kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০২২ । ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

‘ছাত্রলীগ না করলে হলে থাকা যাবে না’ বলেই মারধর

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




‘ছাত্রলীগ না করলে হলে থাকা যাবে না’ বলেই মারধর

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগকর্মীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে না যাওয়ায় এক সাংবাদিককে মারধর করা হয়েছে। ‘ছাত্রলীগ না করলে হলে থাকা যাবে না’ বলে ওই সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। সোমবার সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ এফ রহমান হলে এই ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম মনিরুল হাসান বলেন, ‘সাংবাদিককে শারীরিকভাবে হেনস্তার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আমরা দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেব। ’

ভুক্তভোগী সাংবাদিকের নাম রিদওয়ান আহমদ। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। পাশাপাশি তিনি ঢাকা মেইল ও দৈনিক কালবেলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক উপগ্রুপ বিজয়ের কর্মী ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নাহিদুল ইসলামের জন্মদিন ছিল। এ উপলক্ষে বিজয়ের নেতাকর্মীরা কেক কাটাসহ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। রাত ১১টার দিকে কেক কাটতে নেতাকর্মীরা হলের ফটকের সামনে জড়ো হন। এর মধ্যে কয়েকজন এসে রিদওয়ানকে ছাত্রলীগের সব অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতে অংশ নিতে বলেন; কিন্তু রিদওয়ান জন্মদিনের কর্মসূচিতে যাননি। রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ এফ রহমান হলের রিদওয়ানের ২১২ নম্বর কক্ষে যান বিজয় গ্রুপের কর্মী আরশিল আজিম নিলয় (লোক প্রশাসন বিভাগের ছাত্র), আবু বকর সিদ্দিক (নাট্যকলা বিভাগ) ও শোয়েব আতিক (নৃবিজ্ঞান বিভাগ)। তিনি কেন অনুষ্ঠানে যাননি, তাঁরা তার কারণ জানতে চান। এক পর্যায়ে আরশিলের নির্দেশে রিদওয়ানকে মারধর করেন শোয়েব। এ সময় তাঁরা রাতের মধ্যেই তাঁকে হল থেকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন।

ভুক্তভোগী রিদওয়ান আহমদ বলেন, ‘রাতে এক ছাত্রলীগকর্মীর জন্মদিন পালনের জন্য আমার রুমে এসে ডাক দিয়েছিল ২০১৮-১৯ সেশনের আরশিল আজিম নিলয়। আমি যখন সাংবাদিক পরিচয় দিলাম, তারা আমাকে বলল, ছাত্রলীগ না করলে হলে থাকা যাবে না। এরপর আরশিল আজিম নিলয় তার সঙ্গে থাকা শোয়েব আতিককে মারধর করার নির্দেশ দেয়। শোয়েব আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করলে আমি সঙ্গে সঙ্গে বিজয় গ্রুপের নেতা আল আমিন ভাইকে কল দিয়ে বিষয়টি জানাই। তিনি তাদের নিষেধ করার পরও আমাকে আরো দুই দফায় মারধর করা হয়। তবে আবু বকর ভাই শুধু ঘটনাস্থলে ছিলেন, তিনি আমাকে মারধর করেননি। ’

অভিযুক্ত ছাত্রলীগকর্মী শোয়েব আতিকের মুঠোফোনে ফোন দিয়ে বন্ধ পাওয়া গেছে। পরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে যদি সাংবাদিক হিসেবে না-ও ধরি, তাহলেও তো বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সাধারণ শিক্ষার্থীকে কোনো সংগঠনের কর্মী বা সমর্থকরা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করতে পারেন না। আমি প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, প্রশাসন যেন খুবই দ্রুত দোষীদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসে। ’ ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অভিযুক্তরা আমাদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটির কোনো পদে নেই। তাই তাঁদের বিরুদ্ধে আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব নয়। ’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেব না। কিছুদিন আগেও সাংবাদিকদের সঙ্গে ছাত্রলীগের বিজয় গ্রুপের অনুসারীরা ঝামেলা করেছিল। আমরা অভিযোগ দেওয়ার পরও প্রশাসন শুধু কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া ছাড়া আর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এবার যদি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হয় তাহলে আমরা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো। ’

তদন্ত কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ইকবাল আহমেদকে আহ্বায়ক, সহকারী প্রক্টর অরূপ বড়ুয়াকে সদস্য ও সহকারী প্রক্টর মুহাম্মদ ইয়াকুবকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যাই। ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলি। তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। নিয়মানুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

 



সাতদিনের সেরা