kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

বদির চার ভাইসহ ১০১ জনের দণ্ড

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার   

২৪ নভেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বদির চার ভাইসহ ১০১ জনের দণ্ড

কক্সবাজারের টেকনাফে আত্মসমর্পণ করা ১০১ জন ইয়াবা ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে পুলিশের করা দুই মামলার (মাদক ও অস্ত্র) রায় দিয়েছেন আদালত। রায়ে প্রত্যেকের দেড় বছর করে কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুর রহমান বদির চার ভাই ও তিনজন আত্মীয় রয়েছেন। তবে অস্ত্র মামলায় সব আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

গতকাল বুধবার দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে আদালতের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেছেন, এই মামলায় বাদীপক্ষ আসামিদের অপরাধ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে। তবে আসামিরা যেহেতু নিজেরা ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন, তাই প্রতীকী রায় হিসেবে মাদকের মামলায় প্রত্যেকের দেড় বছরের সাজা এবং ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হলো।

পুলিশের করা অস্ত্র মামলা খারিজ হওয়ার কারণ হিসেবে পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম বলেন, ‘বাস্তবে মামলার এজাহারেই ফাঁকফোকর রয়ে গেছে। এজাহারে উল্লেখ রয়েছে, অস্ত্রগুলো মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন একটি হ্যাচারির বাক্সে পাওয়া গেছে। কোনো আসামির কাছে অস্ত্র পাওয়া গেছে এমন উল্লেখ নেই।

দণ্ডিত আসামিদের বেশির ভাগ টেকনাফের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি গ্রুপের লোকজন বলে পরিচিত। এর মধ্যে আব্দুর রহমান বদির চার ভাই—আব্দুল আমিন, আব্দুর শুক্কুর, শফিকুল ইসলাম ও ফয়সাল রহমান; ভাগ্নে সাহেদ রহমান নিপু, চাচাতো ভাই মোহাম্মদ আলমসহ সাতজন তাঁর নিকটাত্মীয়।

এ ছাড়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন টেকনাফ সদর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিহাদ ও তাঁর বড় ভাই আব্দুর রহমান, বর্তমান জেলা পরিষদ সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমেদের ছেলে দিদার মিয়া, টেকনাফ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুরুল বশর নুরশাদ, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের সদস্য এনামুল হক এনামসহ অনেকে। এ ছাড়া রয়েছেন যুবদল নেতা শাহ আলম ও আব্দুল আমিন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম জানান, ২০১৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি টেকনাফে ১০২ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী তিন লাখ ইয়াবা, ৩০টি দেশে তৈরি বন্দুক, ৭০ রাউন্ড গুলিসহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের উপস্থিতিতে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশ মাদক ও অস্ত্র মামলায় পৃথক দুটি মামলা করে। এই আসামিদের ওই দিনই কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

প্রায় দেড় বছর কারাগারে আটক থাকার পর আসামিরা একে একে জামিনে মুক্তি পান। মামলা চলাকালীন আসামিরা জামিনে ছিলেন। গত ১৫ নভেম্বর মামলার ধার্য দিনে ৮৪ জন আসামি আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে গতকাল রায়ের দিন ধার্য করেন আদালত। ওই দিন অন্য ১৭ জন আসামি হাজির ছিলেন। তাঁদের গতকালও যথারীতি আদালতে হাজির করা হয়।

আসামিদের মধ্যে একজন মারা যাওয়ায় ১০১ জনের বিরুদ্ধে মামলা চলে। এর মধ্যে ১৭ জন কারাগারে রয়েছেন এবং ৮৪ জন পলাতক।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর জানান, সরকারপক্ষ ১০১ জনের অপরাধ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে। এর পরও আদালত দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে প্রতীকী শাস্তি হিসেবে এই রায় দিয়েছেন।



সাতদিনের সেরা