kalerkantho

সোমবার । ২৮ নভেম্বর ২০২২ । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

৮ কোটি ভোটারের আঙুলের ছাপ নিতে চায় ইসি

বিশেষ প্রতিনিধি   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



৮ কোটি ভোটারের আঙুলের ছাপ নিতে চায় ইসি

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন দেশের প্রায় আট কোটি ভোটারের ১০ আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করতে চায়। চলমান হালনাগাদের কাজ শেষে আগামী বছরের ২ মার্চ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরপরই এই কাজ শুরু হবে।

গতকাল শনিবার নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ঢাকার আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ের ত্রৈমাসিক সভায় এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক এ কে এম হুমায়ুন কবীর এ তথ্য জানান।   তিনি বলেন, ‘আমরা যেহেতু আগামী ভোট (জাতীয় নির্বাচন) আরো সুন্দর করতে চাই, এ কারণে ফিঙ্গার প্রিন্ট আপডেট করব।

বিজ্ঞাপন

যাঁরা স্মার্টকার্ড নিয়েছেন, তাঁরা ১০ আঙুলের ছাপ দিয়েছেন। যাঁরা দেননি আমরা তাঁদের ১০ আঙুলের ছাপ নেওয়ার চেষ্টা করছি। চলমান হালনাগাদ শেষে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরপরই এই কার্যক্রমে যাব। ’

নির্বাচন কমিশনের এনআইডি উইংয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, দেশে বর্তমানে চার কোটি ভোটারকে স্মার্ট এনআইডি কার্ড দেওয়া হয়েছে এবং এদের ১০ আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করা আছে। নতুন ভোটারদেরও ১০ আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করা হচ্ছে। দেশে আগামী ২ মার্চ পর্যন্ত ভোটারসংখ্যা দাঁড়াতে পারে ১২ কোটির কাছাকাছি। সে হিসাবে প্রায় আট কোটি ভোটারের ১০ আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করা হতে পারে। তাদের চার আঙুলের ছাপ নেওয়া আছে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব অশোক কুমার দেবনাথ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সব ভোটারের ১০ আঙুলের ছাপ নেওয়ার একটা উদ্যোগ রয়েছে। সব ভোটারকে স্মার্ট কার্ড দেওয়ার সময় সবার ১০ আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করা হবে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আট কোটি ভোটারের স্মার্ট কার্ড দেওয়া কি সম্ভব হবে—এ প্রশ্নে অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, ১০টি মেশিনে স্মার্ট কার্ড প্রস্তুতের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের আগেই সবাইকে স্মার্ট কার্ড দেওয়া সম্ভব হবে।

এদিকে গতকালের সভায় হুমায়ুন কবীর নির্বাচন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘যারা নতুন ভোটার তাদের তথ্য সংগ্রহ এসএসসি, পিএসসি, জেএসসি এবং প্রয়োজনে জন্ম নিবন্ধন দেখে করতে হবে। একটি বিষয় সতর্ক থাকতে বলব, যারা বয়স্ক ব্যক্তি তাঁদের তথ্য যেন সচেতনভাবে যাচাই-বাছাই করে ভোটার করা হয়। ঢাকায় নানা ধরনের মানুষ বসবাস করে। আফ্রিকা থেকে ল্যাটিন আমেরিকার লোকজন বসবাস করে। কাজেই তারাও ভোটার হতে চাইতে পারে। পরিপূর্ণ তথ্য না দিলে ভোটার করবেন না। ’

হুমায়ুন কবীর বলেন, বিভিন্ন বাহিনীতে চাকরিজীবীরা রেশন তোলার জন্য একজন স্ত্রীর নাম দিয়ে থাকেন। তাঁদের যখন সত্যিকার বিয়ে হয়, তখন যার সঙ্গে বিয়ে হয় সেই নামের সঙ্গে ওই আগের নামের মিল থাকে না। পেনশনে জটিলতা সৃষ্টি হয়। তখন তাঁরা সংশোধনের জন্য আসেন। তিনি বলেন, ‘আবার জন্ম সনদ দুটি-তিনটি কার্যকর থাকে। আপনারা এসব ক্ষেত্রে খুব সতর্ক হবেন। যদি বয়স্ক কেউ ভোটার হন, দুটি জন্ম সনদ থাকে, তবে ধরে নেবেন ডাল ম্যা কুচ কালা হ্যায়। আর যদি একেবারে নতুন ভোটার হয় তাহলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সনদ তো রয়েছে, সেটা ফলো করতে হবে। ’

হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘ওয়ারিশন সনদটা ভালো করে দেখে নিবেন, যেন ছোট ভাই বড় না হয়ে যান। আমরা ভোটার করার ক্ষেত্রে প্রবাসীদের সব সময় অগ্রাধিকার দিচ্ছি। তাঁদের জন্য একটা পৃথক ডেস্ক খুলেছি। তার অর্থ এই নয় যে  দ্বিতীয় জেনারেশনের রোহিঙ্গারা সৌদি আরব থেকে এসে ভোটার হয়ে যাবে। ’

কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের চারপাশে দালাল শ্রেণি আছে। তারা প্রতিনিয়ত আপনাকে-আমাকে বিক্রি করেছ। এদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক করবেন না। পত্রিকায় এসেছে, দিনাজপুরে নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে কেউ কেঁদে বলছে, আমাকে জীবিত করে দেন। আমি মরি নাই। এদের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা আপনাদের সফটওয়্যার দিয়ে দিয়েছি, ঢাকার বাইরে নিজেদের অফিসে বসেই এ ধরনের ত্রুটি ঠিক করতে পারছেন। আমরা এবার ভোটার করতে ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত তথ্য-উপাত্ত নিচ্ছি। আগামী বছর বয়সের ক্ষেত্রে হয়তো আরো পেছনে যাব। এভাবে হয়তো ফাইভ পাস করলেই এনআইডি কার্ড দিতে পারব। ’

ঢাকার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় ঢাকার আঞ্চলিক পর্যায়ের এনআইডি সংশোধন, স্থানান্তর ইত্যাদি সম্পর্কে আবেদনের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, এ পর্যন্ত মোট আবেদন জমা পড়েছে ৩৯ হাজার ৩৫৩টি। নিষ্পত্তি হয়েছে ২০ হাজার ৯৪৫টি। আর অনিষ্পন্ন অবস্থায় রয়েছে ১৮ হাজার ৪০৮টি আবেদন। সবচেয়ে বেশি সাত হাজার ৬৪৮টি আবেদন অনিষ্পন্ন অবস্থায় রয়েছে ঢাকা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে।



সাতদিনের সেরা