kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সেতুর অপেক্ষায় থেকে থেকে প্রাণ বিসর্জন

লুৎফর রহমান, পঞ্চগড়   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সেতুর অপেক্ষায় থেকে থেকে প্রাণ বিসর্জন

একটি সেতুর জন্য বিভিন্ন সময় মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে ধরনা দিয়েছে। মন্ত্রীরা আশ্বাস দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার আউলিয়ার ঘাটে সেতু নির্মাণের প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) সভায় পাস হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু কাজ শুরুর আগেই নৌকাডুবিতে প্রায় ৫০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘোড়ামারা ও করতোয়া নদীর মিলনস্থলে এই ঘাট অবস্থিত। প্রতিদিন এই ঘাট দিয়ে কয়েক হাজার মানুষ নৌকায় করে পার হয়। সরকারিভাবে এর বার্ষিক ডাক হয়। এবার ঘাটটি জেলা পরিষদের নিলাম বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ইজারা নেন আব্দুর রাজ্জাক নামের এক ব্যক্তি। রাজ্জাক ইজারা নিলেও সব কাজ করেন বড়শশী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য তারা মিয়া। এই ঘাটের পূর্ব পারে বড়শশী, চিলাহাটি, টেপ্রিগঞ্জ এবং পশ্চিম পারে মাড়েয়া, শালডাঙ্গা, সাকোয়া, চন্দনবাড়ী, পাঁচপীর ও বোদা ইউনিয়ন। এ ছাড়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পূজনীয় স্থান বোদেশ্বরী পীঠ মন্দির। বিশেষ পূজা-পার্বণে এই মন্দিরে ৮-১০ হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। পশ্চিম পার থেকে আউলিয়ার ঘাট পার হয়ে যেতে হয় পূর্ব পারের মন্দিরে। যাওয়ার একমাত্র বাহন নৌকা। শুকনা মৌসুমে দড়ি টেনে নৌকা চললেও বর্ষায় তীব্র স্রোত তৈরি হয়। উজানে বৃষ্টি হলে করতোয়া হয়ে ওঠে আরো ভয়াবহ। ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয় নারী ও শিশুদের। তাই এ স্থানটিতে একটি সেতু নির্মাণের দাবি দুই পারের লাখো মানুষের। কিন্তু আশ্বাসে আশ্বাসে কেটে গেছে বহু বছর।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ঘেঁটে জানা যায়, ২০১৮ সালে ২৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একটি বিশেষজ্ঞদল আউলিয়ার ঘাট এলাকায় পানি এবং গতিপথের অবস্থান নির্ণয় ও সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করে। ২০২১ সালের ২৩ অক্টোবর এই ঘাট পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। পরিদর্শন শেষে তিনি মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঘাটে সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। ওই সভায় রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন উপস্থিত ছিলেন। গত ২২ মার্চ একনেকের সভায় প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ওয়াই আকৃতির সেতু নির্মাণ প্রকল্প পাস হয়েছে। পরদিন এই খবর শুনে ঘাটের দুই পারের মানুষ আনন্দ প্রকাশ করে। তারা রেলপথমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানায়।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘সরকার যায় সরকার আসে, আশ্বাসে আশ্বাসে আমাদের বছর পার হয়। একটি সেতু থাকলে আজ এতগুলো প্রাণহানি হতো না। মানুষকে নৌকায় ঠেলাঠেলি করে উঠতে হতো না। কয়েক দিন পরপরই নেতারা আসেন আর বলেন কিছুদিনের মধ্যেই কাজ হবে। এরপর কী হয়, তা আমরা আর জানতে পারি না। ’

আব্দুস সাত্তার নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, ‘এতগুলো প্রাণ গেল এর পরও যদি সরকারের বোধোদয় হয়। এবার আমরা আর আশ্বাস চাই না। চাই শিগগিরই যেন একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। ’

এ বিষয়ে পঞ্চগড়ের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামসু জামান বলেন, ‘ওয়াই আকৃতির ২২০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতুর প্রাক্কলন অনুমোদন হয়েছে। ’

পঞ্চগড়-২ (দেবীগঞ্জ-বোদা) আসনের সংসদ সদস্য ও রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘আউলিয়ার ঘাটে ওয়াই আকৃতির সেতু নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প একনেকে পাস হয়েছে। এখন নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে। নকশা হয়ে গেলে দরপত্রের মাধ্যমে কাজ শুরু করা যাবে। তখন এভাবে আর মানুষকে কষ্ট করে নৌকায় পারাপার হতে হবে না। ’

 



সাতদিনের সেরা