kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০২২ । ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

পাইকারিতে বিদ্যুতের দাম ১৫% বাড়ছে

সজীব আহমেদ   

৩ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পাইকারিতে বিদ্যুতের দাম ১৫% বাড়ছে

বিদ্যুতের পাইকারি দাম ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। শিগগিরই এ দামের ঘোষণা দিতে পারে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এরই মধ্যে সংস্থাটি পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। পাইকারিতে বাড়লেও খুচরা বা গ্রাহক পর্যায়ে এখনই দাম বাড়ছে না।

বিজ্ঞাপন

বিইআরসির সূত্রে জানা গেছে, বিইআরসি প্রাথমিকভাবে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেও এখন ১৫ শতাংশের মধ্যে রাখার চেষ্টা করছে। তবে ভর্তুকির পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে মূল্যবৃদ্ধির পরিমাণ ১৫ শতাংশের কমবেশি হতে পারে। বিদ্যুতের দাম ভোক্তা পর্যায়ে সহনীয় রাখতে সম্প্রতি সরকারপক্ষ থেকে বিইআরসিকে ১৭ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

দেশে বিদ্যুতের একক পাইকারি  বিক্রেতা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। বিপিডিবির কাছ থেকে বিদ্যুৎ কিনে গ্রাহক বা খুচরা পর্যায়ে বিতরণ করে দেশের পাঁচটি কম্পানি। এগুলো হলো ডেসকো, ডিপিডিসি, আরইবি, নেসকো ও ওজোপাডিকো। বিপিডিবিও পাইকারি বিদ্যুৎ বিক্রির পাশাপাশি দেশের কিছু এলাকায় সরাসরি বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিইআরসির ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা গতকাল রবিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চলতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার অথবা আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকেই পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হবে, যা চলতি মাসের ১ তারিখ থেকেই কার্যকর হবে। পাইকারি দর বাড়লেও খুচরা বা গ্রাহক পর্যায়ে দাম আপাতত বাড়ছে না। তবে বিদ্যুৎ বিতরণকারী কম্পানিগুলো খরচ বাড়ার যুক্তি দেখিয়ে খুচরা মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব দিতে পারে। সেই প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি শেষে আগামী বছরের শুরুর দিকে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়তে পারে। ’

এদিকে গত ১৮ মে বিদ্যুতের পাইকারি (বাল্ক) মূল্যহার বৃদ্ধি নিয়ে বিইআরসিতে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। যদিও আইন অনুযায়ী গণশুনানির ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে মূল্যসংক্রান্ত বিষয়ে ঘোষণা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে হিসাবে চলতি মাসের ১৪ তারিখ শেষ হচ্ছে বিইআরসির নির্ধারিত সময়।

জানতে চাইলে বিইআরসির সদস্য (বিদ্যুৎ) মোহাম্মদ বজলুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পাইকারি বিদ্যুতের নতুন দামের ঘোষণাটি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই দেওয়া হবে। সরকার ভর্তুকি দেওয়ায় বিদ্যুতের দাম বেশি বাড়ার সম্ভাবনা নেই, দাম স্বল্প পরিসরে বাড়তে পারে। ’

বিপিডিবি সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুতের পাইকারি দাম বাড়ানোর জন্য চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিইআরসিতে প্রস্তাব দিয়েছিল বিপিডিবি। ওই প্রস্তাবের ওপর কমিশন গণশুনানি করে গত ১৮ মে। সে সময়ে বিপিডিবি বিদ্যুতের দাম ৬৯ শতাংশ বাড়িয়ে ইউনিটপ্রতি আট টাকা ৫৮ পয়সা করার প্রস্তাব দেয়। বর্তমানে বিপিডিবির সরবরাহকৃত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের পাইকারি দাম গড়ে পাঁচ টাকা ১৭ পয়সা। গণশুনানিতে বিইআরসির কারিগরি কমিটি ভর্তুকি ছাড়া বিদ্যুতের মূল্য ৫৮ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করে। গণশুনানিতে দাম বাড়ার বিষয়ে বিপিডিবির পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, বিদ্যুৎ উৎপাদনে তাদের ইউনিটপ্রতি খরচ হচ্ছে ৯ টাকারও বেশি। এতে ২০২১-২২ অর্থবছরে বিপিডিবির লোকসান হয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকা। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিপিডিবি বিদ্যুতের বর্তমান দর ইউনিটপ্রতি পাঁচ টাকা ১৭ পয়সা থেকে বাড়িয়ে আট টাকা ৫৮ পয়সা করার প্রস্তাব দেয়।

বিইআরসির চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল গতকাল এলপিজির দাম নির্ধারণের ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমাদের কিছু কাজ বাকি আছে, সেটি আর দু-এক দিন লাগতে পারে। এর পরই আমরা পাইকারি বিদ্যুতের নতুন দাম ঘোষণা দিতে পারব। ’

ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সিনিয়র সহসভাপতি জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম বলেন, ‘ডিজেলের উচ্চমূল্যের কারণে ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। একই কারণে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি বন্ধ রাখায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে, যার কারণে দেশজুড়ে অতিমাত্রায় লোডশেডিং হচ্ছে। এ অবস্থায় বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর যুক্তি নেই। ’

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দেশে গত ১২ বছরে ৯ বার বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। এ সময়ে পাইকারি পর্যায়ে ১১৮ শতাংশ ও গ্রাহক পর্যায়ে ৯০ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে দাম বাড়ানো হয়।



সাতদিনের সেরা