kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সাবেক পুলিশের গুলিতে নিহত শিশুসহ ৩৭

রক্তাক্ত থাইল্যান্ডের শিশু যত্ন কেন্দ্র

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৭ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রক্তাক্ত থাইল্যান্ডের শিশু যত্ন কেন্দ্র

থাইল্যান্ডের এক শিশু যত্ন কেন্দ্রে গতকাল বৃহস্পতিবার গুলি চালিয়ে ২৩ শিশুসহ অন্তত ৩৭ জনকে হত্যা করেছেন সাবেক এক পুলিশ কর্মী। তাঁর হাতে আরো ১২ জন গুরুতর আহত হয়েছে। শিশুদের কলরবে মুখর প্রাঙ্গণ রাতারাতি পরিণত হয় মৃত্যুপুরীতে। নিহতদের মধ্যে ছিল মাত্র দুই বছরের শিশুও।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ বলছে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নং বুয়া লাম ফু প্রদেশে এই রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটে। ৩৪ বছর বয়সী হামলাকারী পান্যা খামরাবকে মাদক সেবনের অভিযোগে গত বছর পুলিশ বাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।

বন্দুক হামলার ঘটনা বিরল হিসেবে পরিচিত থাইল্যান্ডে এ ঘটনায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

পান্যা খামরাব ভয়াবহ এ হত্যাযজ্ঞের পর বাড়ি ফিরে নিজের স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন। তাঁর হামলার উদ্দেশ্য তাত্ক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।

গতকাল স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ছুরি, পিস্তল ও শটগান নিয়ে ওই শিশু যত্ন কেন্দ্রে প্রবেশ করেন হামলাকারী। এরপর এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে শিশুসহ অনেক লোককে হতাহত করেন।

প্রদেশের এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, মোটরসাইকেলে চড়ে নিজের দোকানে যাওয়ার সময় হামলাকারী পান্যা খামরাবের মুখোমুখি হয়েছিলেন পাওয়িনা পুরিচান নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী। পুরিচান বলেন, এ সময় পান্যা বেসামালভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। পুরিচান বলেন, স্থানীয়দের কাছে চিহ্নিত মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত পান্যা। হামলা চালিয়ে পালানোর সময় একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয় পান্যার গাড়ি। এ সময় দুজন আহত হয়।

হামলার পর প্রকাশিত এক ভিডিও ফুটেজে ঘটনাস্থলে সন্তান হারানো অভিভাবকদের কাঁদতে দেখা যায়।

দেশটির পুলিশপ্রধানকে দ্রুত ঘটনার তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুত চান-ও-চা।

রাজধানী ব্যাংককে একটি সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তার গুলিতে দুই সহকর্মী নিহত হওয়ার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটল।

থাইল্যান্ডে বন্দুকের মালিকানার হার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশি থাকলেও গণগুলির ঘটনা খুবই বিরল। স্থানীয় বহুল প্রচারিত পত্রিকা ব্যাংকক পোস্ট বলেছে, সাম্প্রতিক কয়েক বছরে দায়িত্বরত সেনাদের গুলিতে নিহত হওয়ার অন্তত দুটি ঘটনা ঘটেছে।

২০২০ সালে সেনাবাহিনীর অস্ত্রাগার থেকে রাইফেল চুরি করে ১৭ ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব চালান এক সেনা সদস্য। এ সময় তিনি ২৯ জনকে গুলি করে হত্যা করেন। তাঁর গুলিতে বেশ কয়েকজন আহতও হয়। পরে কমান্ডো অভিযানে নিহত হন ওই সেনা। সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তার সঙ্গে ধার নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল ওই সেনা সদস্যের। সূত্র : এএফপি, বিবিসি



সাতদিনের সেরা