবর পর্যন্ত। সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থী ও ক্রেতারা প্রবেশ করতে পারবেন।

মেলায় বাসা ও অফিসের কাজে ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন আসবাবপত্রে কম্পানিভেদে ৫ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়েছে। হাতিল, আখতার, নাভানা, পারটেক্স, রিগ্যাল, নাদিয়া, ব্রাদার্স, ওমেগা’র মতো ফার্নিচার প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ৩৪টি কম্পানির মোট ১৮২টি স্টল রয়েছে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে একটি দেশেরও এফটিএ (ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট) নেই। অথচ ভিয়েতনাম ৭০টি দেশের সঙ্গে এফটিএ করেছে। তাদের মোট ব্যবসার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এফটিএর কারণে হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভিয়েতনাম এফটিএ করেছে। হয়তো কিছুদিনের মধ্যে কার্যকর হয়ে যাবে। কিন্তু আমাদের সঙ্গে নেই। তখন আমরা আরো প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়ে যাব। এটা নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। ’

তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি রপ্তানিতে যেতে চান, এখানে স্কাই ইজ লিমিট। এখানে বিরাট বাজার আছে। আমরা সব ধরনের সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত আছি। ধরুন, ১০০টি সমস্যা আছে আপনাদের, এতগুলো বাদ দিয়ে পাঁচটি নিয়ে কাজ করেন, দেখা যাবে ৯৫ শতাংশ সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। সমস্যাগুলো খুঁজে বের করেন, আমরা সবাই মিলে কাজ করি, তাহলে আমরা সমস্যা সমাধান করতে পারব। ’

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ফার্নিচার শিল্প মালিক সমিতির (বিএফআইওএ) চেয়ারম্যান সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘বিশ্ববাজারে ফার্নিচারশিল্পের যে ব্যাপক সম্ভাবনা ছিল তার সামান্য অংশেরই বাস্তবায়ন ঘটেছে। ২০২১ সালে বিশ্বে ফার্নিচারের মার্কেট ছিল ৬৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ধারণা করা হয়, ২০২২ সালে এই মার্কেটের আকার ৭০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। গত কয়েক বছরে বিশ্বজুড়ে ফার্নিচার ব্যবহারের ট্রেন্ড দেখলে বোঝা যায়, প্রতিবছরই এই মার্কেট বড় হচ্ছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে আমাদের দেশের আসবাবপত্র রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১১০ মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৯ শতাংশ বেশি। এর পরও অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এই খাতের গতি এখনো মন্থর আমাদের দেশে। ’ তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে ভারত, নেপাল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, আরব আমিরাত ও বাহরাইনে ফার্নিচার রপ্তানি হয়। ফার্নিচারশিল্পের কাঁচামাল, যেমন—হার্ডওয়্যার, লিকার, ফ্যাব্রিকস বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, ফলে বড় অঙ্কের আমদানি কর দিতে হয়। দেশের রপ্তানিমুখী এ শিল্পের স্বার্থে এই আমদানি কর যদি শিল্পবান্ধব হতো, তবে তা উদ্যোক্তদের আরো উৎসাহী করত। অন্যদিকে এই শিল্পকে কেন্দ্র করে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা না থাকায় দক্ষ জনবল পেতে বেগ পোহাতে হয়। গত বাজেটে ফার্নিচারের বেশ কিছু কাঁচামালের ওপরে ২০ শতাংশ সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি আরোপ করা হয়, যা ফার্নিচার ব্যবসার জন্য দুঃসংবাদ। ’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফার্নিচার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক কে এম আকতারুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক এ করিম মজুমদার, আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও ওমেগা হোম সল্যুশনের স্বত্বাধিকারী শেখ আব্দুল আওয়াল প্রমুখ।

 

 



সাতদিনের সেরা