kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ইভিএমে ভোট

সিটি করপোরেশন ও জেলা সদরে ১৫০ আসন নেই

কাজী হাফিজ   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সিটি করপোরেশন ও জেলা সদরে ১৫০ আসন নেই

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিটি করপোরেশন ও জেলা সদরের আসনগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে অনূর্ধ্ব ১৫০টি আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট নিতে চায় নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের কর্মপরিকল্পনায় এই পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়েছে।

১৫০ আসনে ইভিএমে ভোট করতে আরো দুই লাখ ইভিএম কেনার প্রস্তাবও চূড়ান্ত করেছে কমিশন।

তবে এই আসনসংখ্যা বড়জোর ৯৬টি হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

৬৪টি জেলার মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি আসনের দুর্গম এলাকার ভোটকেন্দ্রে ইভিএমে ভোটগ্রহণ সম্ভব নয়। ওই সব ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী মালামাল এবং নির্বাচন কর্মকর্তাদের  পাঠাতে হয় হেলিকপ্টারে। আবার জাতীয় সংসদের আসন এলাকাগুলোর বিদ্যমান সীমানা অনুসারে অনেক জেলা সদরের আসন এলাকার সঙ্গে সদর উপজেলাসহ অন্য উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম, চরাঞ্চলও যুক্ত। সে কারণে সিটি করপোরেশন ও জেলা সদরের ৯৬টি আসনে ইভিএমে ভোট নিতে হলে শুধু শহরে নয়, নির্বাচন কমিশনকে মেশিন নিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামেও পৌঁছতে হবে। এ ধারণা নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। এ ছাড়া ১৫০ আসনেই ইভিএম ব্যবহৃত হলে বাকি অর্ধশতাধিক আসন কিভাবে নির্ধারণ করা হবে সেই পরিকল্পনা এখনো স্পষ্ট করেনি কমিশন।

তারা জানায়, ২০১৮ সালে প্রশাসনিক সুবিধা এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা বিবেচনায় রেখে সংসদীয় আসনগুলোর যে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছিল,  সেই সীমানার বড় ধরনের পরিবর্তন এবার সম্ভব নয়। সে কারণে  শহর  এলাকার আসন বাড়বে আর গ্রাম এলাকার কমবে—এমন সম্ভাবনাও কম।

এ ছাড়া নির্বাচন কমিশন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চ্যালেঞ্জগুলো উত্তরণে প্রতিটি ভোট কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। এ নির্বাচনে প্রায় ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্রে  আড়াই লাখের কাছাকাছি ভোটকক্ষ। এসব ভোট কক্ষে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রয়োজন হবে। এটি সম্ভব কি না এই প্রশ্নও রয়েছে।

শহরের আসনগুলোর আগের হিসাব : একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের জন্য তৎকালীন কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন শহর এলাকার হিসাবে ৪৮টি আসন চিহ্নিত করে।   আসনগুলো ছিল—ঠাকুরগাঁও-১, দিনাজপুর-৩, নীলফামারী-২, লালমনিরহাট-৩, রংপুর-৩, গাইবান্ধা-২, বগুড়া-৬, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩, নওগাঁ-৫, রাজশাহী-২, পাবনা-৫, কুষ্টিয়া-৩, খুলনা-২ ও ৩, সাতক্ষীরা-২, ভোলা-১, বরিশাল-৫, টাঙ্গাইল-৫, জামালপুর-৫, শেরপুর-১, ময়মনসিংহ-৪, ঢাকা-৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৫, ১৬, ১৭ ও  ১৮, গাজীপুর-২, নরসিংদী-১ ও ২, নারায়ণগঞ্জ ৪ ও ৫, ফরিদপুর-৩, মাদারীপুর-১, সিলেট-১, কুমিল্লা-৬, ফেনী-২ ও  চট্টগ্রাম ৯, ১০ ও ১১।

এর মধ্যে ২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর  দৈবচয়ন  বা লটারিতে ছয়টি আসন বেছে নেওয়া হয়।   আসন ছয়টি ছিল—ঢাকা-৬ ও ১৩, চট্টগ্রাম-৯, রংপুর-৩, খুলনা-২ এবং সাতক্ষীরা-২।

এ বিষয়ে সাবেক নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম গতকাল বুধবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা  যে ৪৮টি আসন  প্রকৃতই শহর এলাকার, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের অবস্থা ভালো—সেই আসনগুলোকে চিহ্নিত করে প্রকাশ্যে লটারির মাধ্যমে ছয়টি আসন ইভিএম ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলাম। ’

৯৬ আসনের হিসাব : বিদ্যমান সীমানায় দেশের ৩০০টি আসনের মধ্যে সিটি করপোরেশন ও জেলা সদরসংলগ্ন যে ৯৬টি আসন রয়েছে  সেগুলো হলো রংপুর বিভাগ—পঞ্চগড়-১, ঠাকুরগাঁও-১, দিনাজপুর-৩, নীলফামারী-২, লালমনিরহাট-৩, রংপুর-১ ও ৩, কুড়িগ্রাম-২ ও গাইবান্ধা-২; রাজশাহী বিভাগ—জয়পুরহাট-১, বগুড়া-৬, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩, নওগাঁ-৫, রাজশাহী-২, নাটের-২, সিরাজগঞ্জ-১ ও ২ ও পাবনা-৫;  খুলনা বিভাগ—মেহেরপুর-১, কুষ্টিয়া-৩, চুয়াডাঙ্গা-১ ও ২, ঝিনাইদহ-২ ও ৪, যশোর-৩ ও ৪, মাগুরা-১ ও ২, নড়াইল-১ ও ২, বাগেরহাট-১, খুলনা-২ ও ৩ এবং সাতক্ষীরা-২; বরিশাল বিভাগ—বরগুনা-১, পটুয়াখালী-১, ভোলা-১, বরিশাল-৫, ঝালকাঠি-২ ও পিরোজপুর-১; ময়মনসিংহ বিভাগ—জামালপুর-৫, শেরপুর-১ ময়মনসিংহ-৪ ও নেত্রকোনা-২; ঢাকা বিভাগ—টাঙ্গাইল-৫, কিশোরগঞ্জ-১, মানিকগঞ্জ-৩, মুন্সীগঞ্জ-৩, ঢাকা-২, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮, গাজীপুর-১, ২, ৩ ও ৫, নরসিংদী-১ ও ২, নারায়ণগঞ্জ-২, ৪ ও ৫, রাজবাড়ী-১, ফরিদপুর-৩, গোপালগঞ্জ-২, মাদারীপুর-৩ এবং শরীয়তপুর-১; সিলেট বিভাগ—সুনামগঞ্জ-৪, সিলেট-১, মৌলভীবাজার-৩ ও হবিগঞ্জ-৩; চট্টগ্রাম বিভাগ—ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩, কুমিল্লা-৬, চাঁদপুর-৩, ফেনী-২, নোয়াখালী-৪, লক্ষ্মীপুর-২ ও ৩, চট্টগ্রাম-৪, ৫, ৯, ১০ ও ১১ এবং কক্সবাজার-৩।

নির্বাচন কমিশন যা বলছে : শুধু সিটি করপোরেশন এবং জেলা সদরে ইভিএমে ভোট করতে ১৫০ আসন নির্ধারণ করা সম্ভব হবে কি না—এমন প্রশ্নে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আহসান হাবিব খান গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা সিটি করপোরেশন ও জেলা সদরের আসনগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে অনূর্ধ্ব  ১৫০টি আসনে ইভিএমে ভোট করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আরো আলোচনা হবে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা হবে। ’

জেলা সদরের অনেক আসনে সদর উপজেলার সঙ্গে অন্য উপজেলা এবং গ্রামাঞ্চল যুক্ত থাকার বিষয়ে তিনি আরো বলেন, ‘আমবাগানের সঙ্গে কিছু কলাবাগানও থাকতে পারে। সেই অবস্থায় এলাকাটিকে আমরা আমবাগান হিসেবেই ধরব। ’  

প্রতিটি ভোটকক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা রয়েছে, সেসব এলাকায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়তো সম্ভব হবে না। ’

 



সাতদিনের সেরা