kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

রাখাইনে সংঘাত, সেনা উপস্থিতি আরো বেড়েছে

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাখাইনে সংঘাত, সেনা উপস্থিতি আরো বেড়েছে

মিয়ানমারের রাখাইন ও চীন রাজ্যে সামরিক সদস্যদের উপস্থিতি এবং লড়াই-সংঘাত আরো বেড়েছে। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মি রাখাইন রাজ্যজুড়ে লড়াই চালাচ্ছে। গত আগস্ট থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৭ হাজারেরও বেশি বাসিন্দা নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

এদিকে মিয়ানমারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমগুলো দেশটিতে জান্তাবিরোধী গোষ্ঠীগুলোর হামলায় সেনা ও তাদের সহযোগীদের ব্যাপক হতাহতের খবর দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মিজিমার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আত্মরক্ষার জন্য মিয়ানমারের জনগণ ‘পিপলস ডিফেন্স ফোর্সে’ যোগ দিচ্ছে ও মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে। গত বুধবার মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ৭৩ জন সদস্য নিহত এবং ১৩ জন আহত হয়েছে। অন্যদিকে ইরাবতীর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের রাখাইন, মোন, শান ও কারেন রাজ্য এবং সাগাইং ও ইয়াঙ্গুন অঞ্চলে পিপলস ডিফেন্স ফোর্সেস ও সশস্ত্র নৃগোষ্ঠীগুলোর হামলায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চারজন ক্যাপ্টেন, তথ্যদাতাসহ জান্তার পক্ষের ২০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছেন।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাখাইন ও চীন রাজ্যে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী ও আরাকান আর্মির লড়াইয়ে বিমান থেকে হামলা, স্থলমাইন, গোলা ব্যবহার করা হচ্ছে। দুই পক্ষের তীব্র লড়াইয়ে বেসামরিক লোকজন হতাহত হয়েছে। সম্পদ ধ্বংস ও বাস্তুচ্যুতি ঘটছে। রাখাইন রাজ্যের পন্যাগিউন, মিনবিয়া, বুথিডং, রাথিডং ও মংডু এলাকায় গত সপ্তাহজুড়ে ব্যাপক লড়াই হয়েছে।

জাতিসংঘের হিসাবে, গত আগস্ট থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার লোক বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এর ফলে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতের সংখ্যা ৯১ হাজার ছাড়িয়েছে। এর বাইরে ২০১২ সালে সাম্প্রদায়িক সংঘাতে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত এক লাখ ৩৭ হাজার ব্যক্তি আছে। তারা মূলত রোহিঙ্গা।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে নতুন করে সংঘাতে যারা বাস্তুচ্যুত হয়েছে, তারা এর আগে বাস্তুচ্যুতির স্থানগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। তারা নতুন করে জীবন, জীবিকা শুরুর চেষ্টা করছে। অন্যরা এখনো আশ্রয়ের জন্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পালাচ্ছে। পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে, বলা কঠিন।

আশ্রয়শিবির ছাড়তে বাস্তুচ্যুতদের চাপ

বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ওই এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠা কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুতদের নিজ নিজ এলাকায় ফেরার জন্য চাপ দিচ্ছে। অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত শিবিরগুলো এই মাসে বন্ধ হয়ে যেতে পারে, এমন আশঙ্কাও আছে।

জাতিসংঘ মনে করে, চলমান সংঘাতের মধ্যে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত শিবিরগুলো বন্ধ করে দেওয়া হলে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেবে। এ কারণে রাখাইন ও চীন রাজ্যে বাস্তুচ্যুতদের জন্য আশ্রয়শিবির বন্ধ না করা ও নিজেদের জায়গায় ফিরতে হলে তা যেন জোরপূর্বক না হয়, সে জন্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

নির্বিচারে হামলা

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লড়াই তীব্র হওয়ার পাশাপাশি সামরিক উপস্থিতি ব্যাপক বেড়েছে। বেসামরিক জনগণ নির্বিচার হামলার শিকার হচ্ছে। তাদের বাড়িঘরে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। রাখাইন রাজ্যে লড়াইয়ের সময় বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট ও টেলিফোন সেবা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। মংডু-বুথিডং সড়ক খোলা থাকলেও মংডু-অহ নু মাও সড়কে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী রাখাইনে সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে রাজ্যের রাজধানী সিটুয়ে ও উত্তর রাখাইনের বিভিন্ন এলাকায় জনগণের চলাফেরা বিঘ্নিত হচ্ছে।

খাবার ও ওষুধ পরিবহনও বন্ধ

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, পালেতওয়া এলাকায় খাবার ও ওষুধ পরিবহনেরও সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। রাজ্যজুড়ে নতুন নতুন তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে। মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ তল্লাশি করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচল ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ধিত বিধি-নিষেধ ও তল্লাশির কারণে পথে দৈনিক তিন থেকে চার ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় লাগছে। এর ফলে পণ্য সরবরাহকারীরা অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়শিবিরে খাদ্য সরবরাহে আগ্রহী হচ্ছে না। এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরাকান আর্মির কাছ থেকেও অনুমতি নিতে হচ্ছে

আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থাগুলোকে (আইএনজিও) আগে রাখাইন রাজ্যে তাদের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মাসে একবার বা দীর্ঘমেয়াদি অনুমোদন নিতে হতো। সংঘাত তীব্র হওয়ার পর এখন দৈনিক ভিত্তিতে অনুমতি নিতে হচ্ছে। গত মে মাস থেকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি আরাকান আর্মিও আইএনজিওগুলোর জন্য নিবন্ধন ও অনুমতি নেওয়ার ব্যবস্থা চালু করেছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন অনুমতি পেতে দেরি হচ্ছে। এতে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে।



সাতদিনের সেরা