kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

অভিমত

সরকারকে কৌশলী পদক্ষেপ নিতে হবে

২ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সরকারকে কৌশলী পদক্ষেপ নিতে হবে

শামছুল হক

মানুষ আরামদায়ক ব্যবস্থা বেছে নেবে, এটাই স্বাভাবিক। মানুষ এখন ঘরের সামনে গিয়ে নামতে চায়। এ কারণে আমাদের দেশ নদীমাতৃক হলেও ৮৮ শতাংশ যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করা হয় সড়কপথে। কিন্তু সরকারকে কৌশলগতভাবে যোগাযোগব্যবস্থার বিন্যাস করতে হয়।

বিজ্ঞাপন

বিকল্প পথ তৈরি করতে হয়।

পুরো পৃথিবীতে নৌপথ ও রেলপথকে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে। ভারসাম্যপূর্ণ বহুমাত্রিক ব্যবস্থা তৈরির মাধ্যমে যোগাযোগ খাতে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আসছে উন্নত দেশগুলো। এর লক্ষ্য, মানুষের জন্য সব সময় সঠিক বিকল্প রাখা। বিকল্প না থাকলে মানুষ বিপদে পড়বে।

যোগাযোগের ক্ষেত্রে সব কিছু সড়কপথে নিয়ে আসা টেকসই উন্নয়নের দর্শনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। বাংলাদেশের অমিত সম্ভাবনা হলো নৌপথ। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। জাগিয়ে রাখতে হবে। সরকারের এখন উন্নয়নের বড় দর্শন হচ্ছে ডেল্টা পরিকল্পনা। এতে বড় ধরনের বিনিয়োগের কথা বলা হচ্ছে। কৌশলগত কারণেও এটা করা জরুরি।  

২৫ হাজার কিলোমিটার আমাদের নৌপথ। শুষ্ক মৌসুমে হয়ে যায় পাঁচ হাজার কিলোমিটারের মতো। ডেল্টা পরিকল্পনার আওতায় এই নদীপথকে ধাপে ধাপে পুনর্জীবিত করতে হবে। নিচু সেতুগুলো ভাঙতে হবে। নতুন সেতু অনেক উঁচু করে বানাতে হবে। এতে নৌপথে যাত্রীসেবার মান বাড়বে।

ডেল্টা পরিকল্পনার মূল কথাই হলো, নদীকে যোগাযোগব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে তৈরি করতে হবে। সরকারকে এখানে কৌশলগত কারণে যথেষ্ট পরিমাণ ভূমিকা রাখতে হবে। বাজার প্রতিযোগিতায় নৌপথ হারিয়ে যাবে। যাঁরা একসময় চাহিদা দেখে বিনিয়োগ করেছিলেন, সেটা অন্য কোথাও সরিয়ে নেবেন, এটা ভালো লক্ষণ নয়।

যদি ধরে নিই, পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে এমনটা হচ্ছে। মানে লঞ্চ ধীরে ধীরে কমছে। বলা হচ্ছে, পদ্মা সেতু দক্ষিণাঞ্চলের দ্রুতগতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। সেখানে অনেক শিল্প-কারখানা হবে। দ্রুত পণ্য পরিবহনে পদ্মা সেতু ব্যবহার করা হবে। যদি তা-ই হয়, তাহলে এখানেও সরকারকে কৌশলী হতে হবে। সেতুতে ট্রাকের টোল সহনীয় করতে হবে, যাতে পণ্য পরিবহনে সুবিধা হয়। আর যাত্রী পরিবহনে টোল বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে যাত্রীদের জন্য সুন্দর বিকল্প তৈরি করতে হবে। কিন্তু এখন ট্রাকের জন্য বেশি, যাত্রীদের জন্য কম টোল নেওয়া হচ্ছে। আমাদের জাতীয় লক্ষ্যের সঙ্গে এটা ঠিক যাচ্ছে না।

আমরা নৌপথ বাঁচানোর জন্য হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করব। অথচ  যাত্রীর অভাবে লঞ্চ কেটে বিক্রি করে দিচ্ছেন মালিকরা। এটা পরিকল্পনার দুর্বলতার প্রকাশ। সরকারকে নৌ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে। লঞ্চের ট্যাক্স ভ্যাট সরকার যা নেয়, সেগুলো কমাতে হবে। তাহলে বহুমাত্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ভারসাম্যপূর্ণ টেকসই উন্নয়ন টিকবে। তাই নৌশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সরকারের প্রণোদনা ও তদারকি দরকার।

সরকারের নীতির মধ্যে যেহেতু আছে নৌপথকে গুরুত্ব দেওয়া, তাহলে সেটা মুখে নয়, কাজে দেখাতে হবে। মনে রাখতে হবে, সব কিছু সড়কপথে চলে গেলে পদ্মা সেতুর ক্ষমতাও কমে যাবে। আমরা এটাকে অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড হিসেবে তৈরি করেছি। ছোট ছোট গাড়ির চলাচল উৎসাহিত করা কখনোই কৌশলী পদক্ষেপ হতে পারে না।

লেখক : পরিবহন ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ

অধ্যাপক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)



সাতদিনের সেরা