kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৯ নভেম্বর ২০২২ । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার

‘সত্য-কথনের’ স্বীকৃতি পেলেন আনি এরনো

সাব্বির খান, স্ক্যান্ডিনেভিয়া প্রতিনিধি   

৭ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘সত্য-কথনের’ স্বীকৃতি পেলেন আনি এরনো

২০২২ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন ‘সত্য-কথন’-এর জন্য পরিচিত ফরাসি লেখক আনি এরনো। তাঁকে পুরস্কৃত করার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরতে গিয়ে সুইডিশ একাডেমির স্থায়ী সেক্রেটারি ম্যাটস মালম বলেন, ‘এরনো সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন সাহস ও নৈর্ব্যক্তিক তীক্ষতার জন্য, যার সাহায্যে তিনি ব্যক্তিগত স্মৃতি, বিচ্ছিন্নতা এবং যৌথ অবকাঠামোর শিকড় উন্মোচন করেছেন। ’

১৯৭৪ সালে আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস ‘Les Armoires Vides’ (শূন্য আলমারি) দিয়ে আত্মপ্রকাশ করেন। ‘সংক্ষেপে’, ‘স্ফটিক-স্বচ্ছ’ ও ‘অনুভূতিহীন’ নামের প্রশংসিত উপন্যাসগুলোতে এরনো নিজের অভিজ্ঞতার কথাগুলোই তুলে এনেছেন।

বিজ্ঞাপন

‘দি ওম্যান’ (তাঁর প্রয়াত মা সম্পর্কে), ‘লজ্জা’ (বাবা কিভাবে মাকে গালি দিতেন তা নিয়ে), ‘একটি মেয়ের স্মৃতি’ (যৌন আত্মপ্রকাশ সম্পর্কে), ‘পরিস্থিতি’ (গর্ভপাত সম্পর্কে) ইত্যাদি তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকীর্তি।

আনি এরনোর সবচেয়ে বিখ্যাত বইগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০০০ সালে প্রকাশিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ  ‘L’événement’, যার আলোকে গত বছর ‘ঘটনা’ বা ‘পরিস্থিতি’ শিরোনামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়েছিল।

এরনোকে দেওয়া পুরস্কারকে অটোফিকশনের (আত্মজীবনীমূলক) মূল্যায়ন হিসেবে দেখা যেতে পারে কি না—এই প্রশ্নের জবাবে সুইডিশ একাডেমির চেয়ারম্যান এলেন ম্যাটসন বলেন, “না, এটি একজন লেখকের জন্য একটি পুরস্কার। ‘অটোফিকশন’ একটি সমস্যাযুক্ত শব্দ। আমি নিশ্চিত নই যে এরনো নিজেই শব্দটিকে বেছে নেবেন কি না। তবে এটা সত্যের অনুসন্ধান দ্বারা চিহ্নিত একটি জীবনের কাজ। ”

আনি এরনো ১৯৪০ সালে উত্তর ফ্রান্সের শ্রমিক শ্রেণি অধ্যুষিত ইভেটোট শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি প্রথম দিকে স্থানীয় খ্রিস্টান স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সাহিত্য অধ্যয়ন করেছেন। পেশায় তিনি শিক্ষক। উচ্চ বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাহিত্য বিষয়ে পড়াতেন।

আনি এরনো মূলত একজন রাজনৈতিক লেখক, যা তিনি নিজেই একাধিকবার বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বলেছেন। তিনি একজন বামপন্থী ঘরানার লেখক হিসেবেই পরিচিত। ফ্রান্সের ‘হলুদ ভেস্ট’ নামে পরিচিত কৃষক বিদ্রোহকে তিনি খোলামেলাভাবেই সমর্থন করেছিলেন। ওই ঘটনা ২০১৮ সালে ফ্রান্সের জাতীয় রাজনীতিতে অস্থিরতার সৃষ্টি করেছিল। এরনোর লেখালেখির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে তাঁর বেড়ে ওঠার সময়কাল তথা পারিবারিক জীবন। একজন ‘প্রলেতারিয়ান লেখক’ হিসেবে এরনোর জীবন পারিপার্শ্বিক সমাজব্যবস্থার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে।

আজ শুক্রবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় প্রথা অনুযায়ী নরওয়ের রাজধানী অসলো থেকে কমিটির চেয়ারম্যান বেরিট রেইস-আন্ডেরসেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবেন।

লেখকের প্রতিক্রিয়া

পুরস্কার ঘোষণার সময় ফোন করেও এরনোকে পাওয়া যায়নি। তার কিছুক্ষণ পরে সুইডিশ সংবাদ সংস্থা টিটি যোগাযোগের চেষ্টা করে তাঁকে পায়। এরনো বাড়িতেই ছিলেন এবং তখনো জানতেন না তিনিই ২০২২ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। টিটির অভিনন্দনবার্তার জবাবে এরনো বলেন,  ‘সত্যিই? আমি খুব অবাক হয়েছি। আপনি কি নিশ্চিত যে আমিই এটা পেয়েছি? আজ সকালে কাজ করার সময় অবশ্য ফোন বাজার আওয়াজ পেয়েছিলাম। ফোনটা ধরিনি। ...আর এখন সারাক্ষণ শুধু ফোন বাজার আওয়াজ পাচ্ছি (হাসি)। ’

সুইডিশ টেলিভিশন এসভিটির সঙ্গে তাত্ক্ষণিক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে এরনো বলেন, পুরস্কার গ্রহণ করতে তিনি অবশ্যই স্টকহোমে যাবেন। জানা মতে, সেখানে তাঁকে একটি বক্তৃতাও দিতে হবে। তিনি তা করবেন বলেও কথা দেন। প্রশ্নের জবাবে এরনো আরো বলেন, ‘এটি একটি বিশাল সম্মান। আবার আমার জন্য একটি মহান দায়িত্বও। এই বিশ্বে ন্যায্যতা আনা একটি বড় দায়িত্ব। ’

 



সাতদিনের সেরা