kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০২২ । ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

কাউন্সিলর একরাম হত্যা

আমার ব্যক্তিগত ক্যাপাসিটিতে ঘটেনি : আইজিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আমার ব্যক্তিগত ক্যাপাসিটিতে ঘটেনি : আইজিপি

বেনজীর আহমেদ

‘বন্দুকযুদ্ধে’ টেকনাফের কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যা প্রসঙ্গে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ বলেছেন, ‘এটা আমার ব্যক্তিগত ক্যাপাসিটিতে ঘটেনি। এটা ঘটেছে সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে...আমার ফিল্ড লেভেলের লোকজন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ঘটনাটি ঘটেছে। ’

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজারবাগ পুলিশ অডিটরিয়ামে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে আইজিপি এ কথা বলেন। প্রায় সাড়ে ৩৪ বছরের পুলিশের কর্মজীবন শেষে অবসরে যাওয়ার আগে তাঁর শেষ কর্মদিবসে নিজের পেশাগত জীবনের নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিদায়ি আইজিপি বলেন, ‘যে ঘটনাটির কথা উল্লেখ করলেন এটা কিন্তু একটা লিগ্যাল বিষয়। লিগ্যাল বিষয়টা যদি অন্যায্য বা অনৈতিক এ ধরনের কিছু চিহ্নিত না হওয়া পর্যন্ত আমার ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশের কোনো সুযোগ নেই। এটা আমার ব্যক্তিগত ক্যাপাসিটিতে ঘটেনি। এটা ঘটেছে সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে...আমার ফিল্ড লেভেলের লোকজন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনা ঘটার পরে যে ভদ্রলোক নিহত হয়েছেন তাঁর সঙ্গে কিন্তু ব্যক্তিগত বিরোধ নেই। এটা কিন্তু ব্যক্তিগত বিষয় না। আমরা অনেকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করি এটা ব্যক্তিগত বিষয়। যাঁরা দায়িত্ব পালন করতে গিয়েছিলেন, যাঁদের সঙ্গে ঘটনা ঘটেছে, অনেকের সঙ্গে তাঁদের পরিচয়ও নেই, চেনেও না। ফলে ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে নেওয়ার অ্যাপ্রোচটা বোধ হয় রাইট অ্যাপ্রোচ না। আমাদের যাঁরা দায়িত্ব পালন করেন, তাঁরা সরকারি দায়িত্ব পালন করেন। আমাদের দেখা দায়িত্ব যে আমাদের কোনো সহকর্মী ম্যানডেটের বাইরে গেছেন কি না। ম্যানডেটকে ওভারস্টেপ করেছেন কি না। যদি ওভারস্টেপ করে থাকেন তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এটা হলো বিষয়। ’

আইজিপি আরো বলেন, ‘আমার কাছে তথ্য আছে, একাধিক তদন্ত হয়েছে। ম্যাজিস্টারিয়াল ইনকোয়ারি হয়েছে। আমি যখন চলে আসি তখন ইন্টারনাল ইনকোয়ারির আদেশ দিয়ে এসেছি। তদন্ত হয়নি এটা বলা ঠিক হবে না। ’ তিনি বলেন, ‘যে পর্যন্ত বিষয়টি অন্যায্য বা অনৈতিক প্রমাণিত না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত এ বিষয়ে আমার অনুভূতি প্রকাশ করার সুযোগ নেই। ’

টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর এবং টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি একরামুল হক ২০১৮ সালে ২৬ মে মাদকবিরোধী অভিযানে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। কিন্তু পরে একরামুলের মোবাইল ফোনে নিহত হওয়ার আগ মুহূর্তের তাঁর স্ত্রী এবং মেয়ের সঙ্গে কথোপকথন ফাঁস হয়ে গেলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘আমাদের দেশে এক ধরনের নষ্ট রাজনীতির দুষ্ট চর্চা ছিল, এখনো আছে। সেই এক শ্রেণির মানুষ অন্যায়ভাবে ও অযৌক্তিকভাবে আমাকে তাদের বিপক্ষে আবিষ্কার করেছে। তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, তাদের প্রতিও কোনো অভিযোগ নেই, কোনো অনুযোগ নেই। তারাও ভালো থাকবে, সে প্রত্যাশা করব। কারণ সবাইকে নিয়েই আমাদের আজকের বাংলাদেশ। ’ তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ কর্মজীবনে বিশেষ করে ডিএমপি কমিশনার, র‌্যাব ডিজি ও আইজিপি হিসেবে দীর্ঘ ১২ বছর দায়িত্ব পালনকালে সব ভালো কাজের কৃতিত্ব সরকার ও জনগণের। আর ব্যর্থতাগুলো আমি নিচ্ছি। ব্যর্থতার দায় নেওয়ার সৎসাহস আমার আছে। ’

চাকরি জীবনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের বিষয়ে জানতে চাইলে বেনজীর আহমেদ বলেন, সব চ্যালেঞ্জই চ্যালেঞ্জ। যতক্ষণ না পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জকে অতিক্রম না করতে পারব ততক্ষণ পর্যন্ত সেটাই নির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জ। তবে ফরমালিনমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করা ও সুন্দরবনকে জলদস্যুমুক্ত করা অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ মনে হয়েছে।

বিক্ষোভ দমন করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে অনেক সময় মানুষ মারা যায়, এ বিষয়ে বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘এগুলো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। আমাদের প্রাথমিক ও প্রধান লক্ষ্য থাকে মানুষের জীবন বাঁচানো। এর জন্যই আমাদের হাতে অস্ত্র থাকে। যদি এর ব্যত্যয় ঘটে তাহলে বিভাগীয় তদন্ত হয়ে থাকে। ’

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে বিদায়ি আইজিপি বলেন, ‘বাংলাদেশে পুলিশ অনেক আগে থেকে মানবিক বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। হেফাজতে নির্যাতন প্রতিরোধ আইন শুধু হয়তো আমাদের দেশেই আছে। এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট ফোরামে জবাব দেওয়া হয়েছে। ’

‘গুরুতর’ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র গত ডিসেম্বরে র‌্যাব ও এর সাবেক-বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলে ওই তালিকায় বেনজীর আহমেদের নামও আসে।

অবসরে গিয়ে রাজনীতি করবেন কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, ‘অবসরে গিয়ে অবসর নিয়েই ভাবব। এত দিন সরকারের দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে মানুষের সেবা করার চেষ্টা করেছি। অবসরে ব্যক্তি হিসেবে মানুষের সেবা করার চেষ্টা করব। এককথায় সমাজের অংশ হিসেবেই থাকব। ’

 



সাতদিনের সেরা