kalerkantho

সোমবার । ২৮ নভেম্বর ২০২২ । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

জান্তার বিরুদ্ধে মামলার আবেদন ইন্দোনেশিয়ায়

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জান্তার বিরুদ্ধে মামলার আবেদন ইন্দোনেশিয়ায়

মিয়ানমারের জান্তার বিরুদ্ধে ইন্দোনেশিয়ার সাংবিধানিক আদালতে মামলার আবেদন করেছেন দেশটির শীর্ষ কয়েকজন আইনজীবী। ওই আবেদনে জান্তার বিরুদ্ধে মিয়ানমারের মুসলমান জনগোষ্ঠীর লোকজনকে হত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিকে মিয়ানমারে চলমান রাজনৈতিক সংকটে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ভূমিকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ইসমাইল সাবরি বিন ইয়াকুব।

ইন্দোনেশিয়ার শীর্ষ আইনজীবী ও মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘের সাবেক তথ্য অনুসন্ধান মিশনের (ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন) সদস্য মারজুকি দারুসমান গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, এ মাসের শুরুর দিকে তিনিসহ কয়েকজন আইনজীবী মামলার জন্য আবেদন করেছেন।

বিজ্ঞাপন

তাঁরা মনে করেন, ইন্দোনেশিয়ায় এই মামলা চলার সুযোগ আছে। কারণ ইন্দোনেশিয়ার সংবিধানে মানবাধিকারের সর্বজনীন সুরক্ষার সুযোগ রয়েছে।

মারজুকি দারুসমান বলেন, ইন্দোনেশিয়ার মানবাধিকারবিষয়ক আদালত সম্পর্কিত আইনে সামান্য পরিবর্তন আনা হলেই এখানে মিয়ানমারের জান্তার বিচার সম্ভব।

আইনজীবীরা ইন্দোনেশিয়ার আদালতে মামলার আবেদনটি জরুরি ভিত্তিতে নিষ্পত্তির অনুরোধ করেছেন। এর কারণ হিসেবে গত জুলাই মাসে বিশ্বজনমত উপেক্ষা করে সামরিক জান্তার চার রাজবন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা আশঙ্কা করছেন, জান্তা আরো অনেক রাজবন্দিকে মৃত্যুদণ্ড দিতে পারে।

এদিকে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী রোহিঙ্গাদের সংগঠন বার্মিজ রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন, ইউকের (ব্রুক) সভাপতি তুন খিন কালের কণ্ঠকে বলেছেন, রোহিঙ্গা নিপীড়নের তথ্য চেয়ে তাঁরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে গত সপ্তাহে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। আর্জেন্টিনার ফেডারেল আদালতে মিয়ানমারের জেনারেলদের বিরুদ্ধে চলমান মামলার অংশ হিসেবে তাঁরা ওই নোটিশ পাঠান।

তুন খিন বলেন, ‘ফেসবুক রোহিঙ্গাদের জীবনের চেয়ে নিজের ব্র্যান্ড ভ্যালু ও মুনাফাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও বিদ্বেষ ছড়াতে ফেসবুক ব্যবহার করা হয়েছিল। ওই বিদ্বেষের পটভূমিতে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে মিয়ানমার বাহিনী রাখাইন রাজ্যে কয়েক হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করে। ’

তুন খিন বলেন, এর আগেও তাঁরা ফেসবুককে তথ্য দেওয়ার জন্য নোটিশ পাঠিয়েছেন। রোহিঙ্গা নিপীড়নের ক্ষেত্রে ফেসবুক কিভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, তা জানার জন্য তথ্য-উপাত্ত জরুরি।

এদিকে রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের জনগণের ওপর সংঘটিত অপরাধের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণবিষয়ক স্বাধীন তদন্ত কাঠামোর (আইআইএমএম) প্রধান নিকোলাস কৌমজিয়ান গত ১২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদকে বলেছেন, মিয়ানমারে নিপীড়নের বিষয়ে ফেসবুক আইআইএমএমকে তথ্য দিয়েছে।

বর্তমানে আর্জেন্টিনার ফেডারেল আদালতে মিয়ানমারের জেনারেলদের বিরুদ্ধে প্রবাসী রোহিঙ্গাদের করা একটি মামলা চলছে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর হতাশা

এদিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে মিয়ানমার ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদের ভূমিকাকে ‘খুবই হতাশাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ইসমাইল সাবরি বিন ইয়াকুব। আলজাজিরার খবরে বলা হয়, ভাষণে ইসমাইল সাবরি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে ‘কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়নি’।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, কেউ কেউ মনে করছে, নিরাপত্তা পরিষদ (মিয়ানমার ইস্যুতে) হাত গুটিয়ে বসে আছে এবং বিষয়টি আসিয়ানের (দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট) ওপর ছেড়ে দিয়েছে।

গত বছর অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী।

ইসমাইল সাবরি সাধারণ পরিষদে বলেন, অবিলম্বে সহিংসতার অবসান, নতুন বিশেষ দূত নিয়োগ, সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনাসহ আসিয়ান যে পাঁচ বিষয়ে ঐকমত্যে  পৌঁছেছে, তার বাস্তবায়নে অর্থবহ অগ্রগতি না হওয়ায় মালয়েশিয়া হতাশ।

ক্ষমতাচ্যুত রাজনীতিবিদদের নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করতেও আসিয়ানের প্রতি আহবান জানিয়েছে দেশটি। ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুরও মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিতে জোর দিয়ে আসছে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সংকট মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত লাখ লাখ শরণার্থীর অবস্থা আরো খারাপ করেছে। ১৯৫১ সালের কনভেনশন অন দ্য স্ট্যাটাস অব রিফিউজি এবং ১৯৬৭ সালের প্রটোকলে স্বাক্ষরকারী দেশ না হয়েও মানবিক দিক বিবেচনায় মালয়েশিয়া দুই লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে।



সাতদিনের সেরা