kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

বিপর্যয়ের কারণ দুর্বল ফ্রিকোয়েন্সি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিপর্যয়ের কারণ দুর্বল ফ্রিকোয়েন্সি

নসরুল হামিদ

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, পূর্বাঞ্চলের উৎপাদন ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়। সিস্টেম ফ্রিকোয়েন্সি রেঞ্জের (চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন ও সরবরাহ কমে যাওয়া) নিচে নেমে যায় এবং আন্ডার ফ্রিকোয়েন্সির (চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন না থাকা) কারণেই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা অস্থিতিশীল হয়েই পূর্বাঞ্চলের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ট্রিপ করে। এতে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে গত মঙ্গলবার গ্রিড বিপর্যয়ের ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে করা সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

নসরুল হামিদ বলেন, ‘এ ধরনের বিভ্রাট এড়াতে হলে অটোমেশনের কোনো বিকল্প নেই। আমাদের সঞ্চালন ব্যবস্থা অনেক পিছিয়ে আছে। আরো আধুনিক ব্যবস্থা করতে হবে। ’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎসচিব হাবিবুর রহমান, পিডিবির চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন।

লিখিত বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ৪ অক্টোবর দুপুর ২টার দিকে পূর্বাঞ্চলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি ছিল এবং পশ্চিমাঞ্চলে বাড়তি বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল। এ অবস্থায় পশ্চিমাঞ্চল থেকে পূর্বাঞ্চলে এক হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল। ঘটনার সময় আশুগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জের ২৩০ কেভির দুটি সার্কিট এবং ঘোড়াশালের দুটি সার্কিট ট্রিপ করায় পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে পূর্বাঞ্চলের উৎপাদন ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়। সিস্টেম ফ্রিকোয়েন্সি রেঞ্জের নিচে নেমে যায় এবং আন্ডার ফ্রিকোয়েন্সির কারণেই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আনস্টেবল হয়েই পূর্বাঞ্চলের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ট্রিপ করে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তাত্ক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে আমরা ঘণ্টাখানেক সময়ের পর থেকে আস্তে আস্তে বিদ্যুৎ রিস্টোর করা শুরু করি। এটা ম্যানুয়ালি করা হয়েছে। এটার বড় জিনিস হচ্ছে আমাদের এখন অটোমেশনে যেতে হবে এবং আমরা কাজ শুরু করেছি। হয়তো আগেই করতে পারতাম কিন্তু কভিডের কারণে দুই বছর পিছিয়ে গেছি। মানে এটা শেষ হতে হয়তো আরো দুই বছর লাগবে। গ্রিডকে স্মার্ট গ্রিডে পরিণত করা, এটা একটি বড় বিষয় এই মুহূর্তে। ’

নসরুল হামিদ বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ উদঘাটনে পিজিসিবির পক্ষ থেকে একটি সাত সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে বুয়েট ছাড়াও অনেক বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের বাইরের থেকে লোক নিয়ে আরো একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুটি কমিটি এখন তদন্তের কাজ করছে। কমিটির সদস্যরা ৫ অক্টোবর ঘোড়াশাল গ্রিড উপকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যত দ্রুত অটোমেশনে যাব, তত দ্রুত সমস্যা কমে আসবে। আমরা বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছিলাম। করোনার কারণে দুই বছর আমাদের অনেক কাজ পিছিয়ে গেছে। ’ তিনি বলেন, পিজিসিবি অনেক কাজে পিছিয়ে আছে। বিতরণে আমরা যতটা এগিয়েছি, সঞ্চালনে সেই পরিমাণ এগোতে পারিনি। আরো আধুনিকভাবে আমাদের কাজ করতে হবে। ’

২০১৪ সালের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের তদন্ত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘সেদিনের ঘটনা আর আজকের ঘটনা একেবারেই আলাদা। সেই সময়ের তুলনায় আমরা অনেক এগিয়ে গিয়েছি। এবার যত দ্রুত আমরা বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেছিলাম, গতবার সেটা হয়নি। এবার সাত ঘণ্টার মধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে। ঢাকায় আমরা দেরি করেছি, কারণ ঢাকার চাহিদা বেশি, তাই আবার ট্রিপ করার ঝুঁকি নিইনি। আস্তে আস্তে ঢাকায় সরবরাহ শুরু করা হয়। ’

 



সাতদিনের সেরা