kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ নভেম্বর ২০২২ । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

হিমালয়ের শোক ভারী হয়ে বুকে বিঁধছে

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হিমালয়ের শোক ভারী হয়ে বুকে বিঁধছে

নৌকাডুবিতে নিখোঁজ হিমালয়ের লাশ গতকাল উদ্ধারের পর তাঁর বোন নিতির আহাজারি। ছবি : কালের কণ্ঠ

দুই মাসও হয়নি সিঁথিতে সিঁদুর, হাতে শাঁখা পরেছিলেন বন্যা রানী। এর মধ্যেই মুছে গেল সিঁথির সিঁদুর, ভেঙে গেল হাতের শাঁখা। যে হিমালয়কে সাত পাকে বেঁধেছিলেন তিনি, ভালোবাসার সেই মানুষ আজ চিতায়। বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন বন্যা।

বিজ্ঞাপন

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনার চতুর্থ দিনে পাওয়া গেল হিমালয়ের মরদেহ। এর আগে ভাইয়ের সন্ধানে প্রতিদিন করতোয়াতীরে অপেক্ষা করছিলেন হিমালয়ের বোন নিতি রানী। গতকাল শেষ বিকেলে ভাইয়ের লাশ পেয়ে করতোয়াতীরে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিতি।   পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ময়দানদীঘি খোলাপাড়া এলাকার বীরেন চন্দ্র রায়ের ছেলে হিমালয়। গত ১ আগস্ট হিমালয়-বন্যার বিয়ে হয়েছিল।

নিতি রানী বলেন, ‘হায় ভগবান আমি ভাই বলে কাকে ডাকব?’

হিমালয়ের বাবা বীরেন চন্দ্র রায় বলেন, ‘পাহাড়সমান স্বপ্ন ছিল আমার একমাত্র ছেলেকে নিয়ে। পুরো গ্রামের মানুষ অপেক্ষা করছে। আমার সব শেষ হয়ে গেল। ’

বোদা উপজেলার আউলিয়ার ঘাটে নৌকাডুবিতে হিমালয়সহ এ পর্যন্ত ৬৯ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে নারী ৩১, শিশু ২১ এবং পুরুষ ১৭ জন। নৌকায় বেশির ভাগ নারী-শিশু থাকায় তাদের মৃত্যুও বেশি বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা। তাদের ভাষ্য, বেশির ভাগ শিশু সাঁতার জানত না। নারীদের কেউ কেউ সাঁতার জানলেও পানির বেগে টিকতে পারেনি।

প্রত্যক্ষদর্শী আজগর আলী বলেন, নৌকায় পুরুষদের ফাঁকে ফাঁকে ছিল শিশু ও নারীরা। নারী ও শিশুদের একটা বড় অংশ ছিল নৌকার মাঝখানে। নৌকাটি উল্টে চাপা পড়ায় নারী ও শিশুরা উঠতে তীরে পারেনি। এ ছাড়া স্রোত ছিল অনেক বেশি।

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘নারী ও শিশুদের বেশি মৃত্যু হওয়ার অনেক কারণ থাকতে পারে। আশা করি, আমাদের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে তা উঠে আসবে। তদন্ত কমিটির সদস্যরা উদ্ধারকাজ পরিচালনা, তথ্য সংগ্রহ, অর্থ সহায়তাসহ বিভিন্ন কাজের পাশাপাশি তদন্তকাজও করছেন। এ ছাড়া উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়ায় এবং আরো তথ্য সংগ্রহের জন্য তাঁরা অতিরিক্ত আরো তিন দিন সময় চেয়েছেন প্রতিবেদন দাখিলের জন্য। আমরা তাঁদের প্রতিবেদন দাখিলের সময় তিন দিন বৃদ্ধি করেছি। ’

প্রতি পরিবার পাবে প্রায় দেড় লাখ টাকা

মারা যাওয়া ব্যক্তিদের প্রতি পরিবারকে সরকারি-বেসরকারিভাবে প্রায় দেড় লাখ টাকা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে এই অর্থ তুলে দেবেন বলে কথা রয়েছে। এ ছাড়া ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে ২৫ হাজার, জেলা প্রশাসন থেকে ২০ হাজার, রেলপথমন্ত্রী পাঁচ হাজার, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ২৫ হাজার এবং জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ থেকে ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হবে পরিবারগুলোকে।

 



সাতদিনের সেরা