kalerkantho

সোমবার । ২৮ নভেম্বর ২০২২ । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

বগুড়া আওয়ামী লীগ

অবাঞ্ছিত ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোলাকুলি

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি    

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অবাঞ্ছিত ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোলাকুলি

বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলু এবং শাজাহানপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সোহরাব হোসেন ছান্নুর মধ্যে বিরোধের অবসান ঘটেছে। এ নিয়ে গতকাল শনিবার এলাকায় পক্ষে-বিপক্ষে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

গতকাল দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এমপি বাবলু এবং উপজেলা চেয়ারম্যান ছান্নুর মধ্যে কোলাকুলি ও মিষ্টিমুখের মাধ্যমে সমঝোতার ছবি ভাইরাল হয়। বিষয়টি নিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাসে বিভিন্নজন বিভিন্ন মন্তব্য করে।

বিজ্ঞাপন

আব্দুর রহমান টুলু নামে বগুড়ার এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক তাঁর ফেসবুক টাইমলাইনে ছবিসহ স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘তিন দিন আগে যাকে পিস্তল দিয়ে গুলি করার চেষ্টা করল, আজ তার হাতেই মিষ্টি খেয়ে মীমাংসা বেশ ভালো। কিসের বিনিময়ে হলো, এটা জানালে বগুড়াবাসী ঠাণ্ডা মাথায় টানা আট ঘণ্টা ঘুমাতে পারত। ধন্যবাদ মাননীয় এমপি, ধন্যবাদ উপজেলা চেয়ারম্যান। ভালো থাকুন দুজনে। ’

গণেশ দাস নামের অন্য এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক তাঁর স্ট্যাটাসে  লেখেন, ‘যাঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলেন, পোস্টার বানিয়ে...বাঁশ দিয়ে আগুন দিলেন, যানবাহান চলাচল বন্ধ করে দিয়ে মহাসড়কে মিছিল করলেন, অনেক অশালীন মিথ্যা মন্তব্য ফেসবুকে লিখলেন, মিডিয়ার কাছে বক্তব্য দিলেন, পিস্তল তাক করে গুলি ছোড়ার চেষ্টা করেছে! আবার সেই এমপির হাতে মিষ্টি খাচ্ছেন? ব্যক্তিস্বার্থের জন্য লজ্জাশরম বিসর্জন দিয়ে সবার সঙ্গেই আপনারা হাত মেলাতে পারেন?’

এমডি আনোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তি তাঁর স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘অবাক হওয়ার কিছুই নেই, আমজনতা আর নেতাদের পার্থক্য এটাই। অনেক কিছুই লিখতে ইচ্ছা করে, কিন্তু সামলাতে পারব না, তাই লিখলাম না। ’

এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন ছান্নু বলেন, সামগ্রিক দিক বিচার-বিবেচনা করে সমঝোতায় আসা হয়েছে।

সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলু বলেন, ভুল-বোঝাবুঝির কারণে বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনা ঘটেছিল, যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিষয়টি বড় আকার ধারণ করতে যাচ্ছিল। কিন্তু দেশ ও জাতির উন্নয়নের স্বার্থে সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করার লক্ষ্যে ভুল-বোঝাবুঝির অবসান ঘটানো হয়েছে।

গত বুধবার সকালে শাজাহানপুর উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় যোগ দেওয়ার জন্য সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলু তাঁর পিএস ও তাঁর লোকজন নিয়ে উপজেলা পরিষদে আসেন। এ সময় উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বাদশা আলমগীর এমপির কাছে বরাদ্দের জন্য দেওয়া টাকা ফেরত চান। এ নিয়ে তাঁরা বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি বেধে যায়। হৈচৈ শুনে চলমান আইন-শৃঙ্খলা সভা থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান সোহরার হোসেন ছান্নু বের হয়ে বিষয়টি জানার চেষ্টা করেন এবং সবাইকে থামানোর চেষ্টা চালান। এক পর্যায়ে এমপি বাবলু তাঁর লাইসেন্স করা ব্যক্তিগত পিস্তল বের করে উপজেলা চেয়ারম্যানের দিকে তাক করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও পরিষদের লোকজন এগিয়ে এসে পরিবেশ শান্ত করেন।

ঘটনার পর তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল বের করে উপজেলা আওয়ামী লীগ।



সাতদিনের সেরা