kalerkantho

রবিবার । ২ অক্টোবর ২০২২ । ১৭ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

অক্টোবরে এনআইডি যাচাই সেবার ফি বাড়ছে

বছরে হাজার কোটি টাকা আয় হবে

বিশেষ প্রতিনিধি   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বছরে হাজার কোটি টাকা আয় হবে

এনআইডি বা জাতীয় পরিচয় যাচাই সেবায় চুক্তিবদ্ধ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাজে বছরে আয় হবে হাজার কোটি টাকার ওপরে। এনআইডির মাধ্যমে ইকেওয়াইসি বা ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে গ্রাহক শনাক্ত করার সেবা নিতে বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি ১৬৪টি প্রতিষ্ঠান চুক্তিবদ্ধ। এ সেবার জন্য আগে প্রতিবার একটি এনআইডি যাচাইয়ের জন্য ফি নির্ধারিত ছিল সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এক টাকা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে দুই টাকা। এই ফি থেকে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে সরকারের আয় হতো বছরের ২২৭ কোটি টাকার কাছাকাছি।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি ইকেওয়াইসি সেবার ফি সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে দুই টাকা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পাঁচ টাকা নির্ধারণ করেছে এবং তা অর্থ মন্ত্রণালয় অনুমোদন করেছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে বলা হচ্ছে, আগামী মাস থেকেই ইকেওয়াইসি সেবার বর্ধিত ফি কার্যকর হবে এবং এ সেবা থেকে আয় হবে বছরে হাজার কোটি টাকার ওপরে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ গতকাল বৃহস্পতিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, বর্ধিত ফির বিষয়টি সম্প্রতি অনুমোদিত হয়েছে। ’ তিনি জানান, দেশের নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র আরো উন্নত  করার চিন্তাভাবনা চলছে। দেশে এ পর্যন্ত চার কোটি স্মার্ট কার্ড ছাপানো বা পারসোনালাইজড হয়েছে। বিদেশ থেকে এসেছে ১৩ লাখ ব্ল্যাংক কার্ড। পাইপলাইনে আরো আছে।

যুক্ত হতে যাচ্ছে মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ ব্যবস্থা ও ডিএনএ তথ্য

এদিকে নাগরিকদের পরিচয় যাচাইয়ের বিষয়টি আরো সঠিক ও সহজ করতে জাতীয় পরিচয়পত্রে ফেস রিকগনিশন (মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ) ব্যবস্থা ও ডিএনএ  (ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড) তথ্য যুক্ত করার জন্য সুপারিশ এসেছে বিভিন্ন সেবা গ্রহীতার কাছ থেকে। এ ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্রে স্থায়ী ঠিকানা দৃশ্যমান করা, ডাটাবেইসে মা-বাবার নাম ইংরেজিতে লিপিবদ্ধ, স্মার্ট কার্ডে চিপের ব্যবহার, সার্ভারের গতি বাড়ানো, ইকেওয়াইসি সেবার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সর্বনিম্ন তিন বছরের চুক্তি ও প্রতি তিন বছর পর পর চুক্তির মেয়াদ নবায়নেরও প্রস্তুাব করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন কমিশনের আইডিইএ প্রকল্প দ্বিতীয় পর্যায়ের আয়োজনে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে এসব প্রস্তাব দেওয়া হয়।  

সেমিনারে মাঝেমধ্যেই সার্ভার ডাউন হওয়ার কারণে এনআইডি যাচাই করতে অসুবিধা, পার্টনাদের থেকে সাব ইউজার তৈরির ফলে এনআইডি যাচাই উন্মুক্ত হয়ে যাওয়াসহ বেশ কিছু সমস্যার কথাও উঠে আসে। এ ছাড়া ইকেওয়াইসি সেবা গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান যাতে এনআইডি সেবা দিতে তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ না হতে পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়।

নির্বাচন কমিশন ও পার্টনারদের বিলিং সিস্টেম ম্যানুয়ালের পরিবর্তে অটোমেটেড করার পরামর্শ দেন বক্তারা। পার্টনারদের ফোকাল পার্সন পরিবর্তন হলে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগকে দ্রুত অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

‘জাতীয় পরিচিতি যাচাই সেবা, সেবার প্রকৃতি, সমস্যা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এই সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নির্বাচন কমিশনার বেগম রাশেদা সুলতানা, মো. আলমগীর ও মো. আনিছুর রহমান। কমিশন সচিবালয়ের সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকারের সভাপতিত্বে সেমিনারে  স্বাগত বক্তব্য দেন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ। সেমিনারের লক্ষ্য উদ্দেশ্য ও আউটপুট বিষয়ে বর্ণনা করেন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ কে এম হুমায়ূন কবীর। পাশাপাশি ‘জাতীয় পরিচিতি সেবা যাচাই, সেবার প্রকৃতি, সমস্যা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইডিইএ প্রকল্প দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল কাশেম মো. ফজলুল কাদের। জাতীয় পরিচিতি যাচাই সেবার চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবায়নের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আলোচনা করেন নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মো. আব্দুল বাতেন।

 



সাতদিনের সেরা