kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

জেলা পরিষদ নির্বাচন

১৯ জেলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



১৯ জেলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী

৬১ জেলা পরিষদ নির্বাচনে ২৭ জেলায় চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা নির্বাচিত হওয়ার পথে রয়েছেন। ভোট হতে যাওয়া ৩৪ জেলার মধ্যে ১৯টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। অন্য ১৫ জেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে একাধিক রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। চাঁদপুর জেলা পরিষদের আওয়ামী লীগের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় সেখানে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

বিজ্ঞাপন

গতকাল রবিবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে কয়েকটি জেলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। কিন্তু ১৯ জেলায় বিদ্রোহীরা নিজেদের প্রার্থিতার বিষয়ে অনড় থাকেন। এ জেলাগুলো হলো গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ, রাজশাহী, নরসিংদী, নড়াইল, ফরিদপুর,

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, বগুড়া, মাগুরা, সুনামগঞ্জ, নোয়াখালী, কক্সবাজার, রাজবাড়ী, দিনাজপুর, খুলনা, শেরপুর ও রংপুর। এ জেলাগুলোর কোনোটিতে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন।

ফরিদপুরে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গতকাল যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন শাহাদাৎ হোসেন। এর আগে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। সে পরিপ্রেক্ষিতে শাহাদাৎ হোসেন নির্বাচন থেকে সরে না দাঁড়িয়ে সংগঠন থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁকে সমর্থন দিচ্ছেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী, যিনি নিক্সন চৌধুরী নামে পরিচিত।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদ থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন নবীনগর উপজেলা জাতীয় পার্টির সদস্য আবু কালাম আজাদ। তবে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে রয়ে গেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি ও জেলা পরিষদের সর্বশেষ চেয়ারম্যান শফিকুল আলম।

প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. আবু কালাম আজাদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও নবীনগর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এবাদুল করিম বুলবুলের সম্মানার্থে আমি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছি। ’

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শফিকুল আলম বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য চেষ্টা করেছি। যেহেতু এখানে দলীয় প্রতীক নেই, সেহেতু আমি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নই। ’

নড়াইল জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সুবাস চন্দ্র বোস ছাড়াও দলের দুজন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। তাঁরা হলেন লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটু ও সদ্যোবিদায়ি জেলা পরিষদ প্রশাসক সুলতান মাহমুদ।  

কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত জিল্লুর রহমান ছাড়াও দলের দুজন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। তাঁরা হলেন জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আশিক জামান এলিন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হামিদুল আলম চৌধুরী নিউটন।

শেষ দিনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ সামসুল আবেদিন খোকন। তবে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে থেকে গেছেন জেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক আরেফিন আলম রঞ্জু।

সুনামগঞ্জে জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খায়রুল কবীর রোমেন। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আছেন জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নূরুল হুদা মুকুট।

গতকাল আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য ও মেহেরপুর-১ আসনের সাবেক এমপি জয়নাল আবেদিন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তবে আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি গোলাম রসুল নির্বাচনে থেকে গেছেন। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি (বহিষ্কৃত) ও সাবেক মেয়র আব্দুল আজিজ মোল্লা। গতকাল তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে তিনজন মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী খাজা সামছুল আলম ও জাসদের প্রার্থী আবুল খায়ের মো. সাখাওয়াত হোসেন।

(প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিরা)

 



সাতদিনের সেরা