kalerkantho

রবিবার । ৪ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

জিন বদলে দেওয়া মশা ঠেকাবে ম্যালেরিয়া

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জিন বদলে দেওয়া মশা ঠেকাবে ম্যালেরিয়া

মশাবাহিত রোগ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে প্রতিবছর কয়েক লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। অনেক দিনের চেষ্টার পর তৈরি করা প্রথম টিকাগুলোর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলছে। এবার মশার জিনগত পরিবর্তন এনে সম্ভাব্য প্রাণঘাতী রোগটির সংক্রমণ ঠেকানো সম্ভব হবে বলে দাবি করেছেন একদল বিজ্ঞানী।

সম্প্রতি সায়েন্স অ্যাডভানসেস জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের গবেষকরা দাবি করেছেন, তাঁরা ল্যাবে মশার জিনগত পরিবর্তন ঘটিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

সেই মশার পেটে ম্যালেরিয়ার জীবাণু সেভাবে বাড়তে পারে না। আশা করা হচ্ছে, ল্যাবে উৎপাদিত এসব মশার জিনগত পরিবর্তন প্রকৃতিতে থাকা বন্য মশার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে ম্যালেরিয়ার সংক্রমণ ঠেকানো সম্ভব হবে।

একটি স্ত্রী মশা ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত কোনো ব্যক্তিকে কামড়ালে সেই মশার পেটে জীবাণুটি বিকশিত হয়। জীবাণুটি এর পরের পর্যায়ে গিয়ে মশার লালাগ্রন্থিতে চলে যায়। তখন পরবর্তী ব্যক্তিকে কামড় দিয়ে সংক্রমিত করে মশাটি। যদিও জীবাণুটির সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতা অর্জন করতে যে সময় লাগে, তত দিন পর্যন্ত মাত্র ১০ শতাংশ মশা বেঁচে থাকে। এই বিষয়টিকে মাথায় রেখেই রণকৌশল সাজিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

জিনগত পরিবর্তন এনে ল্যাবে বিশেষ ধরনের মশা তৈরি করা হয়েছে। এ মশাগুলোর পেটে জীবাণুর বিকাশে যে সময় প্রয়োজন, তা বেড়ে যাবে। এর ফলে জীবাণু লালাগ্রন্থিতে পৌঁছানোর আগেই মশার মৃত্যু হবে।

বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের ইনস্টিটিউট অব ডিজিজ মডেলিংয়ের ওই গবেষকরা এমন একটি মডেলও তৈরি করেছেন, যার মাধ্যমে মশার জিনগত পরিবর্তনের প্রভাব নির্ধারণ করা যাবে।

সায়েন্স অ্যাডভানসেস জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ল্যাবে চালানো পরীক্ষায় এই কৌশলে নাটকীয়ভাবে ম্যালেরিয়ার সংক্রমণের আশঙ্কা কমতে দেখা গেছে। যদি বাস্তবেও এটি নিরাপদ ও কার্যকর প্রমাণিত হয় তাহলে ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

আফ্রিকার সাব সাহারান অঞ্চলে ম্যালেরিয়াবাহী মশার প্রধান প্রজাতির জিন পরিবর্তন করেছে ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের গবেষকদল ‘ট্রান্সমিশন : জিরো টিম’। এর ফলে রক্ত চোষার পর মশা নিজের পেটে জীবাণুরোধী পেপটাইড (একাধিক অ্যামিনো এসিডের সংমিশ্রণ) উৎপাদন করে। এই পেপটাইড ম্যালেরিয়ার বিপাক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে জীবাণুর বিকাশে বাধা দেয়। এর ফলে মশার আয়ু কমে যায় এবং তাদের ম্যালেরিয়া ছড়ানোর প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।

নতুন কৌশলটিকে বর্তমানে বিদ্যমান জিন ড্রাইভ প্রযুক্তির সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলেন, ওষুধ, টিকা ও মশক নিধন কর্মসূচির সঙ্গে মিলে জিন ড্রাইভ সাফল্য এনে দিতে পারে। সূত্র : পিটিআই



সাতদিনের সেরা