kalerkantho

সোমবার । ২৮ নভেম্বর ২০২২ । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

নিউ ইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ কখনো কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেনি

বাসস, নিউ ইয়র্ক   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আওয়ামী লীগ কখনো কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেনি

শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ কখনো কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেনি, বরং আওয়ামী লীগ সব সময় জনগণের ভোটেই ক্ষমতায় আসে। আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে নির্বাচনপ্রক্রিয়া স্বচ্ছ হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদান শেষে নিউ ইয়র্কে গতকাল শনিবার জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চেয়েছিল তারা কারা? আওয়ামী লীগ সব সময় দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, জনগণ নির্বাচনে অবাধে তাদের ভোট দেবে এবং বিএনপিকে আশ্বস্ত করেন যে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি, তারা (বিএনপি) সত্যিই চিন্তিত যে একটি স্বচ্ছ নির্বাচন হবে। কারণ তারা ভোট কারচুপি এবং ভোটার তালিকায় এক কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার রাখার সুযোগ পাচ্ছে না। অন্যথায় উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। ’

প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, যারা জনগণের ভোট পেয়ে ক্ষমতায় আসেনি, নির্বাচন নিয়ে জনগণের প্রশ্নে এত গুরুত্ব দেওয়ার কী আছে তিনি জানেন না। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে জনগণ নির্বিঘ্নে ভোট দেবে, ২০০৯, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন এমন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ’ নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি, এটা তাদের দলের সিদ্ধান্ত। তিনি আরো বলেন, ‘তারা জানে যে সঠিক নির্বাচনপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের ক্ষমতায় আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। তারা হত্যা, অভ্যুত্থান ও ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতায় আসতে অভ্যস্ত। এটাই বাস্তবতা। ’

প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করেছে। তিনি বলেন, ‘যদি কেউ নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা হারায়, তাহলে কার কী করার আছে। ’

 আওয়ামী লীগ সরকার দেশের নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে সঠিক পথে এনেছে, যা সামরিক শাসন ও বিএনপি-জামায়াতের আমলে লাইনচ্যুত হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইভিএম একটি আধুনিক পদ্ধতি এবং বিশ্বের অনেক দেশেই এটি ব্যবহৃত হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি, যেখানে ইভিএম ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানে দ্রুত নির্বাচনের ফলাফল পাওয়া যায় এবং মানুষ স্বাধীনভাবে তাদের ভোট দিতে পারে। ’ তিনি বলেন, এই ইভিএমের বিরুদ্ধে কিছু লোক আছে এটা ঠিক।

দেশে প্রবাসীদের বিনিয়োগসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রবাসীরা যাতে দেশে বিনিয়োগ করতে পারেন, সে জন্য বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রবাসীদের মধ্যে যাদের এনআইডি নেই তারা পাসপোর্ট দিয়ে ব্যাংক হিসাব খুলতে পারবেন। সেই ব্যবস্থা এরই মধ্যে করা হয়েছে।

জাতিসংঘের অধিবেশন থেকে কী নিয়ে ফিরছেন—এ প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বন্ধুত্ব, আমি বাংলাদেশের জন্য বন্ধুত্ব নিয়ে দেশে ফিরছি এবং বাংলাদেশ যে উন্নয়নের বিস্ময় সে কথাটাই সবাই বলার চেষ্টা করেছে। ’ তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমরা শান্তি চাই, আমি যুদ্ধ চাই না, সংঘর্ষ চাই না। আমি মনে করি, সবচেয়ে বড় কথা আমি এই বার্তাটি সবার কাছে পৌঁছে দিতে পেরেছি এবং সবাই বাংলাদেশ এবং আমাদের ভূমিকার প্রশংসা করেছে। ’

‘রোহিঙ্গাদের থেকে বিশ্বের মনোযোগ সরে গেছে’ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সহিংসতার শিকার হয়ে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বিশ্বসম্প্রদায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়েছিল। কিন্তু কভিড-১৯ মহামারি ও বর্তমানে চলা ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে তাদের মনোযোগ সরে গেছে।

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যতক্ষণ তারা আমাদের দেশে আছে, আমরা মনে করি, এটি আমাদের দায়িত্ব। কিন্তু বাংলাদেশি আশ্রয়দাতাদের ধৈর্য ক্ষীণ হয়ে আসছে। ’

এএফপিও স্মরণ করেছে, জাতিসংঘের তৎকালীন মানবাধিকার প্রধান মিশেল বাশেলেত গত আগস্টে এক সফরে মন্তব্য করেছিলেন যে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাবিরোধী মনোভাব বাড়ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্থানীয় জনগণকে যথেষ্ট ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। আমি বলব না যে তারা ক্ষুব্ধ, তবে তারা অস্বস্তি বোধ করছে। সব বোঝাই আমাদের ওপর এসে পড়ছে। এটাই সমস্যা। ’

 মিশেল বাশেলেত বাংলাদেশ সফরে বলেছিলেন, বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ, সেনাশাসিত মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর কোনো সম্ভাবনা নেই, যেখানে রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আভাস দেন, নির্দিষ্ট শিবিরে বসবাসের বাইরে রোহিঙ্গাদের অল্প কিছু বিকল্প আছে। তিনি বলেন, ‘তাদের খোলা জায়গা দেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়, কারণ তা তাদের নিজের দেশেই রয়েছে। তারা সেখানে ফিরে যেতে চায়। আর এটাই সবার মূল অগ্রাধিকার। ’ প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, কেউ যদি রোহিঙ্গাদের নিতে চায়, নিতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু ইস্যুতে ধনী দেশগুলোর অর্থবহ পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থতাকে ‘দুঃখজনক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, এ ক্ষেত্রে কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ী দেশগুলো জোরালো বক্তব্য দিলেও পরিস্থিতির গুরুত্বের সঙ্গে তাদের কার্যক্রম সংগতিপূর্ণ নয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা কাজ করে না। তারা শুধু কথা বলে, কিন্তু কাজ করে না। অথচ তারাই এই বিপর্যয়ের জন্য দায়ী। ’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘এটা ধনী ও উন্নত দেশগুলোর দায়িত্ব। তাদেরই এই ইস্যুতে এগিয়ে আসা উচিত। কিন্তু আমরা তাদের দিক থেকে সেই ধরনের কোনো সাড়া পাচ্ছি না। এটাই দুঃখজনক। ’ তিনি বলেন, ‘আমি জানি, ধনী দেশগুলো আরো ধনী হতে চায়। তারা অন্যদের নিয়ে উদ্বিগ্ন নয়। ’

 



সাতদিনের সেরা