kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

‘মোর কলিজার ধন চলে গেইল বাপু’

লুৎফর রহমান, পঞ্চগড়   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘মোর কলিজার ধন চলে গেইল বাপু’

বাবার চিতায় আগুন দিয়ে অজানা ভবিষ্যতের আশঙ্কায় নির্বাক সাত বছরের শিশু কৌশিক। আর পরিবারের একমাত্র বটবৃক্ষকে হারিয়ে কৌশিকের মায়ের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশের পরিবেশ। গত রবিবার পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় নৌকাডুবিতে নিহত বটতলী এলাকার দিনমজুর জগদীশ চন্দ্র রায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন হলেও কান্না থামছে না পরিবারটির। একই এলাকার আরো তিনটি পরিবারও তাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশাহারা।

বিজ্ঞাপন

জগদীশের স্ত্রী ফুলমতি বলেন, ‘আমার আর কেউ থাকল না। আমি বারবার তার সাথে আমাদেরও মহালয়ায় নিয়ে যেতে বলেছিলাম। কিন্তু সে আমাদের কাউকে নিয়ে গেল না। একা একাই ওপারে চলে গেল। এখন এই ছেলে, দেড় বছরের মেয়ে এবং বৃদ্ধ শাশুড়ির মুখে কে খাবার তুলে দেবে? আমি এখন কোথায় যাব?’

জগদীশের মা ননিবালা বলেন, ‘হামাক দেখার কাহো রহিলনি বাপু। হামাক অকূল সাগরত ভাসায়ে গেইল বাপধন মোর। মুই বুড়ি মানসি, মোর কাথা বাদ দিনু, বৌ আর ছোয়া দুইখানক কায় দেখিবে? মুই এলা কিছু দিশা পাছু নাই। মোর কলিজার ধন চলে গেইল বাপু!’ 

ঘটনার তৃতীয় দিনেও উদ্ধার হচ্ছে একের পর এক মরদেহ। স্বজনদের মরদেহ খুঁজে পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছে পরিবারের সদস্যরা। পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

একই গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মঙ্গলু বর্মন নৌকাডুবিতে হারিয়েছেন তাঁর ছেলে হরিকিশোর চন্দ্র বর্মন, ছেলের বউ কনিকা রানী এবং একমাত্র মেয়ে পারুল রানীকে। পুরো গ্রামে এখন শোকের আবহ। উড়ে গেছে পূজার আনন্দ। হরিকিশোরের বাবা মঙ্গলু চন্দ্র বলেন, ‘আমার পরিবারের মেরুদণ্ড ভেঙে গেছে। তিন দিন ধরে কাঁদতে কাঁদতে এখন পাথর হয়ে গেছি। ’

মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু আনসার মো. রেজাউল করিম শামীম বলেন, ‘এত বড় দুর্ঘটনা এই এলাকার মানুষ আগে কখনো দেখেনি। আমরা গভীরভাবে শোকাহত। ’

 



সাতদিনের সেরা